তামিম-সাকিবের ব্যাটে সিরিজে ফিরলো বাংলাদেশ


, | Published: 04:14 PM, August 05, 2018

IMG

ওপেনার তামিম ইকবাল-অধিনায়ক সাকিব আল হাসানের দুর্দান্ত ব্যাটিংয়ে টি-টোযেন্টি সিরিজের ম্যাচে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ১২ রানে হারিয়ে সিরিজে সমতা এনেছে বাংলাদেশ। প্রথম ম্যাচ ও. ইন্ডিজ জেতায় সিরিজে ১-১ সমতা বিরাজ করছে। সোমবার একই ভেন্যুতে সিরিজ নির্ধারনী তৃতীয় ম্যাচে নামবে টাইগাররা।

যুক্তরাষ্ট্রের লডারহিলের মাঠে প্রথমবারের মত খেলতে নেমে টসে হেরে ব্যাটিংয়ে নামে বাংলাদেশ। কিন্তু ব্যাটিং-এর শুরুটা ভালো হয়নি বাংলাদেশের। নার্সের বোলে দলীয় ৭ রানে ওপেনার লিটন দাস ও ২৪ রানে মুশফিকুর রহিম আউট হন। ৫ বলে ১ রান করে ফিরেন লিটন। ব্যাটিং-এ প্রমোশন পেয়েও বড় ইনিংস খেলার সুযোগ হাতছাড়া করেন মুশফিকুর। ৪ বলে ৪ রান করেন তিনি।

ফর্মহীনতায় ভুগতে থাকা সৌম্য ভাল খেলার আশা জাগিয়েও ব্যর্থ। ১৮ বলে ১৪ রানে আউট হলে বিপদে পড়ে বাংলাদেশ।

এরপর সাকিবকে নিয়ে দরুন এক জুটি গড়েত তামিম। দুজনে মিলে ১৩ দশমিক ১ ওভারেই দলের স্কোর শতরানের কোটা স্পর্শ করান তামিম-সাকিব। দলের স্কোর তিন অংকে পৌঁছে দেবার পরই টি-২০ ক্যারিয়ারের ষষ্ঠ ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে দ্বিতীয় হাফ-সেঞ্চুরির স্বাদ নেন তিনি।

৩৫তম বলে হাফ-সেঞ্চুরি পাবার পর বিধ্বংসী রূপ ধারণ করেন তামিম। ১৬তম ওভারে ওয়েস্ট ইন্ডিজের মিডিয়াম পেসার আন্দ্রে রাসেলের প্রথম পাঁচ বল থেকে ৩টি ছক্কা ও ১টি চার আদায় করেন তামিম। তবে ঐ ওভারের শেষ বলে বিদায় নিতে হয় ৪৭ রানে জীবন পাওয়া তামিমকে। ৬টি চার ও ৪টি ছক্কায় ৪৪ বলে ৭৪ রান করেন তামিম। সাকিবের সাথে জুটিতে ৫০ বলে ৯০ রান যোগ করেন তামিম।

দলীয় ১৩৮ রানে তামিম ফিরে যাবার পর বাংলাদেশের হাল ধরেন সাকিব। সাথে সঙ্গী হিসেবে পান মাহমুদুল্লাহ রিয়াদকে। দু’জনে মিলে দলকে বড় সংগ্রহ এনে দেন। শেষ ওভারের তৃতীয় বলে আউট হবার আগে ৩৮ বলে ৯টি চার ও ১টি ছক্কায় ৬০ রান করেন সাকিব। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে প্রথম ও ২০১৬ সালের মার্চের পর টি-২০তে হাফ-সেঞ্চুরির দেখা পেলেন সাকিব।
এছাড়া মাহমুদুল্লাহ রিয়াদের ১০ বলে অপরাজিত ১৩ রানে ২০ ওভারে ৫ উইকেটে ১৭১ রানের সংগ্রহ পায় বাংলাদেশ। ক্যারিবীয়দের পক্ষে নার্স ও পল ২টি করে উইকেট নেন।

জয়ের জন্য ১৭২ রানের বড় টার্গেটে শুরুটা ভালো হয়নি ওয়েস্ট ইন্ডিজের। ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারের দ্বিতীয় বলে ওয়েস্ট ইন্ডিজের মারকুটে ওপেনার এভিন লুইসকে ফিরিয়ে দেন বাংলাদেশের কাটার মাস্টার মুস্তাফিজুর রহমান।

আন্দ্রে ফ্লেচারের সাথে দ্বিতীয় উইকেটে জুটি বাঁধেন পিঞ্চ হিটার আন্দ্রে রাসেল। দু’জনে মারমুখী মেজাজে ব্যাটিং শুরু করেন। তবে তাদের পথে বাঁধা হয়ে দাড়ান মুস্তাফিজুর। ২টি ছক্কা ও ১টি চারে ১০ বলে ১৭ রান করা রাসেলকে ফিরিয়ে দেন ফিজ।
৩৩ রানে ২ উইকেট হারানো ওয়েস্ট ইন্ডিজের চাপ কিছুক্ষণ পর আরও বাড়িয়ে দেন বাংলাদেশের পেসার রুবেল হোসেন ও অধিনায়ক সাকিব। মিডল-অর্ডারের দুই ব্যাটসম্যান মারলন স্যামুয়েলস ও উইকেটরক্ষক দিনেশ রামদিনকে বিদায় দেন রুবেল-সাকিব। ১টি করে চার-ছক্কায় ৩ বলে ১০ রান করে সাকিবের শিকার হন স্যামুয়েলস। ১১ বলে ৫ রান করা রামদিনকে থামান রুবেল। ফলে ৫৮ রানে ৪ উইকেট হারায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ।

এরপর জুটি গড়েন ফ্লেচার ও রোভম্যান পাওয়েল। বাংলাদেশের বোলারদের বিপক্ষে প্রতিরোধ গড়ে তুলেন তারা। ফলে ১৪ ওভারে ১১০ রান পেয়ে যায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ। এসময় ৩৬ বলে ৬২ রান দরকার পড়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজের।

তবে ১৫তম ওভারের দ্বিতীয় বলে ফ্লেচার-পাওয়েলের জুটিতে ভাঙ্গন ধরান বাঁ-হাতি স্পিনার নাজমুল ইসলাম। আগের ২ ওভারে ১৫ রান দেয়া নাজমুল বিদায় দেন ফ্লেচারকে। ৩টি চার ও ২টি ছক্কায় ৩৮ বলে ৪৩ রান করেন ফ্লেচার।

দলীয় ১১৬ রানে ফ্লেচার যখন ফিরে যান তখন ম্যাচ জয়ের জন্য ওয়েস্ট ইন্ডিজের দরকার ছিলো ৩৪ বলে ৫৬ রান। কিন্তু বাংলাদেশের বোলারদের নৈপুণ্যে শেষদিকে ওয়েস্ট ইন্ডিজের ব্যাটসম্যানরা প্রয়োজনীয় রান তুলতে পারেননি। ফলে ২০ ওভারে ৯ উইকেটে ১৫৯ রান করে ক্যারিবীয়রা।

মুস্তাফিজুর ও নাজমুল ৩টি করে এবং সাকিব ২টি ও রুবেল ১টি উইকেট নেন। ম্যাচ সেরা হয়েছেন বাংলাদেশের তামিম।