এবারের লক্ষ সোয়া কোটি চামড়া


অর্থনৈতিক প্রতিবেদক,অর্থনীতি ডেস্ক | Published: 10:57 PM, August 15, 2018

IMG

আসন্ন কোরবানীর ঈদে ১ কোটি ১৫ লাখ গরু, মহিষ, ছাগল ও ভেড়ার কাঁচা চামড়া সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছেন ব্যবসায়ীরা। এর মধ্যে গরু ও মহিষের ৭৫ থেকে ৮০ লাখ এবং অবশিষ্ট ছাগল ও ভেড়ার চামড়া সংগ্রহ করা হবে। চামড়া ব্যবসায়ীদের বিভিন্ন সংগঠনের নেতারা প্রত্যাশা করছেন, এবার লক্ষ্যমাত্রার শতভাগ চামড়া দেশীয় পশু থেকে পাওয়া যাবে এবং চামড়ার গুণগত মান হবে দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে সেরা।

এ ব্যাপারে কাঁচা চামড়া ব্যবসায়ীদের সংগঠন বাংলাদেশ হাইড অ্যান্ড স্কিন মার্চেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি হাজী মো. দেলোয়ার হোসেন বলেন, আমরা ধারণা করছি, নির্বাচনী বছর হওয়ায় গত কয়েক বছরের তুলনায় এবার কোরবানির পরিমাণ বাড়বে। সারাদেশে আনুমানিক ১ কোটি ১৫ লাখ পশু কোরবানি হবে। এর মধ্যে গরু ও মহিষের ৮০ লাখ পিস এবং অবশিষ্ট ৩০ থেকে ৩৫ লাখ পিস ছাগল ও ভেড়ার চামড়া আমরা সংগ্রহ করব।

তিনি আরো বলেন, পশু সম্পদ মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে দেশে কোরবানি দেওয়ার জন্য ১ কোটি ১৬ লাখ গরু, মহিষ, ছাগল ও ভেড়া প্রস্তুত রয়েছে। মোট পশু দরকার হবে প্রায় ১ কোটি ১৫ লাখ। ফলে বাইরে থেকে আমদানি করার প্রয়োজন হবে না। গত বছর ১ কোটি ৬ লাখ পশু কোরবানি হয়েছিল। বর্তমানে আমরা গরু উৎপাদনে স্বয়ংসম্পন্নতা অর্জন করেছি। যে কারণে গত কয়েক বছরে ভারত থেকে গরু আমদানির পরিমাণ অনেক কমে গেছে। আর বাংলাদেশি গরুর চামড়ার গুণগত মান ভারতীয় গরুর তুলনায় অনেক ভালো।

আগামী ২২ আগস্ট পবিত্র ঈদুল আজহা উদযাপন করা হবে। এরইমধ্যে ঢাকাসহ সারাদেশে কোরবানির হাটের ইজারা চূড়ান্ত করা হয়েছে। নির্ধারণ করা হয়েছে কোরবানির পশুর চামড়া দাম। নির্ধারিত মূল্য অনুযায়ী, ট্যানারি ব্যাবসায়ীরা ঢাকায় লবণযুক্ত প্রতি বর্গফুট চামড়া কিনবেন ৪৫ থেকে ৫০ টাকায়। ঢাকার বাইরে এই চামড়ার দাম হবে ৩৫ থেকে ৪০ টাকা। আর সারাদেশে খাসির চামড়ার মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ১৮ থেকে ২০ টাকা, বকরির চামড়া ১৩ থেকে ১৫ টাকা।

কোরবানির পশুর চামড়া কিনতে ট্যানারি মালিকদের ৭৫০ কোটি টাকা ঋণ দেবে রাষ্ট্রায়ত্ব চারটি ব্যাংক। এর মধ্যে সোনালি ব্যাংক ১৫০ কোটি টাকা, জনতা ব্যাংক ৩শ’ কোটি টাকা, অগ্রণী ব্যাংক ১শ’ কোটি টাকা এবং রুপালী ব্যাংক ২শ’ কোটি টাকা ঋণ দেবে। যেসব ব্যবসায়ী গত বছর চামড়া কেনার জন্য নেওয়া ঋণের টাকা সম্পূর্ণ পরিশোধ করেছেন, তারাই কেবল এই ঋণ পাবেন।

রাজধানীর হাজারিবাগ থেকে ১৫৫টি ট্যানারি সাভারে স্থানান্তর করা হয়েছে। তবে সবগুলো ট্যানারি এখনো পুরোপুরি উৎপাদন শুরু করতে পারেনি। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, মাত্র ৪০টি ট্যানারি শতভাগ উৎপাদনে সক্ষম। অন্যদিকে সাভার চামড়া শিল্প নগরীর রাস্তার পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বিগ্ন ট্যানারি শিল্প মালিকরা।