নদীগর্ভে হারিয়ে গেল উপজেলা হাসপাতালটি


শরীয়তপুর প্রতিনিধি,স্বাস্থ্য ডেস্ক | Published: 01:19 PM, September 11, 2018

IMG

পদ্মা নদীর ভয়াবহ ভাঙনে নড়িয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স নতুন ভবন নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। 

সোমবার রাতে বিষয়টি নিশ্চিত করে নড়িয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকতা সানজিদা ইয়াসমিন গণমাধ্যমকে বলেন, পদ্মা নদীর ভাঙনে আমাদের উপজেলায় নতুন নতুন এলাকা ও স্থাপনা বিলীন করে নিয়েছে। সোমবার সন্ধ্যায় নড়িয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটিও বিলীন হয়ে গেছে। এ এলাকায় স্বাস্থ্যসেবার সমস্যা হবে। এটা সমাধানের জন্য আমরা শীঘ্রই বিকল্প ব্যবস্থা নেব।

গত দু'দিনে নড়িয়া উপজেলার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটির সামনের রাস্তা, মুলফৎ বাজারের আরও শতাধিক ব্যবসা প্রতিষ্ঠানসহ ৫০টি বসত ঘর ও শত একর আবাদী জমি পদ্মারগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ওই এলাকার ক্ষতিগ্রস্ত মানুষ খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবনযাপন করছে। আতঙ্কে আছেন মুলফৎগঞ্জ বাজারের ৮'শত ব্যবসা প্রতিষ্ঠান মালিক।যে কোনো সময় নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাবে।

সরেজমিন ভাঙন কবলিত এলাকা ঘুরে ও ক্ষতিগ্রস্তদের সঙ্গে আলাপ করে জানা গেছে, গত দুই মাসে জাজিরা নড়িয়া উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় পদ্মানদীর অব্যাহত ভাঙন চলছে। এর তীব্রতা বেড়ে গিয়ে গত ১০ দিনে নড়িয়া উপজেলার মোক্তারেরচর ও কেদারপুর ইউনিয়নের বেশিরভাগ ও নড়িয়া পৌর এলাকার ৪ নম্বর ওয়ার্ড বিলীন হয়ে যায়।

ভয়াবহ পদ্মানদীর ভাঙনের কবলে পড়ে সোমবার সন্ধ্যায় সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, অতি প্রাচীনতম নড়িয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স নতুন ভবন নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাচ্ছে। এছাড়াও ভাঙনের কবলে পড়ে পূর্ব নড়িয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, চরনড়িয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, গাজি কালুর মেহমান খানা, দেওয়ান ক্লিনিক, শপিংমল, হেলথ কেয়ার, অ্যাডবোকেট আবুল কালাম আজাদের বাড়ি, নূরহোসেন দেওয়ানের বাড়ি , ঈমাম হোসেন দেওয়ানের বাড়ি, মরহুম মমিন আলী বেপারী বাড়ি, চরজুজিরা দাসপাড়া গ্রাম, পাচগাও গ্রাম, শুভগ্রাম ,বাঁশতলা, ওয়াপদা লঞ্চঘাট, সাধুরবাজার ও লঞ্চঘাট, উত্তর কেদারপুর রামঠাকুরের সেবা মন্দির , চন্ডিপুর লঞ্চঘাট , শেহের আলী মাদবরের কান্দি, ঈশ্বরকাঠি, মূলফৎগঞ্জ বাজারের একাংশের প্রায় ১৫০ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বিলীন হয়ে গেছে।

এর আগে গত এক সপ্তাহে ৩৫০ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান শতাধিক বাড়ি ঘরসহ বড় বড় স্থাপনা নদী গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। এ ভাঙনের কবলে পড়ে গৃহহীন হয়ে পড়েছে কমপক্ষে ৫ হাজার পরিবার। তারা খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবন যাপন করছে। এছাড়াও গত দুই মাসে বহু বাড়ি ঘর ও বড় বড় স্থাপনা, রাস্তা, ব্রিজ,কালভার্ট নদী গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে।

ক্ষতিগ্রস্ত মিহির চক্রবর্তী বলেন, দুইমাসে আমাদের নড়িয়ার প্রায় ৫ হাজার পরিবারের ঘরবাড়ি দোকান পাট ব্রিজ কালভার্ট শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বিলীন করে নিয়েছে। আমাদের অতি প্রাচীনতম স্বাস্থ্য সেবা কেন্দ্র নড়িয়া উপজেলা কমপ্লেক্সটিও বিলীন হয়ে গেল। এখন আমাদের আর কিছুই রইল না।










স্বাস্থ্য বিভাগের আরও সংবাদ