‘যথাযথ প্রমান ছাড়া সিনহার বিরুদ্ধে কোন মামলা নয়’


নিজস্ব প্রতিবেদক,সেন্ট্রাল ডেস্ক | Published: 07:44 PM, September 24, 2018

IMG

দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ বলেছেন, ‘আমার কথা পরিষ্কার কারও বিরুদ্ধে এভিডেন্স ছাড়া আমরা কনক্লুসিভ কনভিন্সড না হলে কারও বিরুদ্ধে কোনো অনুসন্ধান হবে না, তদন্তও হবে না।’ 


তিনি আরও বলেন, ‘মাননীয় মন্ত্রীর কথায় তো মামলা হবে না। মন্ত্রীর কথায় অনুসন্ধানও হবে না। সরকার নিজেরাই বলে স্বাধীন কমিশন। মন্ত্রী যা বলেছেন উনি ওনার কথা বলেছেন। মাননীয় মন্ত্রীর কোনো কথার প্রভাব দুদকে পড়ার কোনো রকমের সম্ভাবনা নেই। আমরা আপনাদের গ্যারান্টি দিচ্ছি।’


সোমবার (২৪ সেপ্টেম্বর) দুপুরে নিজ কার্যালয় থেকে বেরিয়ে যাওয়ার সময় সাবেক প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার (এস কে সিনহা) বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ প্রসঙ্গে আইনমন্ত্রীর বক্তব্যের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।


এর আগে, আইনমন্ত্রী আনিসুল হক গতকাল রবিবার বিকেলে নারায়ণগঞ্জে জেলা আইনজীবী সমিতির কার্যকরী কমিটির অভিষেক ও ডিজিটাল বার ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের উদ্বোধন শেষে বলেন, সাবেক প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহার বিরুদ্ধে ওঠা দুর্নীতির অভিযোগ দুদক খতিয়ে দেখছে। দুদক তার বিরুদ্ধে যখন মামলা করবে, তখনই মামলা হবে। সরকার এখানে কোনো হস্তক্ষেপ করবে না।


এদিকে গত ২১ সেপ্টেম্বর সাবেক প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহার বিরুদ্ধে ওঠা দুর্নীতির অনুসন্ধান শেষ পর্যায়ে রয়েছে বলে জানিয়েছেন দুদকের আইনজীবী খুরশীদ আলম খান। তিনি বলেন, ‘বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে অনুসন্ধান করছে দুদক।’


এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে দুদক চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ বলেন, ‘দুদকের আইনজীবী তো আমাদের মুখপাত্র না। সে আমাদের স্থায়ী উকিলও না। তিনি যে কোনো ব্যক্তির উকিল হতে পারেন, আপনারও হতে পারে। আইনজীবী যেটা বলেছে, সেটা তার নিজস্ব বক্তব্য। তিনি দেশে নেই, আমি তার কাছে এ বিষয়ে জিজ্ঞাসাও করতে পারছি না।’


সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী অবৈধ ঘোষণার পর উদ্ভূত পরিস্থিতিতে প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা পদত্যাগ করেন। এরপর তিনি বিদেশ পাড়ি জমান। ওই সময়ে সিনহার বিরুদ্ধে অবৈধভাবে আর্থিক লেনদেন, নৈতিক স্খলনসহ বেশকিছু অভিযোগ ওঠে।


গত বছরের ৩০ সেপ্টেম্বর আমন্ত্রণ পেয়ে রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদের সঙ্গে বঙ্গভবনে দেখা করতে যান আপিল বিভাগের চার বিচারপতি মো. আবদুল ওয়াহ্হাব মিঞা, বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন, বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী এবং বিচারপতি মির্জা হোসেইন হায়দার। আলোচনার এক পর্যায়ে বিচারপতিদের কাছে সিনহার অর্থপাচার, আর্থিক অনিয়ম, দুর্নীতি, নৈতিক স্খলনসহ ১১টি অভিযোগের প্রমাণাদি হস্তান্তর করেন।


প্রধান বিচারপতির বিরুদ্ধে ১১ অভিযোগ হলো

১. তার আয়-ব্যয়ের হিসাব সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। জ্ঞাত উৎসের বাইরে থেকে ২০১৫-১৬ এবং ২০১৬-১৭ অর্থবছরে ব্যাংকে টাকা পাওয়া গেছে।

২. বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা সিঙ্গাপুরে একটি ব্যাংকে অ্যাকাউন্ট করেছেন। ওই ব্যাংক অ্যাকাউন্টে অন্তত দেড়কোটি টাকা রয়েছে। এ ধরনের অ্যাকাউন্ট করার ক্ষেত্রে তিনি বাংলাদেশ ব্যাংকের কোনো অনুমতি নেননি।

৩. অস্ট্রেলিয়ায় একটি ব্যাংকে বিচারপতির একটি অ্যাকাউন্টের সন্ধান পাওয়া গেছে। ওই অ্যাকাউন্টেও বাংলাদেশি টাকায় এক কোটির বেশি টাকা রয়েছে। ওই অ্যাকাউন্ট করার ক্ষেত্রেও জালিয়াতির আশ্রয় নেওয়া হয়েছে।

৪. কানাডায় একটি ব্যাংকে বিচারপতি সিনহার একটি অ্যাকাউন্ট পাওয়া গেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদন না নিয়ে জালিয়াতির মাধ্যমে ওই অ্যাকাউন্ট বিচারপতি সিনহা লেনদেন করেছেন।

৫. বিচারপতি সিনহা তথ্য গোপন করে এবং ক্ষমতার অপব্যবহার করে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ থেকে অবৈধভাবে প্লট নিয়েছেন।

৬. বিচারপতি সিনহার সুপ্রিম কোর্ট সোনালী ব্যাংকের বেতন অ্যাকাউন্টে চার কোটি টাকা ব্যাংক ড্রাফট আকারে জমা হয়। এই আয়ের কোনো উৎস তিনি জানাতে ব্যর্থ হন।

৭. পাঁচজন ব্যবসায়ীর কাছ থেকে বিভিন্ন মামলায় অনৈতিক সুবিধা দেওয়ার জন্য বিচারপতি সিনহা অন্তত ৬০ কোটি টাকা বিভিন্ন পর্যায়ে গ্রহণ করেন।

৮. বাংলাদেশের ব্যাংকের অনুমোদন না নিয়ে অবৈধ পন্থায় বিদেশে হুন্ডির মাধ্যমে টাকা পাচার করেছেন। যে ব্যক্তিকে দিয়ে টাকা পাচার করিয়েছেন তিনি স্বীকারোক্তি দিয়েছেন।

৯. সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের অন্যান্য বিচারপতির সঙ্গে পরামর্শ ছাড়াই একজন সাবেক বিচারপতির বিরুদ্ধে দুর্নীতির মামলা বন্ধ করতে দুদককে চিঠি দিয়েছেন।

১০. সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্টার এবং অধস্তন আদালতে বিচারক বদলির ক্ষেত্রে ঘুষ গ্রহণ করেছেন।

১১. একজন নারী কর্মকর্তার সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন, যার ভিডিও রাষ্ট্রপতির কাছে দেওয়া হয়।

 

বিদেশে যাওয়ার এক বছর পর নতুন করে আলোচনায় এলেন সাবেক প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা। গত সপ্তাহে অনলাইনে ‘অ্যা ব্রোকেন ড্রিম’ নামে সিনহার লেখা একটি বই প্রকাশ হয়েছে। ওই বইয়ে সিনহা দাবি করেছেন, তাকে সরকার জোর করে নির্বাসনে পাঠিয়েছে।


আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, সুরেন্দ্র কুমার বিদেশে বসে ভুতুড়ে কথা লিখেছে। মূলত গাত্রদাহের কারণে তিনি ওই বইটি লিখেছেন। বইটি সরকারবিরোধী ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে প্রকাশ করা হয়েছে বলেও ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সরকারের দাবি।










আইন-আদালত বিভাগের আরও সংবাদ