পাকিস্তানকে হারিয়ে স্বপ্নের ফাইনালে বাংলাদেশ


, | Published: 12:14 PM, September 27, 2018

IMG

এশিয়া কাপের সুপার ফোরে এই অঘোষিত সেমিফাইনালে পাকিস্তানকে ৩৭ রানে হারিয়ে তৃতীয়বার এশিয়া কাপের ফাইনালে বাংলাদেশ। টাইগারদের দেয়া ২৪০ রানের টার্গেটে খেলতে নেমে, নির্ধারিত ওভার শেষে ৯ উইকেট হারিয়ে ২০২ রান তোলে পাকিস্তান। বাংলাদেশের সাফল্যে ক্রিকেট দলকে অভিনন্দন জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

চার বছর পর তামিম-সাকিব ছাড়া রণক্ষেত্রে টিম বাংলাদেশ। হার না মানা অধিনায়ক মাশরাফির নেতৃত্বে অঘোষিত এই সেমিফাইনালে তাদের প্রতিপক্ষ পাকিস্তানকে হারিয়েছে ৩৭ রানে। এশিয়া কাপের সুপার ফোরের এই ম্যাচ জিতে টানা দ্বিতীয়বার ফাইনালে টাইগাররা। চারবারের মধ্যে এ নিয়ে তৃতীয়বার। শুক্রবারের শিরোপা লড়াইয়ে আবারও তাদের প্রতিপক্ষ ভারত।

অঘোষিত সেমিফাইনালে পাকিস্তানের বিপক্ষে তিন পরিবর্তন বাংলাদেশ একাদশে। টজ জিতে ব্যাটিংয়ে টিম টাইগার্স। ব্যাটসম্যান বদলালেও ভাগ্য বদলায়নি। ১২ রানে তিন উইকেট হারিয়ে টপ অর্ডারে ব্যর্থতার ধারাবাহিকতার অব্যাহত।

১১ মাস পর দলে ফিরে শূন্য রানেই বিদায় শান্তর স্থলাভিষিক্ত সৌম্য সরকারের। জুনাইদ খানের শর্ট বলে, হুক করতে গিয়ে অনেকটা অবিবেচকের মতো বিলিয়েছেন উইকেট।

লিটন, কিংবা সাকিবের বদলি মুমিনুল কেউই পারেননি আস্থার প্রতিদান দিতে। দুজনের আউট দেখেই মনে হয়েছে ফুটওয়ার্ক তারা ভুলেই গেছেন।

বিপর্যন্ত ইনিংসে হাল ধরেছেন মুশফিক-মিঠুন। গড়েন ১৭৭ বলে ১৪৪ রানের জুটি। দুজনের বোঝাপড়ায় বড় সংগ্রহের স্বপ্ন দেখে বাংলাদেশ। আবার তাদের বিদায়েই হয়েছে সেই স্বপ্নের অপমৃত্য।

দলীয় ১৫৬ রানে হাসান আলীর বলে বিদায় মিঠুনের। এশিয়া কাপে তাঁর দুটি অর্ধ শতক। তারপরও লঙ্কানদের সাথে যে ভুল করেছিলেন তা আজও এড়াতে পারলেন না।

আগের ম্যাচের হাফ সেঞ্চুরিয়ান ইমরুল এ ম্যাচে ব্যর্থ। তবে মুশফিকের বিদায় যেমন বাজে প্রভাব ফেলেছে ম্যাচে, তেমনি তার সাইকোলজিতেও। তিনিই প্রথম বাংলাদেশি, যিনি যে কোন ফরম্যাটে আউট হয়েছেন ৯৯ রানে।

ধারাবাহিক মাহমুদউল্লাহ, নিজেকে মেলে ধরতে পারেননি। লিটনের মত তিনিও বোঝেননি জুনাইদের সুইং।

মেহেদি-রুবেল ফিরে গেলেও, ২৫০’র স্বপ্ন দেখিয়েছিল মাশরাফি। তবে শেষ পর্যন্ত ২৩৯ রানেই অল-আউট হতে হয়েছে বাংলাদেশকে।

২৪০ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই মিরাজের সাফল্য। টুর্নামেন্টে অসফল ফখর জামান দলীয় ২ রানে ফিরে যান মিরাজের ঘূর্ণিতে রুবেলের অসাধারণ ক্যাচে। এর ১ রান পর মুস্তাফিজের কাটারে লেগ বিফোরের ফাঁদে পড়েন বাবর আজম। ভয়ঙ্কর হয়ে ওঠার আগে আবারো মুস্তাফিজের আঘাত। এবার আউট করেন ব্যাক্তিগত ১০ রান করা অধিনায়ক সারফরাজকে। দলীয় ৮৫ রানে রুবেলের বলে বিদায় নেন মালিক। এর পর সাদাবকে ফেরান সৌম্য। নামের পাশে যোগ হয় প্রথম ওয়ানডে উইকেট।

এর পর লিটনের অসাধারণ স্ট্যাম্পিংয়ে ফিরেছেন আসিফ ও ইমামুল। তাতেই আর ইনিংসে ফিরতে পারেনি পাকিস্তান। ১০ ওভারে ৪৩ রানে ৪ উইকেট দিয়েছেন মুস্তাফিজ।

শুক্রবার ভারতের বিপক্ষে নামবে তৃতীয় প্রচেষ্টায় শিরোপা জয়ের আশায়।