চার কমিশনার বনাম সিইসি-সচিব


নিজস্ব প্রতিবেদক,সেন্ট্রাল ডেস্ক | Published: 07:17 PM, September 28, 2018

IMG

একাদশ সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে চূড়ান্ত প্রস্তুতি নিচ্ছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। তবে প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও কমিশন সচিবের বিরুদ্ধে চার কমিশনারের অভিযাগ, কমিশনের গৃহিত সিদ্ধান্তগুলো তাদের জানানো হচ্ছে না। 

তাই ইসি সচিবালয়ের নেওয়া সিদ্ধান্ত ও তথ্য জানতে চেয়ে সচিব বরাবরে একটি আন অফিসিয়াল নোট (ইউওনোট) দিয়েছেন চার নির্বাচন কমিশনার।


জানা গেছে, সম্প্রতি নির্বাচন কমিশনের সচিব হেলালুদ্দীন আহমদের কাছে ‘ইউওনোট’ দেন চার নির্বাচন কমিশনার। এই নোটের একটি কপি সিইসি বরাবারও দেওয়া হয়েছে। কমিশনের নিয়ম অনুযায়ী, এই চার নির্বাচন কমিশনারকে বাদ দিয়ে কিছু সিদ্ধান্ত নির্বাচন কমিশনের সচিব ও সিইসি নিতে পারেন। ফলে সচিবালয়ের অনেক বিষয়ই অজানা থেকে যায় এই চার কমিশনারের। এ পরিপ্রেক্ষিতে সচিবালয়ের সিদ্ধান্ত ও কিছু বিষয়ে জানতে চেয়ে ইউওনোট দিয়েছেন কমিশনাররা।


গত ৫ সেপ্টেম্বর ঢাকায় অনুষ্ঠিত ফেমবোসা সন্মেলন কেন্দ্র করে নির্বাচন কমিশনারদের মধ্যে টানাপোড়েন সৃষ্টি হয়। সার্কভূক্ত দেশগুলোর নির্বাচন কমিশনারদের নিয়ে দুই দিনব্যাপী অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক এই সন্মেলনে প্রস্তুতি-অনুষ্ঠান সম্পর্কে নির্বাচন কমিশনারদের মতামত গ্রহণ করা হয়নি বলে জানা গেছে। এছাড়া অনুষ্ঠান কিভাবে হবে তাও তাদের জানানো হয়নি। সিইসি ও সচিবের পরিকল্পনা অনুসারে সন্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। গত ২২ সেপ্টেম্বর একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নির্বাচন কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ শুরু হয়েছে। এই বিষয়েও চার কমিশনারের মতামত নেওয়া হয়নি। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানেও সিইসি ও সচিব ছিলেন। চার কমিশনারের কেউকে দেখা যায়নি। এই প্রশক্ষিণ বিষয়ে তাদের মতামত গ্রহণ এবং আমন্ত্রণ জানানো হয়নি বলে জানা গেছে।


ইসি সচিবকে দেওয়া চার কমিশনারের ইউওনোটে বলা হয়, সংবিধানের ১১৮ (৪) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশন সম্পূর্ণ স্বাধীন। আর ইসি সচিবালয় আইনের যথাযথ প্রয়োগ নিশ্চিত করতে ২০১০ সালে নির্বাচন কমিশন কার্যপ্রণালী বিধিমালা প্রণয়ন করা হয়েছে।


“কিন্তু কিছু কিছু ক্ষেত্রে আইনি ও বিধির যথাযথ বাস্তবায়নে ব্যত্যয় পরিলক্ষিত হচ্ছে বলে প্রতীয়মান হয়।”


আইনের ১৪ (২) ধরায় বলা হয়েছে, ইসি সচিবালয়ের সব কর্মকর্তা-কর্মচারী নির্বাচন কমিশনের সার্বিক নিয়ন্ত্রণে সচিবের কাছে দায়ী থাকবেন। তবে এখানেও ‘একক নিয়ন্ত্রণে’ সচিবালয়ের কর্মকর্তারা কাজ করছেন বলে মন্তব্য করা হয়েছে ইউওনোটে।


বলা হয়েছে, কমিশনের নিয়ন্ত্রণে থাকা তো দূরের কথা, অনেক ক্ষেত্রে কমিশনের সব সদস্যকে সিদ্ধান্তের বিষয়ে অবহিতও করা হয় না।


এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনার মো. রফিকুল ইসলাম গণমাধ্যমকে বলেন, কমিশনের অনেক সিদ্ধান্তই আমরা জানিনা। তাই আমরা কমিশনের কাছে কিছু তথ্য চেয়েছি। বলেছি, এই বিষয়গুলো আমাদের একটু জানান। সে জন্য নোট দিয়েছি।


এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশন সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ বলেন, চার নির্বাচন কমিশনার একটি নোট দিয়েছেন। সেখানে বলেছেন, নির্বাচন কার্যক্রম সম্পর্কে যেনো তাদের জানানো হয়। নির্বাচনি কার্যক্রম বিষয়ে যেনো তাদের জানানোর জন্য ফাইল উঠানো হয়। চার কমিশনার মিলে একটি নোট দিয়েছেন বলেও জানান তিনি।


গত বছরের ১৫ ফেব্রুয়ারি প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নুরুল হুদার নেতৃত্বে নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদার, মো. রফিকুল ইসলাম, কবিতা খানম ও অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শাহাদাত হোসেন চৌধুরী দায়িত্ব নেন বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনের।পাঁচজনে মিলে এই কমিশন।


এরআগে সংসদ নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহারের বিধান যুক্তের বিরোধীতা করেন নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদার। নোট অফ ডিসেন্ট দিয়ে তিনি কমিশন সভা বর্জন করেন। এ বিষয়ে অপর তিন কমিশনার সিইসির সঙ্গে একমত পোষণ করে আরপিও সংশোধনের সুপারিশ অনুমোদন করেন।

সূত্র: বার্তা২৪/