যৌন হয়রানি করায় ছাত্রীদের গণপিটুনিতে শিক্ষক আহত


, | Published: 05:56 PM, October 01, 2018

IMG

টাঙ্গাইল বিন্দুবাসিনী সরকারী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ছাত্রীদের যৌন-হয়রানী করার কারণে সহকারী ইংরেজি শিক্ষককে পিটিয়ে আহত করেছে ছাত্রীরা। এ সময় যৌন নির্যাতনকারী ঐ শিক্ষকসহ প্রধান শিক্ষকের অপসারণের দাবিতে ক্লাস বর্জন করে আন্দোলন শুরু করেছে বিক্ষুব্ধ ছাত্রীরা।

সোমবার সকাল থেকে ছাত্রীরা ক্লাস বর্জন করে এই আন্দোলন শুরু করে। পরে সহকারী শিক্ষক সাঈদুর রহমান বাবুলকে ইভটিজিং এর দায়ে এক বছরের কারাদণ্ড দিয়েছে ভ্রাম্যমান আদালত।

দীর্ঘদিন ধরে ক্লাসের ছাত্রীদের অশালীন মন্তব্য ও কু-প্রস্তাব দিয়ে আসছিল সহকারী ইংরেজি শিক্ষক সাঈদুর রহমান বাবলু। রোববার নবম শ্রেণীর এক ছাত্রীকে সে কু-প্রস্তাব দেয়। ওই দিনই সকল ছাত্রীরা প্রধান শিক্ষককে বিষয়টি জানায়। কিন্তু প্রধান শিক্ষক মামুন তালুকদার অভিযুক্ত ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা না নিয়ে উল্টো ছাত্রীদের স্কুল থেকে বের করে দেয়ার ভয় দেখিয়ে কাগজে স্বাক্ষর নেয়। স্কুল ছুটি শেষে ছাত্রীরা তাদের অভিভাবকদের বিষয়টি জানালে সোমবার সকালে অফিস কক্ষে বিদ্যালয়ের সহকারী ইংরেজি শিক্ষক সাঈদুর রহমান বাবুলকে অবরুদ্ধ করে রাখে ছাত্রী ও অভিভাবকরা।

অবস্থা বেগতিক দেখে সাঈদুর কৌশলে পালানোর চেষ্টা করে। পরে বিদ্যালয়ের ছাত্রী ও অভিভাবকরা সাঈদুরকে ধরে বেদম পিটুনি দেয়। এতে সে জ্ঞান হারিয়ে ফেলে। খবর পেয়ে পুলিশ এসে আহত শিক্ষককে পুলিশী হেফাজতে নিলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। শিক্ষক সাঈদুর রহমান বাবুল কালিহাতি উপজেলার পারখী গ্রামের আব্দুল মান্নানের ছেলে।

শিক্ষার্থীরা জানায়, দীর্ঘদিন ধরেই সাঈদুর রহমান বাবুল তাদের বিভিন্নভাবে কু-প্রস্তাব ও অশালীন মন্তব্য করে আসছিল। বিষয়টি একাধিকবার বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মামুন তালুকদারকে জানানোর পরও তিনি কোন ব্যবস্থা নেয়নি বলে অভিযোগ করা হয়। এ নিয়ে রোববার সকালে তারা (ছাত্রী) ক্লাসে আসলে প্রধান শিক্ষক এসে তাদের স্কুল থেকে বের করে দেয়ার ভয় দেখিয়ে সাঈদুর রহমান বাবুলের বিরুদ্ধে কোন অভিযোগ নেই বলে স্বাক্ষর নেয়। পরে তারা সোমবার সকালে ক্লাস বর্জন করে ওই শিক্ষককে অবরুদ্ধ করে রাখে। তারা সাঈদুর রহমান বাবুল ও প্রধান শিক্ষক মামুন তালুকদারের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানায়।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মামুন তালুকদার জানান, তিনি কোন ছাত্রীদের কাছ থেকে স্বাক্ষর নেয়নি। তাদের দাবির প্রেক্ষিতে সাঈদুর রহমান বাবুলকে বরখাস্ত করা হয়েছে। তাকে পুলিশে সোপর্দ করা হয়েছে।

টাঙ্গাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইদুর রহমান জানান, জড়িত শিক্ষককে পুলিশ হেফাজতে নেয়া হয়েছে। এ ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে।
টাঙ্গাইলের এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট শাহরিয়ার রহমান বলেন, টাঙ্গাইল শহরের বিন্দুবাসিনী সরকারি বালিকা বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক সাঈদুর রহমান বাবুলকে ইভটিজিং এর দায়ে ভ্রাম্যমান আদালতের মাধ্যমে এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। সেই সাথে কোন অভিভাবক যদি তার বিরুদ্ধে মামলা করেন তাহলে পরবর্তীতে তদন্ত সাপেক্ষে তার বিরুদ্ধে আরো কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।