ফিলিস্তিনকে সমীহ করেই মাঠে নামবে বাংলাদেশ


, | Published: 09:12 PM, October 09, 2018

IMG

ফিফা র‌্যাংকিংয়ে ফিলিস্তিন ১০০, বাংলাদেশ ১৯৩। দূরত্বটা ঢাকা আর রামাল্লাহর মতোই। এতটা সামনে থাকা দলটিকে পেছনে ফেলে বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপের ফাইনালের টিকিট ছিনিয়ে নেয়া কঠিন কাজই বাংলাদেশের। তবে খেলাটা ফুটবল বলে কথা-কখন কাকে হাসাবে, কাকে কাঁদাবে বলা মুশকিল। বুধবার কক্সবাজার বীরশ্রেষ্ঠ রুহুল আমিন স্টেডিয়ামে না হয় লাল-সবুজের দেশই হাসুক।

সে প্রত্যাশা নিয়েই সমুদ্রপাড়ের শহর কক্সবাজারের মানুষ প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছে গ্যালারি ভরিয়ে প্রাণ উজাড় করে সমর্থন দেবে মাঠের ১১ বীর সেনানিকে। দুই দেশের শক্তির পার্থক্য যাই হোক, মাঠে লড়াইটা হবে ১১ জনের বিরুদ্ধে ১১ জনের। গ্যালারিতে ১১ হাজারেরও বেশি মানুষ থাকবে জামাল-সুফিলদের সাথে। শেষ বাঁশির পর বিজয় উল্লাসের প্রত্যাশায় প্রস্তুতি থাকবে শুরু থেকেই।

সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের গ্রুপ পর্ব থেকে বাদ পড়া বাংলাদেশের কোচ জেমি ডে’র প্রাথমিক লক্ষ্য ছিল বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপের সেমিফাইনাল। প্রথম লক্ষ্য পূরণ হওয়ার পর বাংলাদেশের চোখ এখন বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে, যেখানে শুক্রবার হবে টুর্নামেন্টের ফাইনাল। প্রথম সেমিফাইনালে ফিলিপাইনকে হারিয়ে ফাইনাল মঞ্চে পৌছে এখন প্রতিপক্ষের অপেক্ষায়।

দল চূড়ান্ত হওয়ার পর থেকেই টুর্নামেন্টের টপ ফেভারিট হিসেবে ফিলিস্তিনের নাম সবার মুখে। অনেকের দৃষ্টিতে সম্ভাব্য চ্যাম্পিয়ন। বাংলাদেশের সামনে পড়েছে সেই বড় বাধাটি। বাংলাদেশ দলের অধিনায়ক জামাল ভুঁইয়া বাস্তববাদী মানুষ। ফিলিস্তিনকে উড়িয়ে দেবো-গুঁড়িয়ে দেবো বললে কে তার মুখ আটকাতো? কিন্তু সেমিফাইনালপূর্ব মিডিয়া ব্রিফিংয়ে ডেনমার্ক প্রবাসী এ ফুটবলার ফিলিস্তিনকে সমীহ করেছেন। পশ্চিম এশিয়ার দেশটি ফেভারিট মেনেই মাঠে নামার কথা বলেছেন। তবে মাঠে নামার আগেই হারতে নারাজ এ সময়ের অন্যতম সেরা এ খেলোয়ড়টি। শেষ মিনিট পর্যন্ত লড়াই করে জয়ের চেষ্টার কথা বলেছেন তিনি।

‘বাস্তব কথা হলো এ ম্যাচে ফিলিস্তিনই ফেভারিট। তবে মাঠটা তো আমাদের। নিজেদের মাঠে আমরা সেরাটা মেলে ধরার চেষ্টা করবো। আমরা আন্ডারডগ। যে কারনে চাপটা কিন্তু আমাদে কম। ফিলিস্তিন আক্রমনাতœক ফুটবল খেলে, আমরা প্রতি আক্রমনে গোলের চেষ্টা করবো’- বলছিলেন বাংলাদেশ অধিনায়ক।

কক্সবাজারের আবহাওয়া এখন বৈরী। গরমের তীব্রতা কমে হালকা শীতের পরশ। জামাল ভুঁইয়ার মতে আবহাওয়াটা এমন থাকলে সুবিধাটা ফিলিস্তিন বেশি পেতে পারে। শারীরিক গঠনে ফিলিস্তিনের খেলোয়াড়রা এগিয়ে জামালদের চেয়ে। ওদের আক্রমনভাগ বেশ ধারালো। রক্ষণভাগ ইস্পাতকঠিন। তবে জামাল ভুঁইয়া তাদের মাঝমাঠকে দেখছেন একটু । এ জোনটাতে এখন চোখ বাংলাদেশ অধিনায়কের-যেখানে বড় দায়িত্বটাও তার।

আন্তর্জাতিক ফুটবলে ফিলিস্তিনের বিপক্ষে আগে তিনটি ম্যাচ খেলে দুটি হেরেছে, একটি ড্র করেছে। প্রথম সাক্ষাত হয়েছিল ২০০৬ সালে বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে প্রথম এএফসি চ্যালেঞ্জ কাপের গ্রুপ ম্যাচে। ৩০ মিনিটে পিছিয়ে পড়া বাংলাদেশ ৫৫ মিনিটে ম্যাচে ফিরেছিল মেহেদী হাসান তপুর গোলে। পরের দুই ম্যাচ হেরেছে বাংলাদেশ-২০১১ সালে ফিফা ফ্রেন্ডলি ম্যাচে ২-০ গোলে এবং ২০১৩ সালে এএফসি এশিয়ান কাপে ১-০ গোলে।