এবার আয়কর মওকুফ চায় কৃষি ব্যাংক


অর্থনৈতিক প্রতিবেদক,অর্থনীতি ডেস্ক | Published: 12:43 PM, October 19, 2018

IMG

গ্রামীণ ব্যাংকের মতো বিশেষায়িত ব্যাংক হিসেবে আয়কর মওকুফ সুবিধা চায় বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক (বিকেবি)। গত ১৭ অক্টোবর ব্যাংকের মহাব্যবস্থাপক শেখ মাহমুদ কামাল স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের কাছে এ সুবিধা চাওয়া হয়েছে। মন্ত্রণালয় সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

চিঠিতে, ২০১৪-২০১৫ অর্থ বছরে (কর বছর ২০১৫-২০১৬) আয়কর কর্তৃপক্ষের নির্ধারণ করা ১২১ কোটি ৪০ লাখ টাকা আয়কর অব্যাহতির আবেদন করা হয়েছে। যুক্তি হিসেবে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের আয়কর অব্যাহতি পাওয়ার আইনগত ভিত্তি আছে। প্রচলিত আয়কর অধ্যাদেশ ১৯৮৪ এর ৮২সি(৪) ধারা অনুযায়ী, লোকসানি প্রতিষ্ঠান হিসেবে ন্যূনতম কর টার্ন ওভার (ট্যাক্স) পরিশোধ করতে হয়। সেক্ষেত্রে কৃষি ব্যাংকেরও কোনো মুনাফা হয় না। ২০১১-১২ অর্থ বছর থেকে ২০১৬-২০১৭ অর্থ বছর পর্যন্ত ব্যাংকটি লোকসান করে আসছে।

চিঠিতে আরো উল্লেখ করা হয়েছে, বিকেবি বাংলাদেশ সরকারের পক্ষে দেশের খাদ্য নিরাপত্তাসহ আর্থ সামাজিক উন্নয়নে কাজ করছে। এছাড়াও বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় কোষাগারের রাজস্ব আহরণে পরোক্ষভাবে অবদান রাখছে। এ অবস্থায় বিকেবি কর্তৃক আয়কর অব্যাহতি দাবি বিবেচনা জন্য পেশ করা যেতে পারে। কারণ সরকারি সিদ্বান্ত অনুযায়ী ঋণ মওকুফ করায় ব্যাংকটির পক্ষে মুনাফা করা সম্ভব হয়নি।

বিকেবি’র প্রস্তাবে বলা হয়েছে, ২০১৫ সালের ৩০ জুন পর্ষন্ত ব্যাংকটির পূঞ্জীভূত লোকসান দাঁড়িয়েছে ৬ হাজার ৩২৭ কোটি ৩৬ লাখ টাকা। বিকেবি’র চার্টার অনুসারে মোট ঋণের কমপক্ষে ৬০ শতাংশ প্রান্তিক কৃষকদের দেওয়া হয়, যা দেশের সামষ্টিক অর্থনীতিতে উল্লেখ্যযোগ্য ভূমিকা রাখছে। ব্যাংকটির মোট বিতরণ করা ঋণের প্রায় ৮২ শতাংশ কৃষি খাতে দেওয়া হয়েছে। কৃষি ঋণের সুদের হার ৪-৯  শতাংশের বিপরীতে ব্যাংকের কস্ট অব ফান্ড ৯.৮৮ শতাংশ। কৃষি খাতে অর্থায়ন একটি ঝুঁকিপূর্ণ ও ব্যয়বহুল বিনিয়োগে, যা আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত। বিভিন্ন নিয়ন্ত্রণ বহিভূর্ত কারণে বিশেষ করে অকাল বন্যা, অতি বৃষ্টি, অনাবৃষ্টি, সিডর, আয়লাসহ বিভিন্ন কারণে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের কাছ থেকে পাওনা টাকা আদায় করা সম্ভব হয় না।

এদিকে ২০১৪-২০১৫ অর্থবছরে আয়কর অব্যাহতির বিষয়ে পরিচালনা পর্ষদের সিদ্বান্ত অনুসরে আয়কর সংক্রান্ত দ্বিতীয় আপিল মামলা চলছে। আপিল মামলার রায়ের প্রেক্তিতে বিষয়টি বিবেচনার জন্য পেশ করে যেতে পারে। বিজ্ঞ আদালতের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী উপরে উল্লেখ্যিত সময়ের মধ্যে নিরীক্ষিত স্থিতিপত্র মোতাবেক ২১৫ কোটি ২৫ লাখ টাকা লোকসান দেখিয়ে আয়কর রিটার্নস দাখিল করা হয়। পরে উপকর কমিশনার কর নির্ধারণী আদেশে মোট ১২১ কোটি ৮৪ লাখ টাকা আয়কর ধার্য করেন। পরে করাদেশের বিরুদ্ধে আপিল করা হয়। প্রথম আপিল আদেশ অনুযায়ী সংশোধিত করাদেশেও মোট ১২১ কোটি ৪০ লাখ টাকা আয়কর ধার্য করা হয়। উক্ত আপিল আদেশের প্রেক্ষিতে দ্বিতীয় আপিলও করা হয়েছে, যা চলমান। গত জানুয়ারি মাসে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) এক সার্কুলারের মাধ্যমে গ্রামীণ ব্যাংকের আয়ের ওপর আরোপিত আয়কর, সুপারট্যাক্স ও ব্যবসায়িক মুনাফা আগামী ২০২০ সাল পর্যন্ত কর আওতার বাইরে রেখেছে।