কে এই জামাল খাশোগি?


আন্তর্জাতিক ডেস্ক, | Published: 08:11 PM, October 20, 2018

IMG

জামাল খাশোগি শুধু যে প্রখ্যাত সৌদি সাংবাদিক ছিলেন তা নয়। সমসাময়িকদের মাঝে তিনি ছিলেন অন্যতম বিচক্ষণ এবং দূরদৃষ্টিসম্পন্ন একজন রাজনৈতিক বিশ্লেষক। দীর্ঘ ৩০ বছরের সাংবাদিকতালব্ধ জ্ঞানকে কাজে লাগিয়ে খাশোগি নিজেকে এমন একটি অবস্থানে নিয়ে দাঁড় করিয়েছিলেন যা হয়তো খুব কম মানুষই পেরেছে। 

তুরস্কের ইস্তাম্বুলের সৌদি কনস্যুলেটের ভেতরে খোশোগির মৃত্যুর খবর সৌদি আরব স্বীকার করে নিলেও তার লাশ কোথায় রাখা আছে সে বিষয়টি চেপে গেছে সৌদি কর্তৃপক্ষ। 
৫৯ বছরে পা রাখা খাশোগির আগের পরিবারে রয়েছে চার সন্তান। সম্প্রতি হেটিস চেঞ্জিস নামের এক নারীর সাথে বিবাহবন্ধনে জড়ানোর কথা ছিলো সৌদি আরবের এই প্রথিতযশা সাংবাদিকের।

১৯৫৮ সালে মদিনায় জন্ম নেয়া খাশোগির সাথে সৌদি রাজপরিবারের সম্পর্ক যে আগে থেকে খারাপ ছিলো তা কিন্তু নয়। একটা সময় সৌদি রাজ পরিবারের খুব ঘনিষ্টজনদের মধ্যে একজন ছিলেন জামাল খাশোগি। তখন থেকেই সংস্কারবাদী হিসেবে রাজতন্ত্রের অনেক পুরোনো প্রথা এবং নীতিমালা নিয়ে প্রায়শই প্রশ্ন তুলতেন তিনি। 

তরুণ খাশোগির পড়াশোনা করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের ইন্ডিয়ানা বিশ্ববিদ্যালয়ে সাংবাদিকতা বিষয়ে। অধ্যয়ন শেষে সৌদি আরবের ইংরেজী পত্রিকা সৌদি গেজেটেই প্রতিবেদক হিসেবে সাংবাদিকতা জীবনের সূচনা করেন। ১৯৮৭ সাল থেকে ১৯৯০ সাল পর‌্যন্ত কাজ করেন লন্ডনভিত্তিক সৌদি মালিকানাধীন আসার্ক আল-আওসাট দৈনিকে। এরপর দীর্ঘ আট বছর লেখালেখি করেন প্যান-আরব আল-হায়াত সংবাদপত্রে। নব্বইয়ের দশকে আফগানিস্তান, আরজেরিয়া, কুয়েত এবং মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে গিয়ে বড় ইভেন্ট কাভার করে পরিচিত পান জামাল খাশোগি। আল-কায়েদা নেতা হিসেবে আত্ম-প্রকাশ ঘটার আগে ওসামা বিন লাদেনের একাধিক সাক্ষাতকার নিয়েছিলেন সৌদি এই সাংবাদিক।

১৯৯৯ সালে সৌদি সরকার নিয়ন্ত্রিত পত্রিকা আরব নিউজের ডেপুটি এডিটর হিসেবে দীর্ঘ ৪ বছর কাজ করেছেন। এরপরই আল-ওয়াটান পত্রিকার এডিটর-ইন-চীফ হিসেবে যোগ দেন জামাল খাশোগি। যদিও সম্পাদকীয় পলিসির কারণে ২০০৩ সালে তাকে ওই পদ থেকে সরিয়ে দেয়া হয়। 

সৌদি আরবের জেনারেল ইন্টিলিজেন্সের পরিচালক এবং ২০০৫ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত জাতিসংঘে নিযুক্ত সৌদি দূত হিসেবে কাজ করা যুবরাজ তুর্কি বিন ফয়সালের মিডিয়া অ্যাডভাইজর ছিলেন জামাল খাশোগি। ২০০৭ সালে খাশোগি পুনরায় আল-ওয়াতান পত্রিকায় সম্পাদক হিসেবে যোগ দিয়ে সাংবাদিকতা জগতে ফিরে আসে। কিন্তু সেখানেও বেশিদিন ঠিকতে পারেননি। ২০১০ সালে তাকে চাকুরী থেকে জোরপূর্বক সরিয়ে দেয়া হয়। একই বছর তিনি পুনরায় আল-আরব নিউজ চ্যানেলের জেনারেল ম্যানেজার হিসেবে নিয়োগ পান। আর এই চ্যানেলটির মালিকানা ছিলো সৌদি প্রিন্স আলওয়ালিদ বিন তালালের। এই চ্যানেলের সম্প্রচার হতো বাহরাইনের মানামা থেকে। কিন্তু এখানেও বিপত্তি ২০১৫ সালের ফেব্রুয়ারি যাত্রা শুরু করা এই চ্যানেলটি একদিনের মাথায় বন্ধ হয়ে যায়।

এরপরই সৌদি এবং আরবের বেশকয়েকটি চ্যানেলে রাজনৈতিক বিশ্লেষক হিসেবে আবির্ভূত হন খাশোগি। আর তখন থেকেই সৌদি ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমানের সংস্কার নীতিমালার কঠোর সমালোচক বনে যান তিনি। শেষ পর্যন্ত গ্রেপ্তার আতঙ্কে নিজ দেশের ঠিকতে না পেরে সেচ্চায় যুক্তরাষ্ট্রে নির্বাসন নেন। সেখানে ওয়াশিংটন পোস্টের কলামিস্ট হিসেবে কাজও পেয়েছিলেন। কিন্তু জীবনের চরাই-উতরাইয়ের এই ধাপে এসেই যে ইতি টানতে হবে তা হয়তো ভাবেননি কোনদিন। আর সেই দিনটি ছিলো ২ অক্টোবর। ব্যক্তিগতকাজে ইস্তাম্বুলের সৌদি কনস্যুলেটে ঢোকার পরই শেষ হয় জীবন্ত জামাল খাশোগি উপাখ্যান।