আহমদ শফীকে স্বাধীনতা পদক দেয়ার দাবি


, নিজস্ব প্রতিবেদক : | Published: 03:52 PM, November 04, 2018

IMG

হেফাজতে ইসলামের আমির শাহ আহমদ শফীকে স্বাধীনতা পদক দেওয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রীকে আহ্বান জানিয়েছেন মাওলানা ফরীদ ঊদ্দীন মাসঊদ। কওমি সনদের স্বীকৃতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে সংবর্ধনা দেওয়ায় আল-হাইয়াতুল উলিয়া লিল জামিয়াতিল কওমিয়া বাংলাদেশে এই শোকরানা মাহফিলে মাওলানা ফরীদ উদ্দীন মাসউদ এ দাবি জানান।

তিনি বলেন, আমি প্রধানমন্ত্রীর প্রতি দুটি আহ্বান জানাব। একটি হলো হেফাজতে ইসলামের আমির শাহ আহমদ শফীকে স্বাধীনতা পদক। আরেকটি হলো দেশের মসজিদগুলোর ইমাম ও মুয়াজ্জিনদের ভাতা প্রদান। একজন ইমামকে মাসে পাঁচ হাজার টাকা ও মুয়াজ্জিনকে তিন হাজার টাকা প্রদানের কথা বলেন তিনি।

মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, যারা সন্ত্রাসী তাদের কোনো ধর্ম নেই, দেশ নেই, কোনো সমাজ নেই—তারা হচ্ছে সন্ত্রাসী, জঙ্গিবাদী। যারা সত্যিকার ইসলাম ধর্মে বিশ্বাস করে, তারা কখনো সন্ত্রাসী-জঙ্গিবাদী হতে পারে না।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, সোশ্যাল মিডিয়াতে নানা ধরনের অপপ্রচার চালানো হয়, এই অপপ্রচারে কেউ বিশ্বাস করবেন না। এই অপপ্রচার বন্ধ করার জন্য ইতিমধ্যে সাইবার ক্রাইম আইন তৈরি করা হয়েছে। কেউ যদি এই ধরনের মিথ্যা অপপ্রচার করে, সঙ্গে সঙ্গে সেই আইন দ্বারা তাদের বিচার করা হবে, গ্রেপ্তার করা হবে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, দেশের শান্তি বিঘ্নিত হোক, তা আমরা চাই না। দেশে শান্তি থাকলেই উন্নতি হবে। উন্নতি থাকলে, সবাই লাভবান হবে। আপনারা আমাদের উন্নতি দেখেছেন। তৃণমূলে গ্রাম পর্যায়ে পর্যন্ত উন্নয়ন করা হয়েছে। আমরা চাই বাংলাদেশে কোনো মানুষ ভিক্ষা করবে না। প্রত্যেক মানুষের খাদ্যের ব্যবস্থা করব। প্রতিবন্ধী, অসুস্থদের জন্য ভাতার ব্যবস্থা করে দিয়েছি, তাদের জন্য বিনা পয়সার খাদ্যের ব্যবস্থা করে দিয়েছি।

বাংলাদেশের মাটিতে কোনো জঙ্গিবাদের স্থান হবে না জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের মাটিতে কোনো সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ, মাদক, দুর্নীতির স্থান হবে না। বাংলাদেশ একটি শান্তিপূর্ণ, উন্নত ও সমৃদ্ধিশালী দেশ হবে। সামান্য কয়েকটা লোক আমাদের ধর্মের (ইসলাম) নামে জঙ্গিবাদ সৃষ্টি করে ইসলাম ধর্মের বদনাম দেয়।

কওমি মাদ্রাসাগুলোর সর্বোচ্চ সংস্থা ‘হাইআতুল উলয়া লিল জামিয়াতিল কওমি বাংলাদেশ’-এর ব্যানারে এই শুকরানা মাহফিলে সভাপতিত্ব করেন হেফাজতে ইসলামের আমির আল্লামা শাহ আহমদ শফী।

তিনি লিখিত বক্তব্যে কওমি শিক্ষার সনদের স্বীকৃতি দেওয়ায় প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর এই অবদান ইতিহাসে সোনালি অক্ষরে লেখা থাকবে। তিনি ওলামাদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মিথ্যা ও হয়রানিমূলক মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানান। আল্লামা শফী শুকরিয়া স্মারক প্রধানমন্ত্রীর হাতে তুলে দেন।











জাতীয় বিভাগের আরও সংবাদ