আগামী বাজেটের সময় এমপিওভুক্তি নিয়ে সিদ্ধান্ত: প্রধানমন্ত্রী


Hasib, | Published: 09:10 PM, January 17, 2018

IMG

সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান জাতীয়করণ ও এমপিওভুক্ত করণের বিষয়টি সরকারের বিবেচনায় রয়েছে। আমরা নীতিমালার ভিত্তিতেই শিক্ষা প্রতিষ্ঠান জাতীয়করণ করে যাচ্ছি। বিষয়টি আমরা নিশ্চয়ই বিবেচনা করব এবং পরবর্তী বাজেট যখন আসবে তখন সিদ্ধান্ত নিতে পারব।

তিনি আরও বলেন, স্কুল-কলেজ সরকারিকরণ বা এমপিওভুক্ত নীতিমালার ভিত্তিতেই হবে। কোন স্কুলে ছাত্র-ছাত্রী কত, শিক্ষার মান কেমন, শিক্ষকদেরও যোগ্যতা কেমন এবং স্কুলটি জাতীয়করণের যোগ্য কি না তা দেখতে হবে।

আজ বুধবার জাতীয় সংসদ অধিবেশনে প্রশ্নোত্তর পর্বে তিনি এ কথা বলেন।

স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে সংসদ অধিবেশনে তরীকত ফেডারেশনের সভাপতি সৈয়দ নজিবুল বশর মাইজভান্ডারীর সম্পুরক প্রশ্নের জবাবে তিনি আরো বলেন, স্বাধীনতার পর জাতির পিতাই সর্বপ্রথম প্রায় ৩৬ হাজার স্কুলকে সরকারিকরণ করেছিলেন। এরপর আবার আওয়ামী লীগ ২০০৯ সালে যখন সরকার গঠন করল তখন আমরা ২৬ হাজার স্কুল সরকারি করে দিয়েছি। তখন কিন্তু একটা কথা ছিল যে আর কোনো স্কুলকে সরকারিকরণের দাবি করা যাবে না, এমপিওভুক্ত করলেই হবে। এরপর অনেক স্কুলকে এমপিওভুক্ত করে দিয়েছি। এরপর দেখলাম আবার শিক্ষকরা আন্দোলন শুরু করলেন।

শেখ হাসিনা বলেন, প্রত্যেক এলাকায় কোথায় কত স্কুল হবে, কয়টা স্কুল প্রয়োজন- সেগুলো কিন্তু একটা হিসাব করে সেভাবে তৈরি করার নীতিমালা আমরা করে দিয়েছি। সেভাবেই করা হচ্ছে।

জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য ফখরুল ইমামের সম্পুরক প্রশ্নের জবাবে সংসদ নেতা বলেন, নির্বাচন এলেই দেশের একটি শ্রেণি আছে তারা মাথা চাড়া দিয়ে উঠে। দেশে অসাংবিধানিক শাসন বা জরুরি অবস্থা আসলে তাদের গুরুত্ব বাড়ে। এদের মাথায় একটাই জিনিস থাকে যদি অস্বাভাবিক, অসাংবিধানিক, মার্শাল ল’ বা জরুরি অবস্থা কখন আসবে, তাদের গুরুত্ব পাবে। এই শ্রেণির মানুষরা আঁকাবাঁকা বা অবৈধপথে ক্ষমতায় যাওয়ার স্বপ্ন দেখে। জনগণের ভোট পাবে না বলে তাদের নির্বাচনে আসার সাহস নেই।

তিনি আরো বলেন, ওয়ান ইলেভেনের সময়ও তারা ক্ষমতায় যাওয়ার স্বপ্ন দেখেছিল। আর ২০১৩ সালেও বিএনপি নেত্রী (খালেদা জিয়া) নির্বাচন বানচাল করে আঁকা-বাঁকা পথে ক্ষমতায় যেতে চেয়েছিলেন। তাদের স্বপ্ন পূরণ হয়নি। এই শ্রেণির মানুষরা দেশ ও দেশের মানুষের জন্য যন্ত্রণাদায়ক।

জাসদ দলীয় সংসদ সদস্য নাজমুল হক প্রধানের প্রশ্নের জবাবে শেখ হাসিনা বলেন, বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকার দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা ও জনগণকে ন্যায় বিচার দেওয়ার লক্ষ্যে বিশেষ ভূমিকা রাখছে। ’৭৫-এর ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে নির্মমভাবে হত্যার পর খুনি মোশতাক ও জিয়ারা খুনীদের বিচার বন্ধ করে পুরস্কৃত করে। আত্মস্বীকৃত খুনীদের রাজনৈতিকভাবে প্রতিষ্ঠিত করার অপচেষ্টা করা হয়।