ছাত্রলীগের ‘যা করণীয়’ করতে হবে: নানক


, | Published: 10:26 AM, January 26, 2018

IMG

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের বিভিন্ন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে ছাত্রলীগকে নির্দেশ দিয়েছে আওয়ামী লীগ।

গতকাল বৃহস্পতিবার বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয়ে সন্ধ্যা ছয়টা থেকে রাত পৌনে ১১টা পর্যন্ত ছাত্রলীগ নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানক এবং সাংগঠনিক সম্পাদক এ কে এম এনামুল হক শামীম।

ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় নির্বাহী সংসদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও ঢাকার বিভিন্ন শাখা ছাত্রলীগ নেতাদের সঙ্গে জরুরি বৈঠকটি করেন আওয়ামী লীগ নেতারা। আওয়ামী লীগের সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের নির্দেশে এ বৈঠক করেন তাঁরা।

বৈঠকে ঢাকার সাত কলেজকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত করার ফলে সৃষ্ট পক্ষ-বিপক্ষের আন্দোলন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের কার্যালয় ভাঙচুর এবং তাঁকে উদ্ধার করতে গিয়ে ছাত্রলীগের সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ার বিষয়ে ছাত্রনেতাদের বক্তব্য শোনেন আওয়ামী লীগ নেতারা।

বৈঠক শেষে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানক সাংবাদিকদের বলেন, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে একটি মহল বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শান্তিশৃঙ্খলা বিনষ্ট করার চেষ্টা করছে। ২৩ তারিখ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের ঘটনাটি পরিকল্পিত।

জাহাঙ্গীর কবির নানক বলেন, বিভিন্ন বাম ছাত্রসংগঠনের ব্যানারে বহিরাগতরা সেখানে গিয়েছিল। তারা উপাচার্যের কার্যালয় ভাঙচুর ও তাঁকে অবরুদ্ধ করে রেখেছিল। তারা পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে নিয়ে গিয়েছিল যে, যেকোনো অঘটন সেদিন তারা ঘটাতে পারত। তিনি বলেন, এ অবস্থায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী হিসেবে ছাত্রলীগ উপাচার্যকে উদ্ধার করতে এগিয়ে যায়। যেকোনো পরিস্থিতিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যেকোনো মূল্যে শান্তি বজায় রাখতে হবে।

ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নেতারা বৈঠকে অভিযোগ করেন, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে 'তথাকথিত আন্দোলনের' নামে ক্যাম্পাসে অস্থিতীশীল পরিবেশ সৃষ্টির জন্যই এই আন্দোলন করছে কতিপয় বাম ছাত্রসংগঠন। তারা আসলে নির্বাচনী পরিবেশ ঘোলা এবং নির্বাচনের আগ মুহূর্তে শিক্ষার পরিবেশ নষ্ট করতে চায়।

ছাত্রলীগ নেতারা আরও অভিযোগ করেন, ছাত্রলীগকে নিয়ে গণমাধ্যমও 'অপপ্রচারে' লিপ্ত হয়েছে। ছাত্রলীগ কোনো হামলার সঙ্গে জড়িত হয়নি বরং উপাচার্যকে উদ্ধার করতে গিয়ে আক্রমণের শিকার হয়েছে। এখনো অনেক ছাত্রলীগ কর্মী হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিচ্ছে। বাম সংগঠনগুলো অন্যদের দ্বারা প্ররোচিত হয়ে ক্যাম্পাসে অস্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টি করতে চায়। তাদের মধ্যে অনেকেই বহিরাগত। ক্যাম্পাসে ছাত্রত্ব নেই।

দলের সাংগঠনিক সম্পাদক এনামুল হক শামীম সাংবাদিকদের বলেন, 'আমরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অনাকাঙ্খিত ঘটনার জন্য ছাত্রলীগের নেতৃবৃন্দকে নিয়ে বসেছিলাম। তাঁদের বক্তব্য শুনেছি। আমরা নির্দেশ দিয়েছি, কারও উসকানিতে কান না দিতে। কারণ, জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে সরকারকে বেকায়দায় ফেলতে নানামুখী ষড়যন্ত্র হতে পারে। তাই ক্যাম্পাসে অরাজক পরিস্থিতির পাঁয়তারা হতে পারে।'

এনামুল হক শামীম বলেন, যে ঘটনা ঘটেছে, তার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এতে যদি ছাত্রলীগও জড়িত থাকে, তাহলে তাদেরও শাস্তি পেতে হবে।

বৈঠক সূত্র জানায়, রুদ্ধদার বৈঠকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিস্থিতি ছাড়াও ছাত্রলীগের আসন্ন সম্মেলন নিয়ে কথা বলেন সংগঠনের নেতারা। ছাত্রলীগ আওয়ামী লীগের এই দুই শীর্ষ নেতার কাছে দাবি করেন, একাদশ জাতীয় সম্মেলন সামনে রেখে এই মুহুর্তে ছাত্রলীগের সম্মেলন করাটা কতটা যুক্তিযুত হচ্ছে? তা আওয়ামী লীগকে ভেবে দেখতে হবে। 

তবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা চাইলে ছাত্রলীগ সম্মেলন দিতে প্রস্তুত। নেত্রীর কথাই শেষ কথা। তবে যদি নির্ধারিত ৩১ মার্চ সম্মেলন হয়, তাহলে ম্যাচিউরিটি সম্পন্ন নেতৃত্ব যেন উঠে আসে, সে দিকে দৃষ্টি দিতে হবে। শুধু সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকই নয়, অন্যান্য নেতৃত্বের বিষয়টি দেখতে হবে। যেন নতুন নেতৃত্ব আগামী নির্বাচনে ভূমিকা রাখতে পারে।

এ সময় আওয়ামী লীগের নেতারা ছাত্রলীগের উদ্দেশে বলেন, কথাগুলো নিয়ে দলীয় ফোরামে আলোচনা হবে। নেত্রীর কাছে তুলে ধরা হবে। তবে এই মুহুর্তে ক্যাম্পাসে শান্তিপূর্ণ অবস্থা বিরাজ করতে যা যা করণীয় তা ছাত্রলীগকে করতে হবে।

ছাত্রলীগের সভাপতি সাইফুর রহমান সোহাগের সভাপতিত্বে কেন্দ্রীয়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এবং ঢাকার বিভিন্ন শাখা ছাত্রলীগের নেতারা বৈঠকে বক্তব্য দেন।

গত মঙ্গলবার ছাত্রী নিপীড়নে অভিযুক্ত ছাত্রলীগ নেতাদের বহিষ্কারের দাবিসহ চার দফা দাবিতে প্রশাসনিক ভবনের ফটক ভেঙে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য মো. আখতারুজ্জামানকে অবরুদ্ধ করেন শিক্ষার্থীরা। সেখানে অবস্থানরত শিক্ষার্থীদের পিটিয়ে উপাচার্যকে ‘উদ্ধার’ করেন ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা। এ ঘটনায় অন্তত ৪০ জন আহত হন।