বাংলা একাডেমি পুরস্কার জিতে রেকর্ড গড়লেন ডা. মামুন হোসাইন


সেন্ট্রাল ডেস্ক, | Published: 11:45 PM, January 27, 2018

IMG

বাংলা একাডেমি পুরস্কার ২০১৭ ঘোষণা করা হয়েছে। এ বছর বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদান রাখায় ১০ বিভাগে ১২ জন বিশিষ্ট কবি, লেখক ও গবেষককে এ পুরস্কার দেওয়া হচ্ছে।

এই পুরস্কার বিজয়ী প্রত্যককেই ১ লাখ টাকা করে পাবেন। এ ছাড়াও তাদেরকে ক্রেস্ট ও সনদপত্র প্রদান করা হবে। 

এবার কবিতায় যথাক্রমে মো. সাদিক ও মারুফুল ইসলাম, কথাসাহিত্যে ডা. মামুন হোসাইন, প্রবন্ধে মাহাবুবুল হক, গবেষণায় অধ্যাপক রফিকুল্লাহ খান, অনুবাদে আমিনুল আসলাম ভুইয়া, মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক সাহিত্যে যথাক্রমে কামরুল হাসান ভুইয়া ও সুরমা জাহিদ, আত্মজীবনী/স্মৃতিকথা/ভ্রমণকাহিনীতে শাকুর জাহিদ, নাটকে মলয় ভৌমিক, বিজ্ঞান প্রযুক্তি ও পরিবেশে মুস্তাক আহমেদ ও শিল্পসাহিত্যে ঝর্ণা দাস বাংলা একাডেমি পুরস্কার পাচ্ছেন।

তবে সবাইকে ছাপিয়ে আলোচনায় এসেছেন ডা. মামুন হোসাইন। সাম্প্রতিক কালে দেশের কোন চিকিৎসক সাহিত্য কর্মের জন্য এমন বড় কোন পুরস্কার পাননি।

এ বিষয়ে ডা. জয়দ্বীপ ভাদুরী তার ফেসবুকে লিখেছেন, ‘অধ্যাপক ডা. মামুন হুসাইন। রাজশাহী মেডিকেল কলেজের মনোরোগ বিভাগ এর বিভাগীয় প্রধান। আমাদের অনেকের কাছে এটাই তার বড় পরিচয়। কেউ কেউ তার বড় মাপের সাহিত্যকর্মের খবর রাখেন। সবাই রাখেননা কেননা তার উচ্চমানের কাছে পৌঁছানোর যোগ্যতা আমাদের অনেকের নেই। এই মুহুর্তে তার আরেকটি বড় পরিচয়, তিনি বাংলা একাডেমী পুরষ্কার প্রাপ্ত। অল্প কিছুক্ষণ আগে ঘোষণা হয়েছে। এই আনন্দ সংবাদটি শোনামাত্র গেলাম তাকে অভিনন্দন জানাতে। কিন্তু চিকিতসকের কর্তব্য তাকে এই আনন্দ সংবাদে উদ্বেলিত হতে দিচ্ছেনা। যথারীতি চিকিতসা প্রদান করে যাচ্ছেন। কে বলবে বাংলাদেশের অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ অবস্থানটি উনি কিছুক্ষণ আগে পেয়েছেন। রাজশাহী মেডিকেল কলেজ এবং সকল চিকিতসকদের পক্ষ থেকে তাকে আন্তরিক অভিনন্দন এবং শ্রদ্ধা। তিনি রাজশাহী মেডিকেল কলেজের ২১ তম ব্যাচের ছাত্র।’

এ নিয়ে প্রফেসর ডা.মামুন হুসাইনের ছাত্র, ডা. রাজিকুল ইসলাম রাজিব বলেন, ‘মানুষের মনের চিকিৎসা করেন তিনি। শুধু কাগজে ঔষধের নাম লিখে দেন না। সময় নিয়ে রোগীর সাথে গল্প করেন। রোগীর ভাষ্য মতে চেম্বারেই অর্ধেক অসুখ ভাল হয়ে যায়। স্যার শুধু একজন বড় মাপের চিকিৎসকই নন। একই সাথে তিনি একজন কথার জাদুকর। ঘন্টার পর ঘন্টা কথার জাদুতে শ্রোতাকে বশ করে রাখতে পারেন। শুদ্ধ উচ্চারণের বাগ্মীর প্রকৃষ্ট উদাহরণ তিনি।তবে সব কিছু ছাপিয়ে তিনি একজন লেখক। বড় মাপের কথা সাহিত্যিক। গল্প লিখেন, বাস্তব জীবনের গল্প। এবছর কথা সাহিত্যে বাংলা একাডেমী পুরষ্কারে তার নাম ভূষিত হয়েছে।আমি এবং স্যার একই গোষ্ঠীভুক্ত(চিকিৎসক) ।একারণে খুব ভাল লাগছে।ব্যধিগ্রস্থ মনটি শিহরিত হচ্ছে। মানব দেহের হাজারো কর্কট ব্যধির চিকিৎসা দিয়ে আর সাদা এপ্রোনে পুঁজ ও রক্ত মেখে আমরা গল্প লিখতে পারি,গল্প শোনাতে পারি।বাস্তব জীবনের গল্প।স্যারকে অনেক... অনেক....অনেক...অভিনন্দন।’