ডা. জোবায়দাকে শীর্ষ পদে নিতে আইনি পর্যালোচনা শুরু করেছে বিএনপি


, | Published: 09:30 PM, January 28, 2018

IMG

হাসিবুর রহমান: বিএনপি ধরেই নিয়েছে খালেদা জিয়া আদালতে চলমান মামলায় সাজা পেতে যাচ্ছেন। এই মামলার পরবর্তী ধাপ, আপিল এবং রিভিউয়ের কার্যক্রমও আগামী ৬ মাসের মধ্যে শেষ হয়ে যাবে বলে বিএনপির ধারণা। সে ক্ষেত্রে পরবর্তী নির্বাচনে লড়াই করার অযোগ্য হয়ে পড়বেন বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া।

এই সমীকরণকে মাথায় নিয়ে দলের শীর্ষ পর্যায়ে জরুরি পরিবর্তনের চেষ্টা করছে দলটি। খালেদা জিয়াকে দায়িত্বে রেখে বা না রেখে যে কোন ভাবেই হোক, তারেক রহমানের সহধর্মিনী ডা. জোবায়দা রহমানকে দলের হাল ধরানোর চিন্তা করছে দলটি।

বিএনপির নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে, গতকাল রাতে বিএনপির স্থায়ী কমিটির জরুরি বৈঠকে বিএনপি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। দলটি এখন তাদের দলীয় সংবিধান সংশোধন করে জোবায়দা রহমানকে অন্তর্ভূক্তির বিষয়টি ভাবছে।

এরই অংশ হিসেবে জরুরি ভিত্তিতে নির্বাচন কমিশনে (ইসি) গিয়েছে বিএনপির প্রতিনিধি দল। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান তিন সদস্যবিশিষ্ট প্রতিনিধি দলের নেতৃত্বে দিচ্ছেন।

আজ রোববার বিকেল ৪টায় ইসি কার্যালয়ে বিএনপির প্রতিনিধি দল পৌঁছেছে। নজরুল ইসলাম খান ছাড়াও প্রতিনিধি দলে বিএনপির আরো দু’জন নেতা রয়েছেন।

বিএনপির মিডিয়া উইংয়ের সদস্য শাইরুল কবির খান জানিয়েছেন, দলের গঠনতন্ত্র-সংক্রান্ত কাজে নির্বাচন কমিশনে বিএনপির প্রতিনিধিরা যাচ্ছেন।

বিএনপির শীর্ষ পর্যায়ে ডা. জোবায়দা রহমানকে অন্তর্ভূক্তির বিষয়টি দীর্ঘদিন ধরেই আলোচনায় রয়েছে। ২০১৬ সালে দলীয় কাউন্সিলের পর যখন স্থায়ী কমিটি পূনর্গঠন করা হয় তখনই জোবায়দাকে নিয়ে আসার বিষয়টি আলোচনায় আসে। তবে অজানা কারণে তখন তাকে দলীয় কোন পদে আনা হয়নি। তবে সে সময় স্থায়ী কমিটির দুটি পদ খালি রেখে দেওয়া হয়।

বিএনপির এই সূত্রটি বলছে, নির্বাচনে খালেদা জিয়াকে অযোগ্য করতে সরকার প্রাণপন চেষ্টা চালাবে এই বিষয়টি আগে থেকেই দলটির সর্বোচ্চ ফোরামের আলোচনায় রয়েছে। সে ক্ষেত্রে ডা. জোবায়দাকে দায়িত্ব নিতে হবে এই আলোচনাও অনেক পুরাতন। এই বিষয়টি মাথায় রেখে ‘অবস্থা বুঝে ব্যবস্থা’ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় দলটি।

তারই ধারাবাহিকতায় এবার জোবায়দা রহমানকে সামনে আনা হচ্ছে। এজন্য আইনি পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনা করতেই বিএনপির প্রতিনিধি দল ইসিতে গিয়েছে।

সূত্রটি আরও বলছে, যত আগে আনা হবে ডা. জোবায়দা ততই মামলা-হামলার ঝামেলায় পড়বেন, এমন আশঙ্কা আছে বিএনপি। সেজন্যই তার দায়িত্ব নেওয়ার বিষয়টি নিয়ে এতদিন বিএনপির কোনো নেতা মুখ খোলেননি। কিন্তু এখন যেহেতু আর উপায় নেই তাই এবার বিএনপি এই পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে।

জোবায়দা রহমানকে দলের চেয়ারপারসনের দায়িত্ব দেওয়া হলে এটি হবে দলটির সর্বোচ্চ পর্যায়ে প্রায় ৩দশক পরে পরিবর্তন। তবে জোবায়দাকে কোন পদে, কিভাবে আনা হবে তা চূড়ান্ত ঘোষণা না আসা পর্যন্ত বলা যাচ্ছে না।