৬ষ্ঠ দিনেও চলছে বেনাপোল বন্দরের কর্মবিরতি


যশোর প্রতিনিধি, | Published: 08:35 PM, January 29, 2018

IMG

যশোর প্রতিনিধি: ভারতীয় কাস্টমস ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে পণ্যবাহী ট্রাকের কার পাস সংক্রান্ত জটিলতার কোনো অবসান না হওয়ায় টানা ৬ দিনের কর্মবিরতিতে অচলাবস্থার মধ্যে পড়েছে বন্দরের কার্যক্রম। আটকে থাকা পণ্যে এ পর্যন্ত ব্যবসায়ীদের লোকসান গুণতে হয়েছে প্রায় ১০ কোটি টাকা।

এদিকে চলমান সমস্যা নিয়ে কাস্টমস ও ব্যবসায়ীরা অনড় অবস্থানে থাকায় কবে নাগাদ বাণিজ্য স্বাভাবিক হবে তা অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। কর্মবিরতি আরো দীর্ঘায়িত হলে বড় ধরনের ক্ষতির আশঙ্কা করছেন ব্যবসায়ীরা।

বাংলাদেশি ব্যবসায়ীরা বলছেন, এসব লোকসানের বোঝা কেবল তাদের গুণতে হয়। তাই দ্রুত সমাধান প্রয়োজন। অন্যদিকে বন্দর কর্তৃপক্ষ বলছে, বিষয়টি ভারতের আভ্যন্তরীণ বিষয় হলেও বাণিজ্য সচলে তারা দুই পক্ষের সাথে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছেন।

বুধবার (২৪ জানুয়ারি) বিকেল থেকে সোমবার (২৯ জানুয়ারি) সন্ধ্যা পর্যন্ত এ পথে ভারতের সাথে সব ধরনের পণ্যের আমদানি-রফতানি বাণিজ্য বন্ধ ছিল।

জানা যায়, যোগাযোগ ব্যবস্থা সহজ হওয়াতে প্রথম থেকে এ পথে মাত্র ৫ ঘণ্টায় কাগজ পত্রের আনুষ্ঠানিকতা সম্পূর্ণ করে একটি পণ্যবাহী ট্রাক কলকাতা থেকে রওনা দিয়ে পৌঁছাতে পারে বেনাপোল বন্দরে। তেমনি একই সময়ে বেনাপোল বন্দর থেকে রফতানি পণ্যবাহী ট্রাক পৌঁছায় কলকাতায়।

প্রতিদিন ভারত থেকে এ পথে আমদানি হয় প্রায় ৫শ’ ট্রাক পণ্য আর বাংলাদেশি পণ্য রফতানি হয় ভারতে দেড়শ ট্রাক। প্রতিবছর আমদানি পণ্য থেকে সরকার প্রায় ৫ হাজার টাকা রাজস্ব আয় করে থাকে। কিন্তু বন্দরে কোনো সমস্যা দেখা দিলে কর্মবিরতি আর ধর্মঘটে মাঝে মাঝে বেকায়দায় পড়তে হয় ব্যবসায়ীদের।

ভারতের পেট্রাপোল বন্দরের সিঅ্যান্ডএফ স্টাফ অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক কার্তিক চক্রবর্তী জানান, এ পর্যন্ত দুই পক্ষের মধ্যে কোনো সমাধান না হওয়ায় কর্মবিরতি অব্যাহত রয়েছে। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত কর্মবিরতি চলবে বলেও জানান তিনি।

বেনাপোল বন্দরের আমদানি-রফতানি সমিতির সহসভাপতি আমিনুল হক বলেন, আমদানি বন্ধ থাকায় ট্রাক ভাড়াসহ অনান্য খরচ মিলিয়ে প্রায় ১০ কোটি টাকার লোকসান গুণতে হয়েছে ব্যবসায়ীদের।

বেনাপোল বন্দরের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক (ট্রাফিক) আমিনুল ইসলাম জানান, এটি ভারতের আভ্যন্তরীণ বিষয় হলেও তার প্রভাব পড়েছে বেনাপোল বন্দরে। দাবি নিয়ে দুই পক্ষ অনড় অবস্থানে থাকায় সমাধান জটিল হয়ে পড়েছে।

এর আগে গত বুধবার (২৪ জানুয়ারি) বিকাল থেকে সিঅ্যান্ডএফ কর্মচারী কর্তৃক পণ্যবাহী ট্রাকের কার পাস সম্পূর্ণ করার দাবি নিয়ে কর্মবিরতি শুরু করে ভারতের পেট্রাপোল বন্দরে কয়েকটি সংগঠন।