ক্যাম্প ছেড়ে শহরমুখী রোহিঙ্গারা


কক্সবাজার প্রতিনিধি, | Published: 11:15 AM, February 04, 2018

IMG

উখিয়া ও টেকনাফের আশ্রয়শিবির ছেড়ে কক্সবাজার শহরে আসতে শুরু করেছে রোহিঙ্গারা। শহরের বেশ কিছু এলাকায় বাড়িভাড়া নিয়ে থাকছে তারা। এ কাজে কিছু দালাল সহায়তা করছেন বলে রোহিঙ্গারা জানিয়েছে। গত এক সপ্তাহে শহরের চারটি পাহাড়ি এলাকায় ঘুরে রোহিঙ্গা বসতির সন্ধান পাওয়া গেছে।

গত শুক্রবার কক্সবাজার শহরের লাইটহাউস পাহাড়ের ফাতেরঘোনা এলাকার একটি বাড়িতে গিয়ে পাওয়া যায় রোহিঙ্গা ছলিম উল্লাহকে। গত বৃহস্পতিবার রাতে পাঁচ সদস্যের পরিবার নিয়ে এই বাড়িতে উঠেছেন তিনি। মিয়ানমারে প্রত্যাবাসন এড়াতেই এখানে চলে এসেছেন বলে জানান তিনি। ফাতেরঘোনায় ঘরভাড়া পেতে তাঁর কোনো অসুবিধা হয়নি।

ছলিম উল্লাহকে ঘরভাড়া দিয়েছেন আবদুল কাদের নামের স্থানীয় এক বাসিন্দা। তাঁর বাড়িতে আরও তিনটি রোহিঙ্গা পরিবার ভাড়াটিয়া হিসেবে থাকছে।

রোহিঙ্গাদের ঘরভাড়া দেওয়ার বিষয়ে আবদুল কাদের বলেন, ফাতেরঘোনা, বৈদ্যঘোনা, খাজামঞ্জিলসহ বিভিন্ন পাহাড়ে কয়েক শ রোহিঙ্গা পরিবার থাকছে। এলাকার লোকজন তাদের ঘরভাড়া দিয়ে টাকা আয় করছেন। অন্যদের দেখাদেখি তিনি বাড়িভাড়া দিয়েছেন।

কেবল লাইটহাউসের ফাতেরঘোনা নয় শহরের পাহাড়তলী, ইসলামপুর, হালিমাপাড়া, জিয়ানগর এলাকায় রোহিঙ্গারা ঘরভাড়া করে থাকছে। রাতের অন্ধকারে পাহাড়ি পথে দালালদের সহায়তায় পুলিশের নজর এড়িয়ে উখিয়া থেকে রোহিঙ্গারা কক্সবাজার শহরে প্রবেশ করছে।

উখিয়া-টেকনাফের ১২টি আশ্রয়কেন্দ্রে এখন পর্যন্ত প্রায় ১১ লাখ রোহিঙ্গা আশ্রয় নিয়েছে। আশ্রয়কেন্দ্রগুলোর চারপাশে সীমানাপ্রাচীর বা কাটাতারের বেড়া নেই।

ফাতেরঘোনা এলাকার ব্যবসায়ী আমজাদ হোসেন বলেন, শহরে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের বেশির ভাগের আত্মীয়স্বজন সৌদি আরব, মালয়েশিয়া, অস্ট্রেলিয়া, কানাডা, দুবাইসহ বিভিন্ন দেশে থাকে।

শুক্রবার বিকেলে শহরের খাজা মঞ্জিল পাহাড়ে গিয়ে তিন পরিবারের ১৩ জন রোহিঙ্গার সঙ্গে কথা হয়। তাঁদের একজন কলিম উল্লাহ (৩৭)। তিনি বলেন, প্রত্যাবাসন এড়াতে তাঁরা রোহিঙ্গা শিবির ছেড়ে এখানে পালিয়ে এসেছেন।

শহরের জিয়ানগরে দিল মোহাম্মদ নামে এক ব্যক্তির বাড়িতে চার দিন ধরে থাকছে ১৬ জন রোহিঙ্গা। তিনি বলেন, ছয় বছর আগে তিনি মিয়ানমার থেকে পালিয়ে এসে এখানে আশ্রয় নিয়েছেন। বাড়িতে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গারা তাঁর আত্মীয়।

রোহিঙ্গাদের শহরে আশ্রয় নেওয়ার বিষয়ে কক্সবাজার পৌরসভার মেয়র (ভারপ্রাপ্ত) মাহবুবুর রহমান বলেন, কয়েক মাস আগে ৮০ হাজারের মতো রোহিঙ্গা শহরে এসেছিল। তাদের উখিয়ায় ফেরত পাঠানো হয়। সম্প্রতি কিছু রোহিঙ্গা শহরে ঢুকে পড়ছে। তাদের সংখ্যা কয়েক হাজার হতে পারে।

কক্সবাজার সদর মডেল থানার ওসি ফরিদ উদ্দিন খন্দকার বলেন, শহরের বিভিন্ন পাহাড়ে রোহিঙ্গারা আশ্রয় নিয়েছে—এমন খবর তাঁর জানা নেই।

কক্সবাজারের পুলিশ সুপার এ কে এম ইকবাল হোসেন বলেন, রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ ঠেকানোর জন্য কক্সবাজার-টেকনাফ সড়ক এবং মেরিন ড্রাইভ সড়কে চেকপোস্ট রয়েছে। গত জানুয়ারি মাসেও কয়েক শ রোহিঙ্গাকে উখিয়ার শিবিরে ফেরত পাঠিয়েছেন তাঁরা।

(সূত্র: প্রথম আলো)










জাতীয় বিভাগের আরও সংবাদ