সামনে এগোচ্ছে না আলাদা ভিআইপি লেনের প্রস্তাব


সেন্ট্রাল ডেস্ক, রাজধানী প্রতিবেদক | Published: 08:28 PM, February 09, 2018

IMG

রাজধানীতে জরুরি সেবা এবং অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের চলাচলের জন্য সড়কে আলাদা লেন চালুর বিষয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ যে প্রস্তাব দিয়েছে, সেটিকে বাস্তবসম্মত মনে করছে না ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষ।

কর্তৃপক্ষ বলছে রাজধানীর কিছু সড়ক চার লেনের, কিছু সড়ক ছয় লেনের। এর মধ্যে একটি লেন ছেড়ে দিলে বাকি সড়কে চাপ বেড়ে যাবে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন পদস্থ কর্মকর্তা বলেন, ‘ঢাকা শহরে সড়কে কি ভিআইপিদের জন্য আলাদা লেন করার মতো পর্যাপ্ত জায়গা আছে? তেমনটা নেই। সুতরাং এমন উদ্যোগ বাস্তবসম্মত নয়।’

সম্প্রতি মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষের কাছে এই প্রস্তাব যায়। সোমবার মন্ত্রিসভার বৈঠক শেষে মন্ত্রিপরিষদ সচিব শফিউল আলম এমন প্রস্তাব পাঠানোর কথা স্বীকার করেন।

জনাধিক্যের নগরে যাতায়াত এক নিত্য দুর্ভোগের নাম। অতিরিক্ত ব্যক্তিগত গাড়ি, কার্যকর গণপরিবহন ব্যবস্থা না থাকা, সড়কে শৃঙ্খলার অভাব, পর্যাপ্ত সড়ক না থাকা আর সড়কের একাংশ দখলে থাকা, মহানগরে চলাচলের জন্য রেলের ব্যবস্থা না থাকায় যানজট এক স্বাভাবিক চিত্র হয়ে গেছে রাজধানীতে। কোথাও যেত কতক্ষণ লাগবে, সে বিষয়ে নিশ্চয়তাই দেয়া যাচ্ছে না। আর প্রতিদিন একশরও বেশি নতুন গাড়ি সড়কে নামায় দিনকে দিন তীব্র হচ্ছে পরিস্থিতি।

সোমবার প্রস্তাবটির খবর জানাজানি হওয়ার পর থেকেই সামাজিক মাধ্যমে তীব্র প্রতিক্রিয়া চলছে। তবে প্রস্তাবটিতে পুলিশ, অ্যাম্বুলেন্সের মতো জরুরি সেবা ও ভিআইপিদের জন্য লেনের কথা বলা হলেও গণমাধ্যম ও সামাজিক মাধ্যমে গুরুত্ব পেয়েছে ভিআইপিদের বিষয়টি।

পরিবহন বিশেষজ্ঞ শামসুল হক বলেন, ‘আমাদের দেশে সাধারণ মানুষের চাহিদাই পূরণ হয় না। রাস্তায় কোনো বিকল্প নেই। সেখানে ভিআইপিদের আলাদা লেনের কোনো যৌক্তিকতা নেই।’

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের প্রস্তাবে বলা হয়েছে, বিশ্বের অনেক দেশেই জরুরি সেবার জন্য আলাদা লেন থাকে। এই বিষয়ে শামসুল হক বলেন, ‘বিশ্বের অন্যান্য দেশে অনেক বিকল্প থাকে। তাদের হিসেব আলাদা। আমাদের দেশে অ্যাম্বুলেন্স, ফায়ার সার্ভিসের জন্য আলাদা লেন দরকার। কিন্তু সেই রকম স্পেসও তো নেই আমাদের।’

এই প্রস্তাবের খবর প্রকাশ হওয়ার দিন মানবাধিকার কর্মী সুলতানা কামাল প্রস্তাব উত্থাপনকারীদের ধিক্কার জানিয়েছেন। সোমবার রাজধানীতে গণজাগরণ মঞ্চের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর আয়োজনে তিনি বলেন, ‘আমরা যখন স্বাধীনতার ৫০ বছর পূর্তি করতে যাচ্ছি, তখন শুনতে হচ্ছে মন্ত্রীরা তাদের জন্য সড়কে আলাদা লেইন চান। মুক্তিযুদ্ধ করে স্বাধীন হওয়া বাংলাদেশে যদি তাদের মনে এমন চিত্র থেকে থাকে, তাহলে তাদেরকে ধিক্কার জানাই।’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক আসিফ নজরুল পরদিন ফেসবুকে লিখেন, ‘বহুদিন গালি দেই না কাউকে। কিন্তু ভিআইপি লেন-এর খবর শুনে কী যে গালাগালি করতে ইচ্ছে করছে! কী যে বিরক্ত লাগছে! এদেশের মানুষকে বোধহয় চেনে না এরা ঠিকমতো। সুযোগ পেলে ছুটিয়ে দেবে এসব ভিআইপি-গিরি!‘

এই বিরূপ প্রতিক্রিয়ার পর যাদের কাছে প্রস্তাব গেছে, সেই ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয় তারা কী ভাবছে তা জানতে।

কর্তৃপক্ষের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন পদস্থ কর্মকর্তা বলেন, ‘জনমনে বিষয়টি প্রকাশ হওয়ায় ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। সে বিষয়টিকে মাথায় রেখেই মতামত দেয়া হবে। আর বাস্তবতায়ও সেই পরিস্থিতি নেই আমাদের। সুতরাং বিষয়টি হচ্ছে না তেমনটা বলা যায়।’

এদিকে ঢাকায় যান চলাচলে শৃঙ্খলা রক্ষায় কাজ করা পুলিশও এই প্রস্তাবটিকে বাস্তবসম্মত মনে করছে না। জানতে চাইলে ঢাকা মহানগর পুলিশের পশ্চিম বিভাগের উপকমিশনার লিটন কুমার রায় বলেন, ‘ভিআইপি বা অন্য কারও জন্য যে আলাদা লেন করবেন সে জায়গায়ই তো ঢাকায় নেই। তবে ভিআইপিদের জন্য যাতায়াতের জন্য আমরা নিয়মিত ব্যবস্থা নেই।’