নারী ইন্টার্ন চিকিৎসকের সাথে অশ্লীল আচরণ করলেন রাবি'র সহযোগী অধ্যাপক


রাজশাহী প্রতিনিধি, কান্ট্রি ডেস্ক | Published: 10:48 AM, February 16, 2018

IMG

রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের (রামেক) এক নারী ইন্টার্ন চিকিৎসকের সাথে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষকের অশ্লীল আচরণের ঘটনা ঘটেছে। এর প্রতিবাদে রামেকের ইন্টার্নরা ওই চিকিৎসকের সাথে বাগবিতণ্ডা করায় রাজশাহী-ঢাকা মহাসড়ক অবরোধ করে আন্দোলন করেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।

বৃহস্পতিবার বেলা ১১টা থেকে দুপুর পৌনে দুইটা পর্যন্ত তারা এ অবরোধ করেন। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন ভবনের সামনে গিয়ে তারা আন্দোলন করতে থাকেন।

বুধবার রাতে অশ্লীল আচরণ করা ওই শিক্ষক বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক।

এ নিয়ে আন্দোলন করা শিক্ষার্থীরা জানান, বুধবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে হাসপাতালে ভর্তি তার মেয়েকে দেখতে ৩০ নং ওয়ার্ড দিয়ে যাচ্ছিলেন ওই শিক্ষক। এসময় ওই ওয়ার্ডে কর্তব্যরত এক নারী ইন্টার্ন চিকিৎসকের সঙ্গে তাঁর ধাক্কা লাগে। এতে ওই নারী চিকিৎসক তাকে গালাগালি করলে তিনি তাকে ‘ননসেন্স’ বলে মন্তব্য করেন। পরে ওই ইন্টার্ন চিকিৎসক মোবাইল ফোনে বিষয়টি আরেক ইন্টার্ন চিকিৎসককে জানায়। পরে কয়েকজন ইন্টার্ন চিকিৎসক  ৩০ নং ওয়ার্ডে গিয়ে ওই শিক্ষককে মারধর করে।

ঘটনাটি জানতে পেরে রাজপাড়া থানার পুলিশ এসে ওই শিক্ষককে নিয়ে যায়।

তবে অশ্লীল আচরনের শিকার হওয়া ওই নারী ইন্টার্ন চিকিৎসক বলেন, ‘আমরা কয়েকজন ওটি (অপারেশন থিয়েটার) থেকে ২২ নম্বর ওয়ার্ডের দিকে যাচ্ছিলাম। এসময় ওই শিক্ষকের সাথে ধাক্কা লাগে। আমি উনাকে বলি, ‘আপনি দেখে চলবেন না?’ তখন তিনি আমাকে ননসেন্স বলেন। আমি বলি, আপনি কি বললেন? তখন তিনি আবারো আমাকে ‘ননসেন্স’ ও অশ্লীল-অকথ্য ভাষায় (প্রকাশ অযোগ্য) গালি দেন। এসময় আমার বন্ধুরা ক্ষিপ্ত হয়ে তাকে মারধর করেন এবং সরি বলতে বলেন। এসময় তিনি আইনের অধ্যাপক বলে নিজেকে পরিচয় দিয়ে সরি বলতে অস্বীকৃতি জানান।’

এরপর থানার পুলিশ এসে তাকে সেখান থেকে নিয়ে যায়।

এ ঘটনায় উল্টো বৃহস্পতিবার ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের সামনে থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করে ওই বিভাগের শিক্ষার্থীরা। পরে বিক্ষোভ মিছিলটি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটক রাজশাহী-ঢাকা মহাসড়কে এসে বিক্ষোভ সমাবেশ করে। ফলে রাস্তার দুপাশে দীর্ঘ এলাকায় যানজটের সৃষ্টি হয়। এসময় বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকেন শিক্ষার্থীরা।

নানা ঘটনার পর দুপুর দুইটার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক এম আব্দুস সোবহান প্রশাসন ভবনের সামনে এসে বলেন, এটা আইনি বিষয়। যদি ওই শিক্ষক মামলা করেন তবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তাকে সহায়তা করবে। এ সময় শিক্ষার্থীরা তাদের দাবির পক্ষে স্লোগান দিতে থাকলে উপাচার্য ঘটনাস্থল থেকে চলে যান।

মারধরের বিষয়ে কথা বলার জন্য ওই শিক্ষকের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি সে বিষয়ে কোন মন্তব্য করতে রাজি হননি।