৭ মার্চে গণজমায়েতের রেকর্ড করতে চায় আ’লীগ


রাজনৈতিক প্রতিবেদক, সেন্ট্রাল ডেস্ক | Published: 10:30 AM, February 24, 2018

IMG

ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ এবার ঐতিহাসিক ৭ মার্চ পালন করবে ভিন্ন আঙ্গিকে। স্বাধীনতার পর থেকে প্রতিবার যেভাবে ৭ মার্চ পালন করা হয় তা এবার পাবে ভিন্ন মাত্রা। কারণ বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণ এবার ইউনেস্কোর ওয়ার্ল্ডস ডকুমেন্টারি হেরিটেজের অংশ হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে। এ ধরনের একটি অর্জনের পর এবারের ৭ মার্চ পালন হবে বর্ণিলভাবে।

এ বিষয়ে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহণ ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেন, এবারের ৭ মার্চের জনসভায় নবজাগরণ দেখাতে চাই। ঢাকার রাজপথে জনতার ঢেউ দেখতে চায় দল। আমরা আশা করছি, স্মরণকালের সব রেকর্ড ভেঙে যাবে।

আওয়ামী লীগের নেতাদের সঙ্গে আলাপ করে জানা গেছে, এবার ঐতিহাসিক ৭ মার্চ পালন এবং সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে স্মরণকালের জমায়েতের জন্য ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে আওয়ামী লীগ। ঢাকা মহানগর ও ঢাকা জেলা ছাড়াও নারায়ণগঞ্জ, মুন্সীগঞ্জ, নরসিংদী, গাজীপুর ও মানিকগঞ্জ থেকে বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী বিভিন্ন শোভাযাত্রাসহ এ জনসভায় যোগ দেবেন। জনসভায় আসার জন্য বাস ছাড়াও ট্রেনের ব্যবস্থা করছে ক্ষমতাসীন দলটি।

আওয়ামী লীগ নেতারা জানান, এবারের ৭ মার্চ পালন শুধু জনসভার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না। বিভিন্ন ব্যানার, ফেস্টুন, প্লাকার্ডে বঙ্গবন্ধু ও শেখ হাসিনার ছবি দিয়ে ছেয়ে দেয়া হবে ঢাকা মহানগর। নগরীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে সরকারের ৯ বছরের উন্নয়নের চিত্র তুলে ধরে বিল বোর্ড স্থাপন করা হবে। বিভিন্ন পাড়া মহল্লা থেকে জনসভায় যোগ দিতে আসা মিছিলে থাকবে স্বাধীনতা সংগ্রাম, মুক্তিযুদ্ধের নিদর্শন। রাজাকার, আলবদর ও আল শামসদের নির্যাতন ও অত্যাচারের চিত্র থাকবে। বাদ্যযন্ত্রের তালে তালে নেচে গেয়ে যোগ দলের নেতাকর্মীরা যোগ দেবেন চিরচেনা সেই সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে।

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেন, ৭ মার্চ আমরা সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে জনসভা করব। জনসভা সফল করতে নেতাকর্মীদের প্রচারপত্র নিয়ে ঘরে ঘরে যাওয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। তাদের বলতে বলা হয়েছে, ‘৭ মার্চ বিশ্ব স্বীকৃত। একাত্তরের ৭ মার্চের মতো জনসমাবেশ করে এই স্বীকৃতিকে আমরা সম্মান দেব’।

তিনি বলেন, ঢাকা মহানগর ও ঢাকা জেলা ছাড়াও নারায়ণগঞ্জ, মুন্সীগঞ্জ, নরসিংদী, গাজীপুর ও মানিকগঞ্জ থেকে বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী বিভিন্ন শোভাযাত্রাসহ এ জনসভায় যোগ দেবেন। জনসভায় আসার জন্য বাস ছাড়াও ট্রেনের ব্যবস্থা করবে আওয়ামী লীগ।

৭ মার্চের প্রস্তুতি নিয়ে কথা হয় গাজীপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য জাহিদ আহসান রাসেলের সঙ্গে। তিনি বলেন, এবারের ৭ মার্চ শুধু বাঙালির নয়। ৭ মার্চের ভাষণের আবেগ এখন বিশ্ববাসীরও। ইউনেস্কো এ ভাষণের স্বীকৃতি দেয়ার পর এটা বিশ্ববাসীর সম্পদে পরিণত হয়েছে। এটা আমাদের জন্য অত্যন্ত গর্বের।

তিনি বলেন, এবার ঢাকায় ৭ মার্চের জনসভায় যোগ দিতে গাজীপুরবাসীও প্রস্তুতি নিচ্ছে। জনসভা সফল করতে আমরা বিভিন্ন ওয়ার্ডে প্রস্তুতি মিটিং করছি। ঢাকার জনসভা সফল করার জন্য সর্বস্তরের জনতাকে আহ্বান জানানো হচ্ছে।

ঢাকা-১৫ আসনের সংসদ সদস্য কামাল আহমেদ মজুমদার বলেন, ৭ মার্চের জনসভা স্বতঃস্ফূর্তভাবে সফল করতে আমাদের প্রস্তুতি চলছে। প্রতিটি ওয়ার্ডে প্রস্তুতি সভা চলছে। বিগত দিনের চাইতে বড় মিছিল নিয়ে আমরা এবার জনসভায় যোগ দেব।

৭ মার্চের জনসভা প্রসঙ্গে ঢাকা-১১ আসনের সংসদ সদস্য এ কে এম রহমতুল্লাহ বলেন, ৭ মার্চের জনসভা সফল করতে বিভিন্ন মহল্লায় ও ওয়ার্ডে প্রস্তুতি চলছে। নেতাকর্মীরা মিটিং করে জনসভা সফল করার আহ্বান জানাচ্ছে। কেন্দ্রের নির্দেশ অনুযায়ী সকল প্রস্তুতি চলছে।

শুক্রবার বিকেলে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু এভিনিউতে দলীয় কার্যালয়ে আওয়ামী লীগের ঢাকা মহানগর দক্ষিণ শাখার মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। জনসভা সফল করতে সবাইকে কাজ করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সাধারণ সম্পাদক শাহে আলম মুরাদ। তিনি বলেন, জনসভাকে জনসমুদ্রে পরিণত করার প্রস্তুতি চলছে। সে অনুযায়ী প্রস্তুতি চলছে পাড়া, মহল্লায় এবং ওয়ার্ডে।

এই জনসভার প্রচারের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে ছাত্রলীগকে। ১ থেকে ৭ মার্চ পর্যন্ত ছাত্রলীগের সর্বস্তরের নেতাকর্মী এই দায়িত্ব পালন করবে বলে জানান ছাত্রলীগ সভাপতি সাইফুর রহমান সোহাগ।

৭ মার্চ ঢাকার জনসভাকে সফল করতে গত রোববার ধানমন্ডির একটি কমিউনিটি সেন্টারে দলটির ঢাকা মহানগর, ঢাকা জেলাসহ এর পার্শ্ববর্তী জেলাগুলো, সহযোগী ও অঙ্গসংগঠনের নেতা ও এমপিদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক। তাদের সঙ্গে বৈঠক করে সর্বোচ্চ জমায়েত ঘটানোর নির্দেশনা দেয়া হয়।

৭ মার্চের জনসভায় ভাষণ দেবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ঐতিহাসিক ৭ মার্চ উপলক্ষে জনসভা হলেও মূলত আগামী নির্বাচনের জন্য এটিই হবে ঢাকার নির্বাচনী জনসভা।