‘হামলাকারীর টার্গেট ছিল গলা, কিন্তু স্যার মাথা ঘুরানোর ফলে সেটি পারেনি’


সিলেট প্রতিনিধি, | Published: 07:26 PM, March 04, 2018

IMG

‘অনুষ্ঠান চলাকালে যখন স্যারের ওপর হামলা হয়, এটা খুবই কম সময়ের মধ্যে ঘটেছে। আমরা ভাবছিলাম সে (হামলাকারী) হয়তো বার বার ঘুষি মারতেছে।’

আহত জাফর ইকবালের সাথে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে ঢাকায় আসা সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) কম্পিঊটার সাইন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং ( সিএসই) বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ও ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী বিশ্ব প্রিয় চক্রবর্তী এভাবেই ঘটনার বর্ণনা দেন।

তিনি বলেন, ‘অনুষ্ঠান চলাকালে ঘটনাটি হঠাৎ করে এতো কম সময়ের মধ্যেই ঘটে গেল যে কেউ ভাবতেই পারিনি। দেড় থেকে দুই সেকেন্ডের মধ্যেই তার শরীরে আঘাতগুলো করা হয়। আমরা তখন ভাবছি সে হয়তো বার বার ঘুষি মারছে। এর পরে তার হাতে চাকু দেখতে পেয়েছি। তবে স্যারকে যখন সে আঘাত করতে আসে তখন তার টার্গেট ছিল হয়তো ঘাড়, গলার পাশে। কিন্তু স্যার মাথা ঘুরানোর ফলে সেটি করতে পারেনি।’

‘এর পর আমরা দ্রুত স্যারকে হাসপাতালে নিয়ে যাই। সেখানে থেকে রাতে তাকে ঢাকায় নিয়ে আসা হয়। আর সে সময় আমি স্যারের সাথে এসেছি।’ যোগ করেন তিনি।

হামলাকারী বাহির থেকে এসে মঞ্চে ওঠে এতো কাছে গেল কিভাবে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘সন্দেহজনকভাবে এই বিষয়টি কারো চোখে পড়েনি। তাই হামলাকারী এই সুযোগটি নিয়েছে।’

গতকাল ৩ মার্চ, শনিবার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের মুক্তমঞ্চে ড. মুহম্মদ জাফর ইকবালের ওপর হামলা করা হয়। মুক্তমঞ্চে ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক্স ইঞ্জিনিয়ারিং (ইইই) বিভাগের দুই দিনব্যাপী ‘ইইই ফেস্টিভ্যাল-২০১৮’-এর সমাপনী অনুষ্ঠান চলছিল। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন মুহম্মদ জাফর ইকবাল।

হামলার পরে তাকে সিলেট ওসমানি মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। পরবর্তীতে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে রাত ১১টা ৫৮ মিনিটে তাকে সিএমএইচে নিয়ে আসা হয়।

অধ্যাপক ড. মুহম্মদ জাফর ইকবালের শরীরে ছয়টি আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছেন সিএমএইচের চিকিৎসকরা। রবিবার বেলা ১১টায় জাফর ইকবালের স্বাস্থ্যগত পরিস্থিতির বিষয়ে সিএমএইচের প্রশাসনিক ভবনে সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য জানানো হয়।

সংবাদ সম্মেলনে জাফর ইকবালের কন্সালটেন্ট সার্জন মেজর জেনারেল মো. মুন্সি মজিবুর রহমান বলেন, ‘জাফর স্যারের মাথায় চারটি, পিঠে একটি ও বাঁহাতে একটি আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। অর্থাৎ তার পুরো শরীরে মোট ছয়টি আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গিয়েছে।’