বিমান ধ্বংসের পর ব্ল্যাকবক্স কেন এটা এত গুরুত্বপূর্ণ?


, | Published: 04:05 PM, March 14, 2018

IMG

উদ্ধার হয়েছে নেপালে ভেঙ্গে পরা ইউএস বাংলার বিমানটির ব্ল্যাক বক্স। বলা হচ্ছে, এখানেই মিলবে দুর্ঘটনার আসল রহস্য। এই বক্সেই নাকি লুকিয়ে থাকে বিমান দুর্ঘটনার মূল কারণটি। কী এই ব্ল্যাক বক্স?

ব্ল্যাকবক্স। বিমানের একটি যন্ত্রের নাম। তবে যেকোনো বিমান দুর্ঘটনার পর এই যন্ত্রটি খুঁজে পাওয়াটা হয়ে ওঠে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, এখান থেকেই প্রায় নির্ভুলভাবে জানা সম্ভব, কেন হয় বিমান দুর্ঘটনা।

নেপালে বিধ্বস্ত ইউএস বাংলা এয়ারলাইন্সের বিমানটির গুরুত্বপূর্ণ সেই ব্ল্যাকবক্সটি এরই মধ্যে উদ্ধার করা হয়েছে। বলা হচ্ছে এর তথ্য যাচাই করে মর্মান্তিক সেই দুর্ঘটনার আসল কারণটি জানা যাবে। কাঠমান্ডুতে উদ্ধার করা ব্ল্যাকবক্সের তথ্য উদ্ধারের জন্য সিঙ্গাপুরে পাঠানো হতে পারে। পুরো তথ্য উদ্ধার করতে ৭ থেকে ১০ দিন লাগবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

নাম ব্ল্যাকবক্স হলেও এর রং কিন্তু কালো নয়, গাঢ় কমলা রংয়ের। আর ব্ল্যাক বক্স নামে ডাকা হলেও এর প্রকৃত নাম কিন্তু ফ্লাইট রেকর্ডার। এটি আসলে একধরনের ভয়েস রেকর্ডার। যেটি বিমান চলাচলের সময় সব ধরণের তথ্য সংরক্ষণ করে রাখে।

নির্দিষ্ট করে বললে, এখানে মূলত দুই ধরণের তথ্য সংরক্ষিত হয়। ফ্লাইট ডাটা রেকর্ডার বা এফডিআর অংশে বিমানের ওড়া, ওঠানামা, উচ্চতা, বিমানের মধ্যের তাপমাত্রা, পরিবেশ, চাপ বা তাপের পরিবর্তন, সময়, শব্দ ইত্যাদি নানা বিষয় রেকর্ড হয়। অন্যদিকে ককপিট ভয়েস রেকর্ডার বা সিভিআর নামের আরেকটি অংশে ককপিটের ভেতর পাইলটদের নিজেদের মধ্যের কথাবার্তা, পাইলটদের সঙ্গে বিমানের অন্য ক্রুদের কথা, ককপিট এর সঙ্গে এয়ার কন্ট্রোল ট্রাফিক বা বিভিন্ন বিমান বন্দরের সঙ্গে রেডিও যোগাযোগের কথা রেকর্ড হতে থাকে। ফলে কোন বিমান দুর্ঘটনায় পরলে তার কারণ জানতে সবার আগে দরকার এই ব্লাকবক্স।

দুর্ঘটনা ঘটে যাবার পর আহত মানুষদের বাঁচানো ছাড়াও উদ্ধারকারী দলের দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে দাড়ায় এই বাক্সটাকে খুঁজে বের করে উদ্ধার করা | ব্ল্যাক বক্সের উজ্জ্বল কমলা রং এই সময় সাহায্য করে বাক্সটিকে খুঁজে পেতে| ওই পরিবেশের সাথে খাপছাড়া ওই রং খুব সহজেই চোখে পড়ে| উদ্ধার করার পর এটি পাঠানো হয় বিশেষজ্ঞের কাছে| তারা ব্ল্যাক বক্সের তথ্য বিশ্লেষণ করে সিদ্ধান্তে আসবার চেষ্টা করেন যে দুর্ঘটনার আদতে কারণ টা কি |

এই বক্সটি অনেক মজবুত এবং অসীম সহনশীল পদার্থের তৈরি। এটির কয়েকটা লেয়ার থাকে। দুর্ঘটনার সময় উপরের লেয়ারগুরো পুড়ে গেলেও ভিতরের চিপটি যেখানে মেমোরি থাকে সেটা পুড়ে যায় না। এটি পানি আগুন কোনো কিছুতে নষ্ট হয় না। এটি অটোমেটিক সিগনাল পাঠিয়ে তার অস্থিস্ত জানান দেয়। এমনকি ১৪০০০ ফুট পানির নিচ থেকেও বার্তা পাঠাতে পারে। যদিও এটা সাধারণভাবে মানুষ শুনতে পারে না।

কিন্তু সোনার (sonar) যন্ত্রের দ্বারা এই শব্দ সনাক্ত করা যায়| দুর্ঘটনার পর ৩০ দিন পর্যন্ত সিগনাল পাঠাতে পারে ব্লাক বক্স।

তাই এখন ইউএস বাংলা বিমানের ব্লাক বক্সের দিকে তাকিয়ে সবাই। এটা পরীক্ষা করার পরই জানা যাবে আসলে বিমানের ভিতরে কি হয়েছিল।