প্রধানমন্ত্রীকে পদত্যাগ করার আহ্বান জানালেন রিজভী


রাজনৈতিক প্রতিবেদক,সেন্ট্রাল ডেস্ক | Published: 09:11 PM, March 18, 2018

IMG

নির্বাচন নিয়ে ছিনিমিনি খেললে কাঁটাতারের বেড়া নয় চীনের প্রাচীরের ন্যায় প্রতিরোধ গড়ে তোলা হবে বলে জানিয়েছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের ও অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিতের বক্তব্য তুলে ধরে তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ নেতাদের কথায় মনে হচ্ছে তাদের মাস্টার প্ল্যান চূড়ান্ত। কিভাবে আরেকটি ভোটারবিহীন নির্বাচন মঞ্চস্থ করা যায় সেই চক্রান্তমূলক আয়োজনে তারা ব্যস্ত রয়েছেন।

রবিবার (১৮ মার্চ) রাজধানীর নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। সাজানো জাল জালিয়াতির মাধ্যমে কাগজ তৈরি করে মিথ্যা মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে সাজা দিয়ে কারাবন্দি করে রাখা ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জনাব তারেক রহমানকে সাজা দেওয়া সেই মাস্টারপ্ল্যানেরই অংশ বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

রুহুল কবির রিজভী বলেন, পিঠা ভাগের মতো সংসদীয় আসনের সিংহভাগ আওয়ামী লীগ নিজেদের কব্জায় রেখে বাকী স্বল্পসংখ্যক আসন অন্যদলকে ভাগ দেয়ার কথা শোনা যাচ্ছে। এটাই নির্বাচনহীন একদলীয় শাসনের নমুনা। জনাব ওবায়দুল কাদেরের কথায় যে ‘আনুষ্ঠানিকতা’র কথা বলা হয়েছে সেটা কী তারই আলামত? আসন ভাগাভাগির বিষয়টি অনেকটা পরিস্কার হয়ে গেছে। যতই ষড়যন্ত্র করেন না কেন, যতই ভাগাভাগি করেন না কেন, বানরের পিঠা ভাগাভাগির নির্বাচন এদেশের জনগণ হতে দেবে না।

তিনি বলেন, ৫ জানুয়ারির মতো ভোটারবিহীন একতরফা নির্বাচন আর এদেশে করতে দেয়া হবে না। বাংলাদেশ অধিকার আদায়ের ঝটিকা কেন্দ্র। বিএনপি একতরফা ভাগাভাগির নির্বাচনকে কেবল প্রত্যাখান নয় জনগণকে সাথে প্রতিরোধের ধাক্কায় গুড়িয়ে দেবে বলেও হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন তিনি।

তিনি বলেন, পুলিশী ক্ষমতার অহঙ্কার ও গরিমায় প্রধানমন্ত্রী সর্বময় কর্তৃত্ব চাইছেন, কিন্তু সেই স্বপ্ন গণতন্ত্রকামী জনগণ বাস্তবায়িত হতে দেবে না। এদেশের বহুদলীয় গণতন্ত্র ও স্বাধীনতা রক্ষা এবং জনগণের আশা-আকাঙ্খার প্রতীক দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া ছাড়া জাতীয় নির্বাচন হতে দেবে না এদেশের জনগণ। বিএনপি সেই নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবে যে নির্বাচনে- বিএনপির নেতৃত্ব দেবেন বেগম খালেদা জিয়া। নির্বাচন হবে অবাধ, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক। শেখ হাসিনাকে পদত্যাগ করতে হবে। নির্দলীয় সহায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে হবে।

ওবায়দুল কাদের সাহেবদের স্বপ্ন দুঃস্বপ্নে পরিণত হবে। দেশের জনগণ, দেশের তরুণ সমাজ, দেশের প্রতিটি শ্রেণি-পেশার ভোটাররা আর একতরফা ভোটারবিহীন নির্বাচন হতে দিয়ে দেশে এক ব্যাক্তির জমিদারী শাসন চালাতে দেবে না। নির্ভয়ে তাদের পছন্দের প্রার্থীকে যাতে ভোট দিতে পারে সে রকম নির্বাচনই দেশে অনুষ্ঠিত হতে হবে। আওয়ামী লীগের পাতানো ফাঁদে জনগণ পা দেবে না। তারা তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগে অঙ্গীকারাবদ্ধ।

আগামী নির্বাচনকে নিয়ে যে ষড়যন্ত্র হচ্ছে তা প্রতিহত করতে, আবারও লুটেরা সরকার কায়েমের বিরুদ্ধে জনগণ জেগে ওঠেছে দাবি করে তিনি বলেন, যেভাবে দেশের আর্থিক খাতকে ধ্বংস করে দেয়া হয়েছে, শেয়ার বাজার লুট করা হয়েছে, শিক্ষাব্যবস্থা যেভাবে ধ্বংস করা হয়েছে, সারাদেশে লুটপাটের যে আনন্দমেলা চলছে, সড়কের বেহাল দশায় প্রতিদিন যেভাবে মৃত্যুর মিছিল দীর্ঘ হচ্ছে-তাতে উন্নয়নের খিন্ন বলয়ের নির্মোক ছিঁড়েখুঁড়ে কঙ্কাল বেরিয়ে পড়েছে, নির্যাতন নিপীড়নের মাধ্যমে, গুম, খুন, ক্রসফায়ারে নির্বিচারে মানুষ হত্যার মাধ্যমে দেশে যে আতঙ্কিত পরিবেশ তৈরি করা হয়েছে, যেভাবে সরকার দলীয় নেতা-কর্মীদের দ্বারা নারী-শিশু নির্যাতনসহ মানুষের ঘর-বাড়ী, ভিটা বেদখল চলছে এ থেকে পরিত্রাণ পেতে চলমান দুঃশাসনের বিরুদ্ধে জনগণ এখন ফুঁসে উঠেছে। জনতার প্রতিরোধে আওয়ামী নেতাদের সকল ষড়যন্ত্র ধূলিসাৎ হয়ে যাবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।