খালেদার আগাম জামিন আবেদন কাল


আদালত প্রতিবেদক,সেন্ট্রাল ডেস্ক | Published: 11:25 AM, March 31, 2018

IMG

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় কারাবন্দী সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার অসুস্থতার খবরে উদ্বিগ্ন তার আইনজীবীরা। তারা অভিযোগ করেছেন, কারা কর্তৃপক্ষ বলছে না তিনি কতটা অসুস্থ। তিনি কী কারণে অসুস্থ এবং কতটা অসুস্থ এ বিষয়ে সরকার ও কারাকর্তৃপক্ষ কিছুই জানাচ্ছে না। খালেদা জিয়ার সুচিকিৎসার প্রয়োজন।

এ অবস্থায় আইনজীবীরা চিন্তা করছেন আদালতে আবেদন করে তার জামিন আবেদনের শুনানি এগিয়ে আনা যায় কি না। এ জন্য আগামীকাল রোববার খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা সর্বোচ্চ আদালত আপিল বিভাগে খালেদা জিয়ার অসুস্থার বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করে জামিন করানোর চেষ্টা করবেন।

এ বিষয়ে খালেদা জিয়ার আইনজীবী সিনিয়র অ্যাডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেন বলেন, বেগম খালেদা জিয়ার অসুস্থতার খবরে আমরা উদ্বিগ্ন। আমাদের কারাকর্তৃপক্ষ বলছে না তিনি কতটা অসুস্থ। সরকারও এ বিষয়ে কোনো কিছু জানাচ্ছে না। তার অসুস্থতার বিষয়ে কিছু জানানো হচ্ছে না। আমরা অসুস্থ বেগম খালেদা জিয়ার জামিন আবেদনের শুনানি এগিয়ে আনার চেষ্টা করব। কাল আমরা আপিল বিভাগে যাবো। চেষ্টা করব বেগম খালেদা জিয়ার জামিন কারানোর জন্য।

এ বিষয়ে খালেদা জিয়ার আইনজীবী প্যানেলের সদস্য অ্যাডভোকেট সানাউল্লাহ মিয়া বলেন, কারাকর্তৃপক্ষ জানিয়েছে বেগম খালেদা জিয়া শারীরিকভাবে অসুস্থ। তিনি কী কারণে অসুস্থ এবং কতটা অসুস্থ তা বলা হয়নি। তার অসুস্থতা নিয়ে আমরা উদ্বিগ্ন। তিনি বলেন, বেগম খালেদা জিয়ার সাথে তার পরিবারের সদস্যরা দেখা করার অনুমতি পেলে বোঝা যাবে তিনি কতটা অসুস্থ।

গত বুধবার জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলায় বেগম খালেদা জিয়াকে আদালতে হাজির করার কথা থাকলেও হাজির করা হয়নি। ওই দিন কাস্টডি পরোয়ানা জেলখানা থেকে কারাগারে পাঠানো হয়। তাতে বলা হয়, খালেদা জিয়া অসুস্থ। ওই দিন আইনজীবী সানাউল্লাহ মিয়া সাংবাদিকদের বলেছিলেন, বুধবার মামলার তারিখ ধার্য ছিল। খালেদা জিয়াকে আদালতে আনা হয়নি।

আদালতের পরোয়ানার ফিরতি কাগজ (কাস্টডি পরোয়ানা) দেখেছেন উল্লেখ করে সানাউল্লাহ মিয়া বলেন, আমরা ওই কাগজে দেখেছি খালেদা জিয়া অসুস্থ। সেখানে বলা হয়েছে শারীরিক অসুস্থতার কারণে তাকে আদালতে আনা হয়নি। যেহেতু তিনি অসুস্থ, সে জন্য আমরা খুবই চিন্তিত। কারণ আমরা কিছুই জানতে পারছি না। উনারাও পরিষ্কার করে কিছুই বলেননি। তিনি বলেন, খালেদা জিয়া কী রোগে ভুগছেন, কেন তাকে আদালতে আনা হলো না- সরকারের পক্ষ থেকে, রাষ্ট্রপক্ষ থেকে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি। আদালত এ মামলার আগামী তারিখ ধার্য করেছে ৫ এপ্রিল।

এ দিকে গত বৃহস্পতিবার বেগম খালেদা জিয়া কারাগারে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়ায় তার সাথে দেখা করতে পারেননি দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

বৃহস্পতিবার বেলা ৩টায় খালেদা জিয়ার সাথে মহাসচিবের সাক্ষাতের কথা ছিল। কিন্তু এর আগেই কারাগারের জেলার খালেদা জিয়ার একান্ত সচিবকে ফোন করে অসুস্থতার কথা জানিয়ে সাক্ষাৎ স্থগিতের কথা জানান। খালেদা জিয়াকে রাখা হয়েছে ঢাকার নাজিমউদ্দিন রোডে পুরনো কেন্দ্রীয় কারাগারে।

এ বিষয়ে দুদকের আইনজীবী মোশাররফ হোসেন বুধবার সাংবাদিকদের বলেন, এ মামলায় যুক্তিতর্কের দিন ধার্য ছিল বুধবার। কারা কর্তৃপক্ষ তাকে হাজির করেননি। উনি (খালেদা জিয়া) জেল কাস্টডিতে আছেন। তাকে হাজির করার দায়িত্ব কারা কর্তৃপক্ষের। কারা কর্তৃপক্ষ হাজির না করার কারণ অনেক রকম থাকতে পারে। কাস্টডিতে থাকাকালে তার দেখভাল করার দায়িত্ব কারা কর্তৃপক্ষের। কারা কর্তৃপক্ষ যদি হাজির না করে, এখানে তো আমাদের বলার কিছু নেই।

এর আগে গত ১৩ মার্চ জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলায় খালেদা জিয়াকে আদালতে হাজির করতে প্রোডাকশন ওয়ারেন্ট (পিডব্লিউ) বা হাজিরা পরোয়ানা ইস্যু করেন আদালত। ২৮ ও ২৯ মার্চ এ মামলায় যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের তারিখ ধার্য করে ওই দুই দিন তাকে আদালতে হাজির করতে কারা কর্তৃপক্ষকে আদেশ দেয়া হয়।

গত ৮ ফেব্রুয়ারি বেগম খালেদা জিয়াকে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেয়া হয়। ঢাকার ৫ নম্বর বিশেষ জজ আদালত এ রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার পরপরই বেগম খালেদা জিয়াকে আদালত থেকে গ্রেফতার করে পুরান ঢাকার সাবেক কেন্দ্রীয় কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়। এ মামলায় খালেদা জিয়ার বড় ছেলে ও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ অপর চার আসামিকে ১০ বছর সশ্রম কারাদণ্ড এবং দুই কোটি ১০ লাখ ৭১ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

এরপর গত ২০ ফেব্রুয়ারি জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় নিম্ন আদালতের সাজার রায়ের বিরুদ্ধে খালেদা জিয়ার খালাস চেয়ে আপিল করা হয়। ২২ ফেব্রুয়ারি নিম্ন আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে খালেদা জিয়ার আপিল আবেদন শুনানির জন্য গ্রহণ করেন হাইকোর্ট। এরপর গত ১২ মার্চ চারটি যুক্তি আমলে নিয়ে বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি সহিদুল করিমের হাইকোর্ট বেঞ্চ জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় খালেদা জিয়াকে চার মাসের জামিন দেন।

এরপর গত ১৯ মার্চ খালেদা জিয়াকে হাইকোর্টের দেয়া জামিন আদেশ আগামী ৮ মে পর্যন্ত স্থগিত করেন প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বে চার বিচারপতির আপিল বিভাগের নিয়মিত বেঞ্চ। একই সাথে জামিন আদেশের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ও রাষ্ট্রপক্ষকে আপিলের অনুমতি দেন আদালত। এ ছাড়া আগামী ৮ মে ওই আপিল আবেদনের ওপর শুনানির তারিখ ধার্য করা হয়।