দুদকের তলবে হাজিরা না দিয়ে যুক্তরাষ্ট্র চলে গেছেন এ কে আজাদ


সেন্ট্রাল ডেস্ক, | Published: 07:19 PM, April 04, 2018

IMG

অর্থপাচার, কর ফাঁকি এবং অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ অনুসন্ধানে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হা-মীম গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) এ কে আজাদকে দুর্নীতি দমন কমিশন তলবের পরেই তিনি দেশ ছেড়ে যান। কিন্তু এ বিষয়ে দুদককে কিছু জানানো হয়নি।

৩ এপ্রিল হাজিরার দিন এ কে আজাদের দেশ ছেড়ে যাওয়ার বিষয়টি জানতে পারে দুর্নীতিবিরোধী সংস্থাটি। এদিক এই ব্যবসায়ী নেতার দুই আইনজীবী এসে দুদকে জানান, তাদের মক্কেল অসুস্থ।

এ কে আজাদকে তলবের পর তার দেশত্যাগে কোনো নিষেধাজ্ঞা অবশ্য দেয়া হয়নি। তারপরও তার দেশের বাইরে যাওয়ার আগে জানিয়ে যাওয়া উচিত ছিল বলে মনে করেন দুদকের কর্মকর্তারা।

এ কে আজাদ অসুস্থ, এই বিষয়টি এতদিন না জানালেও হাজিরার দিন কেন জানাতে হলো সে বিষয়ে প্রশ্ন রেখেছেন দুদকের একজন কর্মকর্তা। ওই কর্মকর্তা বলেন, চিকিৎসার জন্য কেউ বিদেশে যেতেই পারেন। কিন্তু যেহেতু তাকে তলব করা হয়েছে, তার উচিত ছিল জানিয়ে সময় নিয়ে যাওয়া।

অনুমোদন ছাড়া বাড়ি নির্মাণের অভিযোগে গত ২০ মার্চ আজাদের গুলশান-২ এর ৮৬ নম্বর সড়কের এক নম্বর বাড়িটি ভেঙে দেয় রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ-রাজউক। পরদিন জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাকে তলব করে দুদক। সেদিন এক চিঠিতে ৩ এপ্রিল তাকে হাজির হতে নির্দেশ দেয়া হয়।

আর নির্ধারিত দিনে আজাদের দুই জন আইনজীবী আট সপ্তাহের সময় চেয়ে দুদকে চিঠি দেয়ার পর আজাদের বিদেশে যাওয়ার বিষয়টি জানা যায়।

এ জে আজাদ মার্চের শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্রে যান বলে জানিয়েছেন তার একজন নিকটাত্মীয়। তিনি জানান, আজাদ গুরুতর অসুস্থ নন, তবে আগে থেকে ডাক্তারের কাছে এপয়েনমেন্ট থাকার জন্য তিনি যুক্তরাষ্ট্রে যান।

দুদকের একজন কর্মকর্তা বলেন, ‘৩ এপ্রিল আজাদ সাহেবের দুই জন আইনজীবী এসে জানান তিনি চিকিৎসার জন্য বিদেশ রয়েছেন। এ জন্য তারা সময়সীমা চেয়ে আবেদন করেছেন।

‘একে আজাদ দুদক কার্যালয়ে হাজির হননি। উনি যে দেশে নেই সেটা আমরা গতকালই জানতে পেরেছি।’

দুদক সূত্র জানান, আজাদের বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জন ও হাজার কোটি টাকা কর ফাঁকির সুনির্দিষ্ট অভিযোগ সম্প্রতি দুদকে জমা পড়ে। প্রাথমিক যাচাই বাছাই শেষে কমিশন অভিযোগটি আমলে নিয়ে অনুসন্ধান শুরু করে। এরই পরিপ্রেক্ষিতে গত ২১ মার্চ দুদক পরিচালক মীর মো. জয়নুল আবেদিন শিবলী স্বাক্ষরিত এক নোটিশে মঙ্গলবার (৩ এপ্রিল) দুদকে হাজির হয়ে ব্যাখা দেওয়ার কথা ছিল তার।

এদিকে এ কে আজাদ আবেদন করলেও তাকে আট সপ্তাহের সময় দেয়ার বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি এখনও। দুদকের একজন কর্মকর্তা বলেন, ‘তার আবেদনটি যাচাই-বাছাই শেষে সিদ্ধান্ত নেব তাকে কতদিন সময় দেওয়া যায়।’

দুদকের তলবের পর সংস্থাটিকে না জানিয়ে এ কে আজাদের বিদেশে চলে যাওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে সাবেক দুদক চেয়ারম্যান গোলাম রহমান বলেন, ‘কমিশন ডেকেছে। এখানে ওনার সমস্যা থাকলে ওনি যখন ইচ্ছে আবেদন করতে পারেন, এতে কোনো সমস্যা নেই। তবে কমিশন তা গ্রহণ করবে কি না এটা তাদের সিদ্ধান্ত। কমিশন সময় দেবে কি না এটা কমিশনের একান্ত বিষয়। এখানে কমিশনের ওপর কথা বলার কিছু নেই।’

জানতে চাইলে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ইফতেরুজ্জামান বলেছেন, ‘যদি কারো বিরুদ্ধে দেশ ত্যাগের নিষেধাজ্ঞা না থাকে তবে তলবের পরও দেশের বাইরে যেতে পারেন। এখানে যদি বিদেশ যাওয়ার ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা থাকতে তাহলে এখানে কথা থাকত। এখানে ওনার সমস্যা থাকলে ওনি যখন ইচ্ছে আবেদন করতে পারেন, এতে কোনো সমস্যা নেই। কমিশন সময় দেবে কি না এটা কমিশনের একান্ত বিষয়।’