প্রধানমন্ত্রীর বিমানে ত্রুটি: নতুন মামলায় ৩ জন, ১১ জনের অব্যাহতি


আদালত প্রতিবেদক,সেন্ট্রাল ডেস্ক | Published: 07:24 PM, April 04, 2018

IMG

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বহনকারী উড়োজাহাজে যান্ত্রিক ত্রুটির ঘটনায় গ্রেপ্তার ১১ বিমান কর্মকর্তার মধ্যে তিন জনের বিরুদ্ধে কর্তব্যে অবহেলার অভিযোগে নতুন করে মামলার আদেশ দিয়েছে আদালত। ওই ঘটনায় করা রাষ্ট্রদ্রোহ ও নাশকতার মামলা থেকে ১১ আসামির সবাইকে অব্যাহতি দিয়ে বুধবার ঢাকা মহানগর দায়রা জজ কামরুল হোসেন মোল্লা এই আদেশ দেন বলে রাষ্ট্রপক্ষের অতিরিক্ত কৌসুঁলি তাপস পাল জানিয়েছেন।

নতুন মামলায় আসামি হবেন- বিমানের প্রকৌশলী নাজমুল হক, টেকনিশিয়ান সিদ্দিকুর রহমান, জুনিয়ার টেকনিশিয়ান শাহ আলম।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী তাপস গণমাধ্যমকে বলেন, রাষ্ট্রদ্রোহ ও নাশকতার মামলা থেকে ১১ আসামির সবার অব্যাহতির আবেদন গ্রহণ করে এই তিনজনের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ২৮৭ ধারায় মামলা করতে তদন্ত কর্মকর্তাকে অনুমতি দিয়েছে আদালত।

২০১৭ সালের ৭ ডিসেম্বর ঢাকা মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতের বিমানবন্দর থানার সাধারণ নিবন্ধন শাখায় ১১ আসামির অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় অব্যাহতির সুপারিশ করে চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দেন মামলা তদন্তকারী কর্মকর্তা কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিসিটি) ইউনিটের পুলিশ পরিদর্শক মাহবুবুল আলম।

পাশাপাশি চূড়ান্ত প্রতিবেদনে সিদ্দিকুর, নাজমুল ও শাহ আলমের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধি ২৮৭ ধারায় অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় তাদের বিরুদ্ধে প্রসিকিউশন মামলার অনুমতি চান তদন্ত কর্মকর্তা।

দন্ডবিধির ২৮৭ ধারায় যন্ত্রপাতি নিয়ে অবহেলামূলক আচরণের সাজার কথা বলা হয়েছে। অআমলযোগ্য এ অপরাধে আসামি দোষী সাব্যস্ত হলে ছয়মাস পর্যন্ত যে কোনো মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ড বা একহাজার টাকা পর্যন্ত যে কোনো পরিমাণ অর্থদণ্ড অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হতে পারেন।

প্রধানমন্ত্রীকে বহনকারী উড়োজাহাজে যান্ত্রিক ত্রুটির ঘটনায় রাষ্ট্রদ্রোহ ও নাশকতার মামলার সব আসামি জামিনে রয়েছেন। এদের মধ্যে নাজমুল হাই কোর্ট থেকে এবং বাকি ১০ জন ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম আদালত থেকে জামিন পেয়েছেন।

ওই ঘটনায় বিমানের এই কর্মকর্তাদের গ্রেপ্তার করে রিমান্ডে নেওয়া হয়, চাকরিচ্যুত করা হয়েছিল সবাইকে ওই ঘটনায় বিমানের এই কর্মকর্তাদের গ্রেপ্তার করে রিমান্ডে নেওয়া হয়, চাকরিচ্যুত করা হয়েছিল সবাইকে এই মামলায় বুধবার অব্যাহতি পাওয়া বাকি ৮ জন হলেন- বিমানের প্রধান প্রকৌশলী (প্রডাকশন) দেবেশ চৌধুরী, প্রধান প্রকৌশলী (কোয়ালিটি অ্যাসুরেন্স) এসএ সিদ্দিক, প্রধান প্রকৌশলী (মেইনটেন্যান্স অ্যান্ড সিস্টেম কন্ট্রোল) বিল্লাল হোসেন, প্রকৌশল কর্মকর্তা এসএম রোকনুজ্জামান, সামিউল হক, লুৎফর রহমান, মিলন চন্দ্র বিশ্বাস ও জাকির হোসাইন।

২০১৬ সালের ২৭ নভেম্বর হাঙ্গেরি যাওয়ার পথে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বহনকারী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বোয়িং ৭৭৭ বিমান যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে তুর্কমেনিস্তানের রাজধানী আশখাবাতে জরুরি অবতরণ করে। ত্রুটি মেরামত করে সেখানে চার ঘণ্টা অনির্ধারিত যাত্রাবিরতির পর ওই উড়োজাহাজেই প্রধানমন্ত্রী বুদাপেস্টে পৌঁছান।

ওই বছরের ৩০ নভেম্বর বাংলাদেশ বিমানের ছয় কর্মকর্তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। ১৪ ডিসেম্বর বরখাস্ত হন বিমানের তিন প্রকৌশলীও।

ওই ঘটনায় গঠিত তদন্ত কমিটি গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর তাদের তদন্ত প্রতিবেদন মন্ত্রণালয়ে জমা দেয়, যাতে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের কর্মকর্তাদের গাফিলতিতে প্রধানমন্ত্রীকে বহনকারী বিমানে যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দিয়েছিল বলে বলা হয়।

এরপর ২০ ডিসেম্বর বাংলাদেশ বিমানের প্রধান প্রকৌশলীসহ নয়জনকে আসামি করে ওই মামলা করেন বিমানের পরিচালক (ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড ম্যাটেরিয়েল ম্যানেজমেন্ট) উইং কমান্ডার (অব.) এমএম আসাদুজ্জামান।

১৯৭৪ সালের বিশেষ ক্ষমতা আইনের ১৫ (গ) ধারায় করা ওই মামলার এজাহারে বলা হয়, বিভাগীয় তদন্তে এই কর্মকর্তা-কর্মচারীর বিরুদ্ধে ‘পরস্পর যোগসাজশে অপরাধমূলক ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে যন্ত্রপাতি নিয়া অবহেলামূলক আচরণ করতঃ অন্তর্ঘাতমূলক কার্যক্রম করার প্রমাণ পাওয়া গেছে।’

তবে গত বছর ৭ ডিসেম্বর ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে জমা দেওয়া চূড়ান্ত প্রতিবেদনে আসামিদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে অন্তর্ঘাতমূলক কার্যক্রমের অভিযোগের সত্যতা না পেয়ে সবার অব্যাহতির আবেদন করা হয়েছিল।

চূড়ান্ত প্রতিবেদনে তদন্ত কর্মকর্তা বলেছেন, প্রধানমন্ত্রীর সফরে নিয়োজিত উড়োজাহাজটির অয়েল প্রেসার সেন্সর পরিবর্তনের কাজটি করেন সিদ্দিকুর রহমান এবং সহযোগিতা করেন মেকানিক শাহ আলম। ওই সময় প্রকৌশলী নাজমুল হক পরীক্ষার জন্য তিনবার ভেতরে প্রবেশ করেন। তবে তিনি তদন্ত কমিটির কাছে একবার ভেতরে যাওয়ার কথা স্বীকার করেন। ফলে নাজমুল হকের আচরণ সন্দেহজনক মনে হয়। তবে তদন্ত ও সাক্ষ্য প্রমাণ এবং ঘটনার পারিপার্শ্বিকতায় তদন্ত কমিটিগুলোর প্রতিবেদনের আলোকে মামলার ঘটনায় নাশকতা, আত্মঘাতী ও অপরাধমূলক ষড়যন্ত্রের কোনো উপাদান পাওয়া যায়নি।

উড়োজাহাজে শত শত মানুষ ভ্রমণ করে বলে এর রক্ষাণাবেক্ষণের কাজে নিয়োজিতদের বেশি মনোযোগী ও সতর্ক থাকা উচিত ছিল উল্লেখ করে প্রতিবেদনে আরো বলা হয়েছে, প্রধানমন্ত্রীর প্রাণহানির মতো ঘটনা ঘটলে দেশের সামগ্রিক পরিস্থিতির ওপর মারাত্মক প্রভাব পড়ত।

‘মামলার সার্বিক তদন্তে এজাহারনামীয় আসামিদের বিরুদ্ধে নাশকতা, আত্মঘাতী ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার অভিযোগ প্রমাণিত হয়নি। তাই মামলার দায় থেকে তাদের অব্যাহতি প্রার্থনা করছি,’ বলা হয় চূড়ান্ত প্রতিবেদনে।