টিভিতে সম্প্রচার হবে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটের উৎক্ষেপণ


International Desk,প্রযুক্তি ডেস্ক | Published: 06:47 PM, May 09, 2018

IMG

বাংলাদেশের প্রথম বাণিজ্যিক স্যাটেলাইট বঙ্গবন্ধু-১-এর উৎক্ষেপণ অনুষ্ঠান সরাসরি প্রচার করবে রাষ্ট্র নিয়ন্ত্রিত টেলিভিশন চ্যানেল বাংলাদেশ টেলিভিশন (বিটিভি)। আইপিটিভির মাধ্যমে বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে বিটিভিতে এ দৃশ্য সরাসরি সম্প্রচারিত হবে।

বুধবার এ তথ্য জানান বিটিভির মহাপরিচালক হারুন-অর-রশিদ। ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্য প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় এবং বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশন রেগুলেটরি কমিশনের (বিটিআরসি) প্রযুক্তিগত সহায়তায় বিটিভি অনুষ্ঠানটি সরাসরি সম্প্রচার করবে। এছাড়া লাইভ স্ট্রিমিংয়ের মাধ্যমে ফেসবুকসহ বিভিন্ন ইউটিউব চ্যানেলে উৎক্ষেপণের দৃশ্য সরাসরি সম্প্রচার করা হবে।

এদিকে কেনেডি স্পেস সেন্টার কর্তৃপক্ষ বাংলাদেশের প্রথম স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণের দৃশ্য উপভোগের জন্য দর্শকদের আহ্বান জানিয়েছে। তবে এর জন্য দর্শকদের আলাদা কোনো অর্থ খরচ করতে হবে না।

স্পেস সেন্টার কর্তৃপক্ষ জানায়, কেবল মাত্র টিকিট কেটে প্রবেশের মাধ্যমেই স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণের দৃশ্য সরাসরি উপভোগ করা যাবে। বাংলাদেশ সময় শুক্রবার ভোর রাতে ২.১২ থেকে ৪.২২ মিনিটের মধ্যে উৎক্ষেপণ সম্পন্ন হবে।

মার্কিন বেসরকারি মহাকাশ অনুসন্ধান ও প্রযুক্তি কোম্পানি স্পেস-এক্স কর্তৃপক্ষ ফ্যালকন-৯ রকেটের মাধ্যমে বঙ্গবন্ধু-১ স্যাটেলাইটকে মহাকাশে উৎক্ষেপণ করবে। স্পেস-এক্স উৎক্ষেপণে প্রথমবারের মতো ফ্যালকন-৯ রকেটের ব্লক-৫ সংস্করণ ব্যবহার করছে।

বঙ্গবন্ধু-১ স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ দৃশ্য অ্যাপলো/স্যাটার্ন ভি সেন্টার থেকে উপভোগ করা যাবে। এটি উৎক্ষেপণ স্থল থেকে ৬.২৭ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। আর উৎক্ষেপণ দৃশ্য উপভোগের মূল দর্শক কেন্দ্রটি উৎক্ষেপণ স্থল থেকে ১২ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত।

বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটে ৪০টি ট্রান্সপন্ডার থাকবে, যার ২০টি বাংলাদেশের ব্যবহারের জন্য রাখা হবে এবং বাকিগুলো ভাড়া দিয়ে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন সম্ভব হবে। এতে করে বিদেশি স্যাটেলাইটের ভাড়া বাবদ বছরে ১৪ মিলিয়ন ডলার সাশ্রয় হবে বাংলাদেশের। পাশাপাশি আয়েরও পথ খুলবে।

বাংলাদেশে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটের গ্রাউন্ড স্টেশন স্থাপন করা হয়েছে গাজীপুর জেলার জয়দেবপুর ও রাঙ্গামাটির বেতবুনিয়ায়।

উল্লেখ্য, স্পেস-এক্স'র ফ্যালকন-৯ রকেটের মাধ্যমে ২০১৭ সালের ১৬ ডিসেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডার কেইপ কেনাভিরালের লঞ্চ প্যাড থেকে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণের প্রস্তুতি নেয়া হয়েছিল।

 তবে হারিকেন আরমায় ফ্লোরিডায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হওয়ায় ওই লঞ্চ প্যাড থেকে স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ বন্ধ হয়ে যায়। ফলে বিভিন্ন দেশের স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ পিছিয়ে যায় এবং সূচি জটে পড়ে বাংলাদেশ।

এর আগে ২০১৫ সালের ২১ অক্টোবর সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির সভায় এই স্যাটেলাইট সিস্টেম কেনার প্রস্তাব অনুমোদন দেয়া হয়। এরপর প্রায় দুই হজার কোটি টাকায় স্যাটেলাইট সিস্টেম কিনতে থালেসের সাথে চুক্তি করে বিটিআরসি।

পরে ফ্রান্সের থালেস এলিনিয়া স্পেস ফ্যাসিলিটিতে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটের নির্মাণ কাজ চলে। নির্মাণ, পরীক্ষা, পর্যালোচনা ও হস্তান্তর শেষে বিশেষ কার্গো বিমানে করে সেটি কেইপ কেনারিভালের লঞ্চ সাইটে পাঠানো হয়। ইউএনবি।