এক মামলায় জামিন হয়েছে, আরও লড়াই করুন : বিএনপিকে কাদের


রাজনৈতিক প্রতিবেদক,সেন্ট্রাল ডেস্ক | Published: 07:23 PM, May 18, 2018

IMG

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, আগামী জাতীয় নির্বাচনের সঙ্গে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তির কোনো সম্পর্ক নেই।

শুক্রবার রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইন্সটিটিউশন মিলনায়তনে বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের দ্বি-বার্ষিক সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ওবায়দুল কাদের এসব কথা বলেন।

বিএনপি নেতাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, খালেদা জিয়ার মুক্তির জন্য আইনি লড়াইয়ে যান। এক মামলায় জামিন হয়েছে, আরও মামলা রয়েছে। আরও লড়াই করুন। আদালতই জামিন দিতে পারেন।

কাদের বলেন, বিএনপি নেতারা তাদের নেত্রীর মামলা ও জামিন নিয়ে 'অবিরাম মিথ্যাচার' করে যাচ্ছেন। দণ্ড দিয়েছেন আদালত, তাকে মুক্তি কিংবা জামিনও দিতে পারেন আদালত। আওয়ামী লীগ সরকার জামিন দিতে পারে না।

'খালেদা জিয়ার মুক্তি বিলম্বিত করতে সরকার এখন বিচারবিভাগকেও কাজে লাগাতে চাইছে'-বিএনপি নেতাদের এমন অভিযোগের জবাবে তিনি বলেন, বিচারবিভাগ যদি সরকারের কথায় চলত, তাহলে খালেদা জিয়ার জামিন হল কী করে? এক মামলায় জামিন হয়েছে। তার মানে হচ্ছে এই সরকারের আমলে বিচার বিভাগ স্বাধীন।

খালেদা জিয়ার মুক্তির জন্য বিএনপির আন্দোলনের হুমকি প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, অপেক্ষা করুন। আন্দোলনে পারবেন না, মরা গাঙ্গে জোয়ার আসে না। খুলনায় পরাজয়ের মধ্যদিয়ে নির্বাচনে বিএনপির হারের ধারা শুরু হয়ে গেছে। নিজেদের নেতিবাচক রাজনীতির কারণেই বিএনপির ভোট কমে যাচ্ছে।

তিনি বলেন, বার কাউন্সিল নির্বাচনেও শুনি নতুন অভিযোগ। এখানেও নাকি কারচুপি হয়েছে! কোথায় হল? এই নির্বাচনে প্রিজাইডিং অফিসাররা প্রত্যেকেই জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট। এখানেও কারচুপি? বিএনপি আসলে আগামী নির্বাচনে জিতবে এ ধরনের আশা হারিয়ে ফেলেছে। আর নির্বাচনে হেরে যাওয়ার ভয়েই তারা এখন ছলচাতুরি করে ভোট থেকে সরে যাওয়ার পথ খুঁজছে।

কাদের বলেন, আওয়ামী লীগ নির্বাচনে শক্তিশালী প্রতিদন্দ্বী চায়। আমরা ফাঁকা মাঠে গোল দিতে চাই না। বিএনপিকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে, তারা নির্বাচনে আসবে কি না। এজন্য আওয়ামী লীগকে দোষ দিয়ে লাভ নেই।

সংখ্যালঘু নিপীড়নকে বিএনপির 'পলিসি' আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, নির্বাচন এলে সংখ্যালঘুদের জন্য মায়াকান্না দেখায় বিএনপি। ২০০১ সালের পর তারা ক্ষমতায় থাকতে সংখ্যালঘুদের অনেক নির্যাতন-নিপীড়ন করেছে। এটা ছিল তাদের কেন্দ্রীয় সরকারের পলিসি। তবে ভুলত্রুটি আমাদেরও আছে। আমাদের সরকারের সময় সংখ্যালঘুদের ওপর দুই-একটি বিশৃঙ্খল ঘটনা ঘটেছে। এটা আওয়ামী লীগের পলিসি নয়। দুর্বৃত্তরা এটা ঘটিয়েছে। আর দুর্বৃত্তদের ব্যাপারে সরকার জিরো টলারেন্স।

আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, আওয়ামী লীগের চেয়ে আর কোনো ভালো বন্ধু সংখ্যালঘুদের নেই। আওয়ামী লীগের কোনো বিকল্পও নেই। বিকল্প হচ্ছে পাকিস্তানের দোসররা। আওয়ামী লীগের বিকল্প তাদের ভাবলে সংখ্যালঘুদের ভুল হবে। কারণ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাই সংখ্যালঘুদের সবচেয়ে বড় বন্ধু। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সংখ্যালঘুদের যোগ্যতার অবমূল্যায়ন করেন না। যোগ্যতা অনুযায়ী চাকরি দেওয়াসহ দলের বিভিন্ন কমিটিতে তাদের রেখেছেনও।

এ সময় মঞ্চে বসা ঢাকাস্থ ভারতীয় হাই কমিশনার হর্ষবর্ধন শ্রিংলার দৃষ্টি আকর্ষণ করে সেতুমন্ত্রী বলেন, 'বিদেশিরা কী আমাকে ক্ষমতায় বসিয়ে দেবে? হর্ষবর্ধন শ্রিংলার দেশ কী আমাদের ক্ষমতায় বসাবে? আমাদের ক্ষমতায় বসাবে বাংলাদেশের জনগণ। তারা (ভারত) আমাদের বন্ধু। বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে আমরা সুদৃঢ় করতে চাই। আর বাংলাদেশ ও এর জনগণের স্বার্থে ভারতের সঙ্গে বন্ধুত্ব চাই।

পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি জয়ন্ত দাস দীপুর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী নারায়ণ চন্দ্র চন্দ, যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী বীরেন শিকদার, হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সাধারণ সপাদক অ্যাডভোকেট রানা দাশগুপ্ত প্রমুখ।