নিজ অরবিটলে ঘোরা শুরু করেছে ‘বঙ্গবন্ধু-১’


প্রযুক্তি ডেস্ক, | Published: 06:33 PM, May 25, 2018

IMG

উৎক্ষেপণের ১৩ দিন পর ভাড়া নেওয়া নিজ অরবিটল স্লটে ৩ কিলোমিটার গতিতে এগোচ্ছে দেশের প্রথম সরকারি কমিউনিকেশন স্যাটেলাইট ‘বঙ্গবন্ধু-১’।

২৫ মে, শুক্রবার মহাকাশে স্যাটেলাইটের প্রকৃত সময় পর্যবেক্ষণকারী বিভিন্ন ওয়েবসাইট ঘুরে এমন তথ্য পাওয়া গেছে।

ওয়েবসাইটগুলো ঘুরে দেখা যায়, বঙ্গবন্ধু-১ তার জন্য বরাদ্দকৃত ১১৯ দশমিক ১ পূর্ব দ্রাঘিমাংশের পাশে ১১৯ দশমিক ১৩ পূর্ব দ্রাঘিমাংশে অবস্থান করছে। মানচিত্র অনুযায়ী স্যাটেলাইটটি ইন্দোনেশিয়ার পালু ও বোনটাংয়ের মধ্যবর্তী মাকাসার প্রণালির ওপর জিওস্টেশনারি কক্ষপথে ঘোরাফেরা করছে।

ওয়েবসাইটগুলোর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, স্যাটেলাইটটি প্রতি সেকেন্ডে তিন দশমিক শূন্য সাত কিলোমিটার গতিতে এগোচ্ছে।

এর আগে ১০ মে মহাকাশের নির্ধারিত কক্ষপথে পৌঁছানোর মধ্য দিয়ে প্রথম ধাপ ‘লঞ্চ অ্যান্ড আরলি অরবিট ফেইজ (এলইওপি)’ সফলভাবে সম্পন্ন করে বঙ্গবন্ধু-১। নিজ অরবিটল স্লটে পৌঁছানোর মধ্য দিয়ে বঙ্গবন্ধু-১ এখন দ্বিতীয় ধাপে অর্থাৎ স্যাটেলাইট ইন অরবিটে।

এখন চলছে টেস্টিং

বঙ্গবন্ধু-১-এর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ বাংলাদেশের হাতে নিয়ে আসতে স্যাটেলাইটটির ওপর পরীক্ষা চালানো হচ্ছে। বেশ কয়েকটি পরীক্ষা শেষে পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ আসবে দেশের গাজীপুর জেলার জয়দেবপুর ও রাঙামাটির বেতবুনিয়ায় স্থাপিত গ্রাউন্ড স্টেশনে।

স্যাটেলাইট প্রকল্পের পরিচালক মোহাম্মদ মেসবাহুজ্জামান ২৪ মে, বৃহস্পতিবার বলেন, ‘স্যাটেলাইটটিকে টেস্ট করা হচ্ছে। পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ পেতে ২০ থেকে ২৫ দিন সময় লাগবে।’

পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে প্রকল্পের সমাপ্তি বা এর দায়িত্ব নবগঠিত বাংলাদেশ কমিউনিকেশন স্যাটেলাইট কোম্পানি লিমিটেডের হাতে হস্তান্তরবিষয়ক সিদ্ধান্ত আসতে পারে বলেও জানান এই কর্মকর্তা।

১১ মে, শুক্রবার বাংলাদেশ সময় দিবাগত রাতে মহাকাশে উৎক্ষেপণ করা হয় দেশের প্রথম স্যাটেলাইট। এটি ২০১৩ সালে রাশিয়ান কোম্পানি স্পুটনিকের কাছ থেকে ভাড়া নেওয়া অরবিটল স্লটে অবস্থান করবে।

বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটে রয়েছে ৪০টি ট্রান্সপন্ডার। এর মধ্যে ২৬টি কেইউ-ব্যান্ড ও ১৪টি সি-ব্যান্ডের। ওই ট্রান্সপন্ডারগুলোর মধ্যে প্রাথমিকভাবে ২০টি ব্যবহার করবে বাংলাদেশ।

এই কক্ষপথ থেকে বাংলাদেশ ছাড়াও সার্কভুক্ত সব দেশ, ইন্দোনেশিয়া, ফিলিপাইন, মিয়ানমার, তাজিকিস্তান, কিরগিজস্তান, উজবেকিস্তান, তুর্কমেনিস্তান ও কাজাখস্তানের কিছু অংশ বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটের আওতায় আসবে। তবে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে এই স্যাটেলাইট দিয়ে সেবা দেওয়া সম্ভব হবে না।