নির্বাচনের আগেই সুখবর আসছে সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য


নিজস্ব প্রতিবেদক,সেন্ট্রাল ডেস্ক | Published: 07:51 PM, July 09, 2018

IMG

চাকরিজীবীরা শিগগিরই বড় দুটি সুবিধা পেতে যাচ্ছেন। জাতীয় নির্বাচনের আগেই তাদের গৃহ নির্মাণ ঋণ এবং বর্ধিত বেতন দিতে সরকার উদ্যোগ নিয়েছে। সম্প্রতি অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে গৃহ নির্মাণ ঋণ নীতিমালার প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে।

অনুমোদনের পর এটি কার্যকর করা হবে। অপরদিকে, বেতন বৃদ্ধিসংক্রান্ত কমিটির প্রতিবেদন ইতিমধ্যে অর্থমন্ত্রীর কাছে জমা দেয়া হয়েছে। মূল্যস্ফীতির সঙ্গে সমন্বয় করে বেতন বাড়ানো হবে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।

জানা গেছে, বর্ধিত বেতন সমন্বয় করতে বাজেটে অতিরিক্ত পাঁচ হাজার ৩০২ কোটি টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। ২০১৮-১৯ অর্থবছরের বাজেটে সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন-ভাতা খাতে মোট ৫৮ হাজার ৫১২ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।

এ খাতে গত অর্থবছরের বাজেটে বরাদ্দ ছিল ৫৩ হাজার ২১০ কোটি টাকা। এছাড়া গৃহ নির্মাণ ঋণ বাস্তবায়নে সুদ পরিশোধ (ভর্তুকি) খাতে ১৯শ’ কোটি টাকা বেশি বরাদ্দ রেখেছে সরকার।

চলতি বাজেটে মোট ভর্তুকির অন্যান্য খাতে চার হাজার ৫০০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। ২০১৭-১৮ অর্থবছরে এ খাতে বরাদ্দ ছিল দুই হাজার ৬০০ কোটি টাকা। কারণ প্রস্তাবিত গৃহ নির্মাণ ঋণ নীতিমালা অনুযায়ী সুদ হার হবে ১০ শতাংশ। এরমধ্যে ঋণ গ্রহীতার পাঁচ শতাংশ সুদ পরিশোধ করবে সরকার।

এই সুদ সরকার ভর্তুকি হিসেবে দেবে। অবশিষ্ট পাঁচ শতাংশ সুদ ঋণ গ্রহীতাকে পরিশোধ করতে হবে। এ কারণে এ বছর ভর্তুকি খাতে বরাদ্দ বেশি রাখা হয়েছে। জানতে চাইলে অর্থ প্রতিমন্ত্রী এমএ মান্নান বলেন, সরকারি চাকরিজীবীরা প্রতি বছর সাধারণ নিয়মে পাঁচ শতাংশ হারে ইনক্রিমেন্ট পাচ্ছেন। এর বাইরে মূল্যস্ফীতির সঙ্গে সমন্বয় করে বেতন বাড়ানোর উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এটি নিয়ে কাজ চলছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে অর্থ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা বলেন, গৃহ নির্মাণ ঋণ নীতিমালা নীতিগত অনুমোদনের জন্য মন্ত্রিসভার বৈঠকে পাঠানোর কথা ছিল। কিন্তু এখন সরাসরি প্রধানমন্ত্রীর কাছে পাঠানোয় মন্ত্রিসভার বৈঠকের আর প্রয়োজন হবে না।

ঋণ নীতিমালায় যা আছে : গৃহ নির্মাণ ঋণের সিলিং সর্বনিু ২৫ লাখ ও সর্বোচ্চ ৭৫ লাখ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। সর্বোচ্চ ২০ বছর মেয়াদি এই ঋণে বাড়ি নির্মাণ বা ফ্ল্যাট কেনা যাবে। চাকরি স্থায়ী হওয়ার পাঁচ বছর পর থেকে এই ঋণ পাওয়া যাবে। সর্বোচ্চ ৫৮ বছর বয়স পর্যন্ত তা গ্রহণ করা যাবে।

এককভাবে বা গ্রুপভিত্তিক ঋণ নেয়া যাবে। জাতীয় বেতন স্কেলের ১৮ থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীরা ঢাকাসহ সব সিটি কর্পোরেশন ও বিভাগীয় সদরে ৩৫ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ সুবিধা পাবেন।