287628
শিরোনামঃ
মধ্যপ্রাচ্যে ২৭টি মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের হামলা মোজতবা খামেনি হচ্ছেন ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা ইরানের সর্বোচ্চ নেতা খামেনি নিহত, ৪০ দিনের রাষ্ট্রীয় শোক মধ্যপ্রাচ্যের মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের পাল্টা হামলা মধ্যপ্রাচ্যের সব ফ্লাইট বন্ধ ঘোষণা ইসরাইলের হামলার জবাবে পাল্টা হামলা শুরু ইরানের ইরানে ইসরায়েলি বাহিনীর হামলা প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের সিনিয়র মেডিকেল অফিসার হিসেবে নিয়োগ পেলেন ডাক্তার শাহ মুহাম্মদ আমান উল্লাহ চলে গেলেন সদা হাস্যোজ্জ্বল বিএনপি নেতা মেহেদী হাসান মিন্টু কর্মকর্তাদের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার সঙ্গে কাজ করার আহ্বান নবনিযুক্ত স্বরাষ্ট্র মন্ত্রীর

টাকার জন্য হচ্ছে না চিকিৎসা শেকল বন্দি আলমগীরের জীবন

#
news image

দারিদ্র্যের মুখোমুখি হয়ে শেকল বন্দি আলমগীর হোসেন নামের এক তরুন। অর্থাভাব আর সঠিক চিকিৎসা না পাওয়ায় এখন শেকল বন্দি জীবন কাটছে। 

মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া উপজেলার সাটুরিয়া ইউনিয়ন এর শেখরীনগর গ্রামে এক তরুন এইচএসসি পরীক্ষার উত্তীর্ণ হওয়ার পরপরই মানসিক ভারসাম্যহীন হয়ে পড়ে। অসচ্ছলতার কারণে মেধাবী এই তরুনকে সঠিক চিকিৎসা না দিতে পেরে ঘড় বন্দি করে রেখেছে তার পরিবার। 

সরেজমিনে দেখা যায়, দারিদ্র পরিবারের এক চরম বাস্তবতার প্রতিচ্ছবি আলমগীর , বয়স ২৬ কিংবা ২৭ হবে। তার যৌবন আজ বন্দি মরিচা পড়া লোহার শেকলে। গত পাঁচটি বছর যাবৎ ভাঙ্গাচুরা টিনের ঘড়ের ছোট্ট একটি রুমে কাটছে তার শেকল বন্দি জীবন। রুবিয়া-আওলাদ দম্পতির এক মেয়ে ও তিন ছেলে সন্তানের মধ্যে আলমগীর বড়। ছোট থেকে পড়া-লেখায় ছিলো অন্যদের তুলনায় ভালো এবং সে কৃতিত্বের সঙ্গে ২০১৭ সালে বানিজ্য বিভাগ থেকে এসএসসি এবং ২০২০ সালে মানবিক বিভাগ থেকে এইচএসসি পাশও করেন। হঠাৎ করেই আলমগীরের পরিবর্তন শুরু হয় এবং একটি পর্যায়ে সে মানসিক ভারসাম্যহীন হয়ে পড়ে। পরিস্থিতি এমন স্থানে দাঁড় করিয়েছে তাকে ( আলমগীর ) শেকল বন্দী করতে বাধ্য হয়েছে পরিবার । দিনমজুরি করে কোনো মতে চলে তাদের মা-ছেলেদের জীবন। আর এই চরম দারিদ্র্যতাই কেড়ে নিয়েছে আলমগীরের স্বাভাবিক জীবনের অধিকার। আলমগীরের বাবা নেই,মা রুবিয়া খাতুন সরকারের কাছ থেকে পাওয়া সামান্য ভাতায় ( ১৫ টাকা কেজি চাউল,৩০ কেজির এক বস্তা ) চলে তাদের জীবন। যেখানে তিন বেলা পেট ভরে খাবার জোগার করা অসম্ভব, সেখানে ছেলের উন্নত চিকিৎসা এ যেন এক বিলাসিতা। এই বন্দি জীবন সমাজের বিবেককে প্রশ্ন করে আর কত দিন শেকলে বাঁধা থাকবে আলমগীর ? দরিদ্র্য ও অসহায় আলমগীরকে শেকল থেকে মুক্ত করে সুস্থ জীবনে ফিরিয়ে আনতে প্রয়োজন সকলের সম্মিলিত সহযোগিতা। 

প্রতিবেশী মোঃ জিয়াউর রহমান বলেন, আলমগীরের পরিবারটি খুবই অসহায় ও অসচ্ছলতার মধ্য দিয়ে দিন পার করছে। তারা যে, কোন হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসা করাবে সেই অবস্থাটুকু নাই। মেধাবী শিক্ষার্থী আলমগীর হঠাৎ করেই অসুস্থ হয়ে পড়ে এবং মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলে। সমাজের বিত্তশালী যারা আছেন তারা যদি সহায়তার হাত বাড়িয়ে দেন তবে ওর ( আলমগীর) সুচিকিৎসা করা সম্ভব। রাহেলা বেগম নামের ষাটোর্ধ এক নারী বলেন, সারাটা জীবন শুধু আলমগীরের মা কষ্ট করেই গেলো। ছোট থেকে বড় করলো সন্তানদের অনেক কষ্ট করে, বছর খানেক আগে স্বামীটা স্ট্রোক করে মারা গেলো,ছেলে পাগল হলো। ওদের সংসারটা কেমনে চলে তা এক আল্লাহ জানেন,এক বেলা খাইলে আরেক বেলা খায়তে পারে না। সব গুলো ছেলে ছোট ছোট, যে বড় সেই পাগল হয়ছে। 

স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ( মেম্বার ) আব্দুল লতিফ বলছেন, আলমগীর হোসেন দীর্ঘ দিন যাবৎ মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে শিকলে বন্দি জীবন কাটছে। এমনিতেই ওরা দারিদ্র্য সীমার নিচে বসবাস করে তার মধ্যে বাবাটা মারা গেছে কয়েক বছর হলো। সরকারি ভাবে ১৫ টাকা কেজি চাউলের ব্যবস্থা করে দেওয়া হয়েছে তবে পেট পুরলেও চিকিৎসা করাটা অসম্ভব। যার কারণে সমাজের বিত্তশালীরা এগিয়ে আসলে সম্ভাবনাময় এই তারুন্যকে স্বাভাবিক জীবনে ফেরতে পারতো। 

মানসিক ভারসাম্যহীন আলমগীর হোসেনের মা রুবিয়া খাতুন বলেন, আমার পুলা ( ছেলে ) এইচএসসি পরীক্ষায় পাশ করার পরে হঠাৎ করেই পাগলামিসহ মানুষের সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করতে শুরু করে। পরে শেকলে বন্দি করি এবং কিছু জমি বিক্রি করে ওর বাবা চিকিৎসাও করায়। একটু সুস্থ হয়ে বাড়ি আসলেও আবার কয় দিন পর সেই আগের মতোই পাগলামি শুরু করলো,হঠাৎ করেই ওর বাবা স্ট্রোক করে মারা যায়। এখন যে অবস্থা তাতে করে মানুষের দ্বারে দ্বারে হাতপাতা ছাড়া আর কোন উপায় নাই। আমার তো বাপ-মা-স্বামী কেউ নাই,পাগল পোলাডারে নিয়ে কোন মতে বেঁচে আছি। আমার ছেলেরা ছোট ছোট, ওরা তেমন একটা কাজ করতে পারে না। এখন যে অবস্থা, সংসার চলে না আর সেখানে ওর (আলমগীর) চিকিৎসা করামু কেমনে। এখন দেখছি, আমি মরে গেলে ওরে কে দেখবো ? আমার পেটের সন্তান ওরা সবাই আমার কাছে সমান।

সাটুরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পঃ পঃ কর্মকর্তা ডাঃ মোঃ মামুন উর রশিদ বলেন, আলমগীর আসলে ডিপ্রেশনে ভুগছেন তবে দীর্ঘ দিন এই রোগে আক্রান্ত হলে সিজোফ্রেনিয়া হওয়ায় সম্ভবনা আছে। তবে এটি অন্য রোগের মতোই চিকিৎসায় নিরাময় যোগ্য। দ্রুত সঠিক চিকিৎসা পেলে মানসিক ভারসাম্যহীন রোগীদের একটি বড় অংশকে স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনা সম্ভব বলেও মন্তব্য করেন এই চিকিৎসক।

সাটুরিয়া প্রতিনিধি

২৫-১০-২০২৫ দুপুর ২:১২

news image

দারিদ্র্যের মুখোমুখি হয়ে শেকল বন্দি আলমগীর হোসেন নামের এক তরুন। অর্থাভাব আর সঠিক চিকিৎসা না পাওয়ায় এখন শেকল বন্দি জীবন কাটছে। 

মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া উপজেলার সাটুরিয়া ইউনিয়ন এর শেখরীনগর গ্রামে এক তরুন এইচএসসি পরীক্ষার উত্তীর্ণ হওয়ার পরপরই মানসিক ভারসাম্যহীন হয়ে পড়ে। অসচ্ছলতার কারণে মেধাবী এই তরুনকে সঠিক চিকিৎসা না দিতে পেরে ঘড় বন্দি করে রেখেছে তার পরিবার। 

সরেজমিনে দেখা যায়, দারিদ্র পরিবারের এক চরম বাস্তবতার প্রতিচ্ছবি আলমগীর , বয়স ২৬ কিংবা ২৭ হবে। তার যৌবন আজ বন্দি মরিচা পড়া লোহার শেকলে। গত পাঁচটি বছর যাবৎ ভাঙ্গাচুরা টিনের ঘড়ের ছোট্ট একটি রুমে কাটছে তার শেকল বন্দি জীবন। রুবিয়া-আওলাদ দম্পতির এক মেয়ে ও তিন ছেলে সন্তানের মধ্যে আলমগীর বড়। ছোট থেকে পড়া-লেখায় ছিলো অন্যদের তুলনায় ভালো এবং সে কৃতিত্বের সঙ্গে ২০১৭ সালে বানিজ্য বিভাগ থেকে এসএসসি এবং ২০২০ সালে মানবিক বিভাগ থেকে এইচএসসি পাশও করেন। হঠাৎ করেই আলমগীরের পরিবর্তন শুরু হয় এবং একটি পর্যায়ে সে মানসিক ভারসাম্যহীন হয়ে পড়ে। পরিস্থিতি এমন স্থানে দাঁড় করিয়েছে তাকে ( আলমগীর ) শেকল বন্দী করতে বাধ্য হয়েছে পরিবার । দিনমজুরি করে কোনো মতে চলে তাদের মা-ছেলেদের জীবন। আর এই চরম দারিদ্র্যতাই কেড়ে নিয়েছে আলমগীরের স্বাভাবিক জীবনের অধিকার। আলমগীরের বাবা নেই,মা রুবিয়া খাতুন সরকারের কাছ থেকে পাওয়া সামান্য ভাতায় ( ১৫ টাকা কেজি চাউল,৩০ কেজির এক বস্তা ) চলে তাদের জীবন। যেখানে তিন বেলা পেট ভরে খাবার জোগার করা অসম্ভব, সেখানে ছেলের উন্নত চিকিৎসা এ যেন এক বিলাসিতা। এই বন্দি জীবন সমাজের বিবেককে প্রশ্ন করে আর কত দিন শেকলে বাঁধা থাকবে আলমগীর ? দরিদ্র্য ও অসহায় আলমগীরকে শেকল থেকে মুক্ত করে সুস্থ জীবনে ফিরিয়ে আনতে প্রয়োজন সকলের সম্মিলিত সহযোগিতা। 

প্রতিবেশী মোঃ জিয়াউর রহমান বলেন, আলমগীরের পরিবারটি খুবই অসহায় ও অসচ্ছলতার মধ্য দিয়ে দিন পার করছে। তারা যে, কোন হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসা করাবে সেই অবস্থাটুকু নাই। মেধাবী শিক্ষার্থী আলমগীর হঠাৎ করেই অসুস্থ হয়ে পড়ে এবং মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলে। সমাজের বিত্তশালী যারা আছেন তারা যদি সহায়তার হাত বাড়িয়ে দেন তবে ওর ( আলমগীর) সুচিকিৎসা করা সম্ভব। রাহেলা বেগম নামের ষাটোর্ধ এক নারী বলেন, সারাটা জীবন শুধু আলমগীরের মা কষ্ট করেই গেলো। ছোট থেকে বড় করলো সন্তানদের অনেক কষ্ট করে, বছর খানেক আগে স্বামীটা স্ট্রোক করে মারা গেলো,ছেলে পাগল হলো। ওদের সংসারটা কেমনে চলে তা এক আল্লাহ জানেন,এক বেলা খাইলে আরেক বেলা খায়তে পারে না। সব গুলো ছেলে ছোট ছোট, যে বড় সেই পাগল হয়ছে। 

স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ( মেম্বার ) আব্দুল লতিফ বলছেন, আলমগীর হোসেন দীর্ঘ দিন যাবৎ মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে শিকলে বন্দি জীবন কাটছে। এমনিতেই ওরা দারিদ্র্য সীমার নিচে বসবাস করে তার মধ্যে বাবাটা মারা গেছে কয়েক বছর হলো। সরকারি ভাবে ১৫ টাকা কেজি চাউলের ব্যবস্থা করে দেওয়া হয়েছে তবে পেট পুরলেও চিকিৎসা করাটা অসম্ভব। যার কারণে সমাজের বিত্তশালীরা এগিয়ে আসলে সম্ভাবনাময় এই তারুন্যকে স্বাভাবিক জীবনে ফেরতে পারতো। 

মানসিক ভারসাম্যহীন আলমগীর হোসেনের মা রুবিয়া খাতুন বলেন, আমার পুলা ( ছেলে ) এইচএসসি পরীক্ষায় পাশ করার পরে হঠাৎ করেই পাগলামিসহ মানুষের সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করতে শুরু করে। পরে শেকলে বন্দি করি এবং কিছু জমি বিক্রি করে ওর বাবা চিকিৎসাও করায়। একটু সুস্থ হয়ে বাড়ি আসলেও আবার কয় দিন পর সেই আগের মতোই পাগলামি শুরু করলো,হঠাৎ করেই ওর বাবা স্ট্রোক করে মারা যায়। এখন যে অবস্থা তাতে করে মানুষের দ্বারে দ্বারে হাতপাতা ছাড়া আর কোন উপায় নাই। আমার তো বাপ-মা-স্বামী কেউ নাই,পাগল পোলাডারে নিয়ে কোন মতে বেঁচে আছি। আমার ছেলেরা ছোট ছোট, ওরা তেমন একটা কাজ করতে পারে না। এখন যে অবস্থা, সংসার চলে না আর সেখানে ওর (আলমগীর) চিকিৎসা করামু কেমনে। এখন দেখছি, আমি মরে গেলে ওরে কে দেখবো ? আমার পেটের সন্তান ওরা সবাই আমার কাছে সমান।

সাটুরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পঃ পঃ কর্মকর্তা ডাঃ মোঃ মামুন উর রশিদ বলেন, আলমগীর আসলে ডিপ্রেশনে ভুগছেন তবে দীর্ঘ দিন এই রোগে আক্রান্ত হলে সিজোফ্রেনিয়া হওয়ায় সম্ভবনা আছে। তবে এটি অন্য রোগের মতোই চিকিৎসায় নিরাময় যোগ্য। দ্রুত সঠিক চিকিৎসা পেলে মানসিক ভারসাম্যহীন রোগীদের একটি বড় অংশকে স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনা সম্ভব বলেও মন্তব্য করেন এই চিকিৎসক।