287628

রাজশাহীতে যত্রতত্র কীটনাশকের দোকান

#
news image

রাজশাহী সহ বরেন্দ্র অঞ্চলের গ্রামগুলোতে যত্রতত্র গড়ে উঠেছে বালাইনাশক ও কীটনাশকের দোকান। অনেকে আবার মুদি দোকানের সঙ্গে কীটনাশকও বিক্রি করছে। এদের বেশির ভাগেরই নেই কোন প্রশিক্ষণ। শুধু তাই না, লাইন্সেস ছাড়াও শুধু মাত্র কীটনাশক কোম্পানীর হয়ে ডিলার নিয়েও গ্রাম-গঞ্জে ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে অনেকে। এর মধ্যে ভেজাল ও নকল কীটনাশকও দিয়েও কৃষকদের ঠকাচ্ছে এক শ্রেণীর ব্যবসায়ীরা। অজ্ঞ এসব দোকানিরা সাধারণ কৃষকদের যেমন ক্ষতি করছে, তেমন ক্ষতির মুখে পড়ছে পরিবেশ।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কতটুকু জমিতে, কোন ফসলে, কী পরিমাণ কীটনাশক ব্যবহার করা দরকার সে সম্পর্কে তাদের কোনো প্রশিক্ষণ বা প্রাতিষ্ঠানিক ধারণা নেই। নিজ ধারণা থেকে কৃষকদের কীটনাশক সরবরহ করছেন ডিলারগুলো। এতে কৃষকেরা ফসলে ব্যবহারে উপকারের চেয়ে ক্ষতির হচ্ছে বেশি বলে অভিযোগ কৃষকদের।

রাজশাহী জেলা কৃষি সম্প্রসারণের তথ্য মতে, রাজশাহী মহানগরীসহ জেলার ১১ উপজেলায় দুই হাজার ৫০০টি খুচরা কীটনাশক বিক্রেতা ও ৫০৫টি পাইকারী কীটনাশকন-বালাইনাশক ডিলার রয়েছে। এর বাইরে লাইন্সেস নেই এমন ডিলারদের সংখ্যাও কম নয়। উপজেলাগুলো হলো, তানোর, গোদাগাড়ী, পবা, মোহনপুর, বাগমারা, দুর্গাপুর, পুঠিয়া, চারঘাট, বাঘা, শাহ মুখদম ও রাজপাড়া।

এদিকে উপজেলা পর্যায়ে কৃষি সম্প্রাসারণ অধিদপ্তর হতে বালাইনাশক ও কীটনাশক লাইন্সেস দেয়া নিয়েও রয়েছে নানা অভিযোগ। বালইনাশক লাইন্সেস পেতে শুরুতেই শর্ত মেনে করতে হয় আবেদন। আবেদনকারীদের নেওয়া হয় পরীক্ষা। পরীক্ষায় পাশ করলেই মিলবে লাইন্সেস। এমন নিয়ম কাগজে-কলমে সীমাবদ্ধ থাকে। বাস্তবে চিত্রটা ভিন্ন। আবেদনকারীকে ফেল বা অযোগ্য দেখিয়ে রেজাল্ট দেয়া হয়। পরে সেই অযোগ্য ব্যাক্তিকেই আবারো মোটা অংকের অর্থে বিনিময়ে লাইন্সেস দেয়া ভরি ভরি অভিযোগ রয়েছে উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে।

সম্প্রতি রাজশাহীর তানোর উপজেলায় কৃষি সম্প্রাসারণ অধিদপ্তরে ২০২৪-২০২৫ অর্থ বছরে বালাইনাশক লাইন্সেস জন্য আবেদন করেন ৪৭ জন্য ব্যাক্তি। তাদের পরীক্ষা নেওয়া হয় ৬০ নম্বরের। পরে অফিসের বোর্ডে ৪৭ জনের রেজাল্টের তালিকা প্রকাশ করা হয়। এতে পাশ করেন মাত্র ৬ জন আবেদনকারী। আর ৪১ জনকে অকৃতকার্য দেখানো হয়। অকৃতকার্য ৪১ জনের মধ্যে থেকে পর্যায়ক্রমে অতি গোপনে অর্থে বিনিময়ে আরো ১৫ থেকে ২০ জনকে লাইন্সেস করার অভিযোগ রয়েছে।

তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তারা। তারা বলছেন নিয়ম মেনে বালাইনাশক লাইন্সেস দেয়া হয়। এখানের অর্থে লেনদেন হয়না।

রাজশাহীর তানোর উপজেলার পাঁচন্দর ইউপির ডাঙ্গাপাড়া গ্রামের কৃষক সাহাবুর রহমান বলেন,চলতি আমন মৌসুমে তিনি ৮ বিঘা জমিতে ধান চাষ করেছেন। স্থানীয় কীটনাশক ডিলালের পরামর্শে একাধিক বার কীটনাশক স্প্রে করেও তার জমিতে পচন ও পোকার আক্রমন হতে ধান রক্ষা করতে পারেনি। এতে তার ফলন কমে যাওয়ার শস্কা রয়েছে। 

চাঁপাইনবাবগঞ্জ হর্টিকালচার সেন্টারের কৃষিবিদ ও গবেষক জহরুল ইসলামের মতে, যত্রতত্র কীটনাশক ডিলার নিয়োগ দেয়াই কৃষকেরা সহজেই হাতের নাগালে পেয়ে যাচ্ছে বিভিন্ন প্রকার কীটনাশক। এসব কীটনাশকের অনেক নিম্নমানের কোম্পানীর গ্রামে ডিলারদের সরবরহ করে থাকে। আর সে নিম্নমানের কীটনাশক ব্যবহারে প্রতারিত হচ্ছে কৃষক।

এ কৃষিবিদ আরো বলেন, জীবন ধারণ এবং সুস্বাস্থ্যের জন্য বিশুদ্ধ ও পুষ্টিকর খাবার প্রয়োজন হলেও দেশে বর্তমানে ভেজাল খাদ্যপণ্যের পাশাপাশি শাক-সবজিতেও কীটনাশক ব্যবহারের মাত্রা ছাড়িয়ে গেছে। বিশেষ করে ফসল উৎপাদনে অবাধে ব্যবহার হচ্ছে মাত্রাতিরিক্ত কীটনাশক। এতে ফসল বিষাক্ত হয়ে জনস্বাস্থ্য ঝুঁকির মুখে পড়ছে, নষ্ট হচ্ছে মাটির উর্বরা শক্তি। হুমকিতে পড়েছে প্রাণবৈচিত্র ও জনস্বাস্থ্য, বাড়ছে রোগব্যাধির প্রকোপ।

তাই দ্রত রাসায়নিক সার ও কীটনাশকের বদলে পরিবেশবান্ধব জৈব পদ্ধতিতে ফসল উৎপাদন করে মানুষের স্বাস্থ্যের পাশাপাশি মাটির স্বাস্থ্য ফিরিয়ে দেওয়াও জন্য কৃষকদের মাঝে প্রচারণা চালাতে হবে। পাশাপাশি সরকার কেউ যততন্ত্র ডিলার নিয়োগ দেয়া বন্ধ করতে হবে।

এসব বিষয়ে রাজশাহী জেলা কৃষি সম্প্রাসারণের উপ-পরিচালক মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন বলেন, কৃষি বিভাগের লাইন্সেস ও কীটনাশক কোম্পানীর অনুমতিপত্র ছাড়া কীটনাশক বিক্রি করার সুযোগ নেই। যদি কেউ গ্রামে এমন ভাবে দোকান দিয়ে কীটনাশক বিক্রি করে থাকে তবে দ্রত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

উপ-পরিচালক আরো বলেন,আমি রাজশাহীতে নতুন এসেছি। লাইন্সেস এর বিনিময়ে অর্থ নেওয়ার বিষয়টি তদন্ত করা হবে। যদি প্রমান হয় তবে লাইন্সেস বাতিল করা হবে।

রাজশাহী প্রতিনিধি

২৯-১০-২০২৫ দুপুর ১:১৩

news image

রাজশাহী সহ বরেন্দ্র অঞ্চলের গ্রামগুলোতে যত্রতত্র গড়ে উঠেছে বালাইনাশক ও কীটনাশকের দোকান। অনেকে আবার মুদি দোকানের সঙ্গে কীটনাশকও বিক্রি করছে। এদের বেশির ভাগেরই নেই কোন প্রশিক্ষণ। শুধু তাই না, লাইন্সেস ছাড়াও শুধু মাত্র কীটনাশক কোম্পানীর হয়ে ডিলার নিয়েও গ্রাম-গঞ্জে ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে অনেকে। এর মধ্যে ভেজাল ও নকল কীটনাশকও দিয়েও কৃষকদের ঠকাচ্ছে এক শ্রেণীর ব্যবসায়ীরা। অজ্ঞ এসব দোকানিরা সাধারণ কৃষকদের যেমন ক্ষতি করছে, তেমন ক্ষতির মুখে পড়ছে পরিবেশ।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কতটুকু জমিতে, কোন ফসলে, কী পরিমাণ কীটনাশক ব্যবহার করা দরকার সে সম্পর্কে তাদের কোনো প্রশিক্ষণ বা প্রাতিষ্ঠানিক ধারণা নেই। নিজ ধারণা থেকে কৃষকদের কীটনাশক সরবরহ করছেন ডিলারগুলো। এতে কৃষকেরা ফসলে ব্যবহারে উপকারের চেয়ে ক্ষতির হচ্ছে বেশি বলে অভিযোগ কৃষকদের।

রাজশাহী জেলা কৃষি সম্প্রসারণের তথ্য মতে, রাজশাহী মহানগরীসহ জেলার ১১ উপজেলায় দুই হাজার ৫০০টি খুচরা কীটনাশক বিক্রেতা ও ৫০৫টি পাইকারী কীটনাশকন-বালাইনাশক ডিলার রয়েছে। এর বাইরে লাইন্সেস নেই এমন ডিলারদের সংখ্যাও কম নয়। উপজেলাগুলো হলো, তানোর, গোদাগাড়ী, পবা, মোহনপুর, বাগমারা, দুর্গাপুর, পুঠিয়া, চারঘাট, বাঘা, শাহ মুখদম ও রাজপাড়া।

এদিকে উপজেলা পর্যায়ে কৃষি সম্প্রাসারণ অধিদপ্তর হতে বালাইনাশক ও কীটনাশক লাইন্সেস দেয়া নিয়েও রয়েছে নানা অভিযোগ। বালইনাশক লাইন্সেস পেতে শুরুতেই শর্ত মেনে করতে হয় আবেদন। আবেদনকারীদের নেওয়া হয় পরীক্ষা। পরীক্ষায় পাশ করলেই মিলবে লাইন্সেস। এমন নিয়ম কাগজে-কলমে সীমাবদ্ধ থাকে। বাস্তবে চিত্রটা ভিন্ন। আবেদনকারীকে ফেল বা অযোগ্য দেখিয়ে রেজাল্ট দেয়া হয়। পরে সেই অযোগ্য ব্যাক্তিকেই আবারো মোটা অংকের অর্থে বিনিময়ে লাইন্সেস দেয়া ভরি ভরি অভিযোগ রয়েছে উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে।

সম্প্রতি রাজশাহীর তানোর উপজেলায় কৃষি সম্প্রাসারণ অধিদপ্তরে ২০২৪-২০২৫ অর্থ বছরে বালাইনাশক লাইন্সেস জন্য আবেদন করেন ৪৭ জন্য ব্যাক্তি। তাদের পরীক্ষা নেওয়া হয় ৬০ নম্বরের। পরে অফিসের বোর্ডে ৪৭ জনের রেজাল্টের তালিকা প্রকাশ করা হয়। এতে পাশ করেন মাত্র ৬ জন আবেদনকারী। আর ৪১ জনকে অকৃতকার্য দেখানো হয়। অকৃতকার্য ৪১ জনের মধ্যে থেকে পর্যায়ক্রমে অতি গোপনে অর্থে বিনিময়ে আরো ১৫ থেকে ২০ জনকে লাইন্সেস করার অভিযোগ রয়েছে।

তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তারা। তারা বলছেন নিয়ম মেনে বালাইনাশক লাইন্সেস দেয়া হয়। এখানের অর্থে লেনদেন হয়না।

রাজশাহীর তানোর উপজেলার পাঁচন্দর ইউপির ডাঙ্গাপাড়া গ্রামের কৃষক সাহাবুর রহমান বলেন,চলতি আমন মৌসুমে তিনি ৮ বিঘা জমিতে ধান চাষ করেছেন। স্থানীয় কীটনাশক ডিলালের পরামর্শে একাধিক বার কীটনাশক স্প্রে করেও তার জমিতে পচন ও পোকার আক্রমন হতে ধান রক্ষা করতে পারেনি। এতে তার ফলন কমে যাওয়ার শস্কা রয়েছে। 

চাঁপাইনবাবগঞ্জ হর্টিকালচার সেন্টারের কৃষিবিদ ও গবেষক জহরুল ইসলামের মতে, যত্রতত্র কীটনাশক ডিলার নিয়োগ দেয়াই কৃষকেরা সহজেই হাতের নাগালে পেয়ে যাচ্ছে বিভিন্ন প্রকার কীটনাশক। এসব কীটনাশকের অনেক নিম্নমানের কোম্পানীর গ্রামে ডিলারদের সরবরহ করে থাকে। আর সে নিম্নমানের কীটনাশক ব্যবহারে প্রতারিত হচ্ছে কৃষক।

এ কৃষিবিদ আরো বলেন, জীবন ধারণ এবং সুস্বাস্থ্যের জন্য বিশুদ্ধ ও পুষ্টিকর খাবার প্রয়োজন হলেও দেশে বর্তমানে ভেজাল খাদ্যপণ্যের পাশাপাশি শাক-সবজিতেও কীটনাশক ব্যবহারের মাত্রা ছাড়িয়ে গেছে। বিশেষ করে ফসল উৎপাদনে অবাধে ব্যবহার হচ্ছে মাত্রাতিরিক্ত কীটনাশক। এতে ফসল বিষাক্ত হয়ে জনস্বাস্থ্য ঝুঁকির মুখে পড়ছে, নষ্ট হচ্ছে মাটির উর্বরা শক্তি। হুমকিতে পড়েছে প্রাণবৈচিত্র ও জনস্বাস্থ্য, বাড়ছে রোগব্যাধির প্রকোপ।

তাই দ্রত রাসায়নিক সার ও কীটনাশকের বদলে পরিবেশবান্ধব জৈব পদ্ধতিতে ফসল উৎপাদন করে মানুষের স্বাস্থ্যের পাশাপাশি মাটির স্বাস্থ্য ফিরিয়ে দেওয়াও জন্য কৃষকদের মাঝে প্রচারণা চালাতে হবে। পাশাপাশি সরকার কেউ যততন্ত্র ডিলার নিয়োগ দেয়া বন্ধ করতে হবে।

এসব বিষয়ে রাজশাহী জেলা কৃষি সম্প্রাসারণের উপ-পরিচালক মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন বলেন, কৃষি বিভাগের লাইন্সেস ও কীটনাশক কোম্পানীর অনুমতিপত্র ছাড়া কীটনাশক বিক্রি করার সুযোগ নেই। যদি কেউ গ্রামে এমন ভাবে দোকান দিয়ে কীটনাশক বিক্রি করে থাকে তবে দ্রত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

উপ-পরিচালক আরো বলেন,আমি রাজশাহীতে নতুন এসেছি। লাইন্সেস এর বিনিময়ে অর্থ নেওয়ার বিষয়টি তদন্ত করা হবে। যদি প্রমান হয় তবে লাইন্সেস বাতিল করা হবে।