রাজশাহীতে টানা তিন দিনের বৃষ্টি ও ঝড়ে কৃষকের স্বপ্ন নষ্ট
রাজশাহী প্রতিনিধি
১-১১-২০২৫ দুপুর ২:৫৯
রাজশাহীতে টানা তিন দিনের বৃষ্টি ও ঝড়ে কৃষকের স্বপ্ন নষ্ট
রাজশাহীতে টানা তিন দিনের বৃষ্টি ও ঝড়ো হাওয়ায় কৃষকেরা বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েছেন। বিশেষ করে তানোর, চারঘাট, পবা ও গোদাগাড়ী উপজেলায় আমনধানের পাকা ও আধা পাকা গাছ মাটিতে লুটিয়ে পড়েছে।চাষীরা জানিয়েছেন আর মাত্র ১০ থেকে ১৫ দিনের মধ্যেই কর্তন করা হতো ধান। কিন্তু গত বুধবার সন্ধ্যা থেকে গুড়ি গুড়ি বৃষ্টি এবং শুক্রবার সারারাতের টানা বৃষ্টি ও ঝড়ে ক্ষেতে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে।নিচু জমিতে জমে থাকা পানিতে শাকসবজি ও রবিশস্যের ক্ষেতও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ অবস্থায় বিপাকে পড়েছেন কৃষকেরা।
রাজশাহী আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, গত ২৪ ঘন্টায় জেলায়১৪ দশমিক ৮ মিলিমিটারের বেশি বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। বৃষ্টি থাকতে পারে আরো দু’একদিন। রাজশাহী আবহাওয়া অফিসের ইনচার্জ রহিদুল ইসলাম বলেন, ‘রাজশাহীতে চলমান বৃষ্টি রবিবার পর্যন্ত থাকতেপারে। গত ২৪ ঘন্টায় রাজশাহীতে ১৪ দশমিক ৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। সময়ের সাথে আবহাওয়ার উন্নতি হবে।’
সরেজমিনে কয়েকটি আমনধানের ক্ষেতে গেলে দেখতে পাওয়া যায়, গতকালের সারারাতের বৃষ্টি ও ঝড়ো বাতাসে বেশির ভাগ জমির ধান গাছ মাটিতে নূয়ে পড়েছে। ক্ষেতে পানি জমে থাকায় ধানের শীষগুলো পানিতে ডুবে আছে। কৃষকেরা জানিয়েছে এ অবস্থায় থাকলে সেগুলো শীষ চিটাহয়ে পঁচে যাবে। তানোর উপজেলার কৃষক সাইদুল ইসলাম বলেন, “ধান কাটা শুরু করার কথাছিল এই সপ্তাহে। কিন্তু হঠাৎবৃষ্টিতে ক্ষেতের ধান মাটিতে পড়ে গেছে। শুকাতে না পারলে ধান পচে যাবে।”আরেক কৃষক জহুরুল হক বলেন, “আমরা নালা খনন করে পানি নামানোর চেষ্টা করছি, কিন্তু নিষ্কাশন ব্যবস্থা ঠিকনা থাকায় কাজ হচ্ছেনা।আবার এই পড়ে যাওয়া ধান কাটতে বাড়তি শ্রমিক প্রয়োজন হবে।”
পবা উপজেলা রনওহাটা মধূসূদনপুর এলাকার কৃষক মোস্তফা বলেন, “আমি ২ বিঘা জমিতে ধান লাগিয়ে ছিলাম। কিন্তু গতকালের বৃষ্টিতে জমির অর্ধেক ধান মাটিতে পড়ে গেছে। এখন এই অবস্থায় ধানের ফলনও কম পাবো। এতে করে আমরা ক্ষতির সম্মুখীন হবো।”
রাজশাহী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন বলেন,“এখন রবি মৌসুম কেবলমাত্র শুরু হয়েছে।অনেক জায়গায় কৃষকেরা শীতকালীন সবজি লাগানোর জন্য বীজ রোপণ করেছে, সেগুলো ক্ষেতে বৃষ্টির পানি জমে থাকলে পঁচে যাবে। এছাড়াও পড়ে যাওয়া ধান কাটতে বাড়তি শ্রমিক প্রয়োজন হবে।আমরা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে কৃষকদের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ ও পরামর্শ প্রদান করছি।”
তবে রাজশাহীতে বৃষ্টির প্রভাবে যেভাবে ফসলের ক্ষতি হয়েছে, আবহাওয়া উন্নতি না হলেএবং ক্ষেতে পাানি জমে থাকলে কৃষকেরা মনে করছেন তাদের ফসলে বড় বিপর্যয় হবে। জমি থেকে পানি নিষ্কাশন না হলে ধান সহ অন্যান্য ফসল উৎপাদনেও বড় ধাক্কা লাগতে পারে।
রাজশাহী প্রতিনিধি
১-১১-২০২৫ দুপুর ২:৫৯
রাজশাহীতে টানা তিন দিনের বৃষ্টি ও ঝড়ো হাওয়ায় কৃষকেরা বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েছেন। বিশেষ করে তানোর, চারঘাট, পবা ও গোদাগাড়ী উপজেলায় আমনধানের পাকা ও আধা পাকা গাছ মাটিতে লুটিয়ে পড়েছে।চাষীরা জানিয়েছেন আর মাত্র ১০ থেকে ১৫ দিনের মধ্যেই কর্তন করা হতো ধান। কিন্তু গত বুধবার সন্ধ্যা থেকে গুড়ি গুড়ি বৃষ্টি এবং শুক্রবার সারারাতের টানা বৃষ্টি ও ঝড়ে ক্ষেতে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে।নিচু জমিতে জমে থাকা পানিতে শাকসবজি ও রবিশস্যের ক্ষেতও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ অবস্থায় বিপাকে পড়েছেন কৃষকেরা।
রাজশাহী আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, গত ২৪ ঘন্টায় জেলায়১৪ দশমিক ৮ মিলিমিটারের বেশি বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। বৃষ্টি থাকতে পারে আরো দু’একদিন। রাজশাহী আবহাওয়া অফিসের ইনচার্জ রহিদুল ইসলাম বলেন, ‘রাজশাহীতে চলমান বৃষ্টি রবিবার পর্যন্ত থাকতেপারে। গত ২৪ ঘন্টায় রাজশাহীতে ১৪ দশমিক ৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। সময়ের সাথে আবহাওয়ার উন্নতি হবে।’
সরেজমিনে কয়েকটি আমনধানের ক্ষেতে গেলে দেখতে পাওয়া যায়, গতকালের সারারাতের বৃষ্টি ও ঝড়ো বাতাসে বেশির ভাগ জমির ধান গাছ মাটিতে নূয়ে পড়েছে। ক্ষেতে পানি জমে থাকায় ধানের শীষগুলো পানিতে ডুবে আছে। কৃষকেরা জানিয়েছে এ অবস্থায় থাকলে সেগুলো শীষ চিটাহয়ে পঁচে যাবে। তানোর উপজেলার কৃষক সাইদুল ইসলাম বলেন, “ধান কাটা শুরু করার কথাছিল এই সপ্তাহে। কিন্তু হঠাৎবৃষ্টিতে ক্ষেতের ধান মাটিতে পড়ে গেছে। শুকাতে না পারলে ধান পচে যাবে।”আরেক কৃষক জহুরুল হক বলেন, “আমরা নালা খনন করে পানি নামানোর চেষ্টা করছি, কিন্তু নিষ্কাশন ব্যবস্থা ঠিকনা থাকায় কাজ হচ্ছেনা।আবার এই পড়ে যাওয়া ধান কাটতে বাড়তি শ্রমিক প্রয়োজন হবে।”
পবা উপজেলা রনওহাটা মধূসূদনপুর এলাকার কৃষক মোস্তফা বলেন, “আমি ২ বিঘা জমিতে ধান লাগিয়ে ছিলাম। কিন্তু গতকালের বৃষ্টিতে জমির অর্ধেক ধান মাটিতে পড়ে গেছে। এখন এই অবস্থায় ধানের ফলনও কম পাবো। এতে করে আমরা ক্ষতির সম্মুখীন হবো।”
রাজশাহী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন বলেন,“এখন রবি মৌসুম কেবলমাত্র শুরু হয়েছে।অনেক জায়গায় কৃষকেরা শীতকালীন সবজি লাগানোর জন্য বীজ রোপণ করেছে, সেগুলো ক্ষেতে বৃষ্টির পানি জমে থাকলে পঁচে যাবে। এছাড়াও পড়ে যাওয়া ধান কাটতে বাড়তি শ্রমিক প্রয়োজন হবে।আমরা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে কৃষকদের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ ও পরামর্শ প্রদান করছি।”
তবে রাজশাহীতে বৃষ্টির প্রভাবে যেভাবে ফসলের ক্ষতি হয়েছে, আবহাওয়া উন্নতি না হলেএবং ক্ষেতে পাানি জমে থাকলে কৃষকেরা মনে করছেন তাদের ফসলে বড় বিপর্যয় হবে। জমি থেকে পানি নিষ্কাশন না হলে ধান সহ অন্যান্য ফসল উৎপাদনেও বড় ধাক্কা লাগতে পারে।