287628
শিরোনামঃ
নির্ধারিত সময়ে অফিসে আসেননি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা, বারান্দায় বসে থাকলেন ভূমি প্রতিমন্ত্রী মধ্যপ্রাচ্যে ২৭টি মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের হামলা মোজতবা খামেনি হচ্ছেন ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা ইরানের সর্বোচ্চ নেতা খামেনি নিহত, ৪০ দিনের রাষ্ট্রীয় শোক মধ্যপ্রাচ্যের মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের পাল্টা হামলা মধ্যপ্রাচ্যের সব ফ্লাইট বন্ধ ঘোষণা ইসরাইলের হামলার জবাবে পাল্টা হামলা শুরু ইরানের ইরানে ইসরায়েলি বাহিনীর হামলা প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের সিনিয়র মেডিকেল অফিসার হিসেবে নিয়োগ পেলেন ডাক্তার শাহ মুহাম্মদ আমান উল্লাহ চলে গেলেন সদা হাস্যোজ্জ্বল বিএনপি নেতা মেহেদী হাসান মিন্টু

বেগুন ক্ষেতে মোজাইক ভাইরাস কৃষকের মাথায় হাত

#
news image

কুড়িগ্রামের চিলমারীতে বানিজ্যিকভাবে চাষ করা বেগুন চাষে মোজাইক নামক এক ধরনের ভাইরাসের আক্রমণ দেখা দেয়ায় দুশ্চিন্তায় পড়েছেন এ অঞ্চলের কৃষকরা। আশানুরূপ ফলন নিয়ে দেখা দিয়েছে শঙ্কা। এদিকে এনজিওর লোনের টাকায় আবাদ করে ফলন নিয়ে চরম দুশ্চিন্তায় পড়েছেন স্থানীয় কৃষকরা। তবে কৃষি অফিস থেকে রোগ প্রতিরোধে দেয়া হচ্ছে নানা ধরনের পরামর্শ ও সহযোগিতা।  

স্থানীয় কৃষকদের দাবি, নিচু জমি হওয়ায় বন্যার সময় পানি উঠেছিল। তবে নোনা পানি হওয়ায় এবার প্রায় সব ধরনের আবাদে শঙ্কা দেখা দিয়েছে। এছাড়া ভাইরাস ও পোকার আক্রমণে গাছের বাড়ন্ত কমে গেছে অনেকখানি। এছাড়া শীতের তীব্রতা বাড়লে বড় ধরনের ক্ষতির মূখে পড়তে হবে তাদের। এনজিওর লোনের টাকায় আবাদ করে কিস্তির টাকা পরিশোধ নিয়ে প্রতিনিয়ত দুশ্চিন্তায় দিন কাটছে কৃষকদের।

সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, বেগুন ক্ষেতের কিছু কিছু গাছের পাতা হলুদ হয়ে ঝড়ে পড়ছে। এছাড়াও বেগুন গাছ পুরোটাই হলদে হয়ে গেছে। মুলত এই গাছ গুলো মোজাইক ভাইরাসের দ্বারা ক্ষতিগ্রস্থ। এছাড়াও চোষোক পোকার আক্রমণ রয়েছে৷ এর ফলে এ বছর বেগুনের আবাদ নিয়ে দুশ্চিন্তা কাটছে না কৃষকদের। 

পাত্রখাতা এলাকার কৃষক মাজেদুল ইসলাম বলেন, ৩০ শতক জমিতে এবার লাগিয়েছেন বেগুন গাছ। এখন পর্যন্ত খরচ প্রায় ১০ হাজার টাকা। গত বছরে বেগুন চাষে লাভ হওয়ায় এবার দ্বিগুণ জায়গা জুড়ে বেগুনের চারা লাগিয়েছেন৷ তবে, এবার দেখা দিয়েছে পোকা ও ভাইরাসের আক্রমণ। ফলে ভালো ফলন নিয়ে পড়েছেন দুশ্চিন্তায়। 

সবুজ মিয়া নামে আরেক কৃষক জানান, এখন গাছে ফুল ধরেছে এই সময় যদি শীতের প্রকোপ বাড়ে, কুয়াশা পড়ে তাহলে গাছের বাড়ন্ত কমে যাবে। এতে ফলনও কমে যাবে। আমরা মুলত এনজিও থেকে লোন নিয়ে চাষাবাদ করছি লাভ না হলে খুব ক্ষতির মুখে পরে যাবো। উপার্জন না করতে পারলে বউ ছেলে মেয়েকে খাওয়াবো কি। 

এদিকে, কুড়িগ্রাম রাজারহাট আবহাওয়া কার্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সুবল চন্দ্র সরকার বলেন, রবিবার জেলায় ১২.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে। এখন প্রতিদিনই কুয়াশা পড়ছে। সামনে কুয়াশা ও ঠাণ্ডা আরও বাড়বে। তিনি আরও জানান, দিন দিন তাপমাত্রা কমে শীতের তীব্রতা বাড়ছে। 

চিলমারী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কনক চন্দ্র রায় জানান, কিছু কিছু বেগুন গাছে মোজাইক ভাইরাস রয়েছে। ভাইরাস কখনো ঠিক হয় না এবং কিছু চোষক পোকার মাধ্যমে এক গাছ থেকে আরেক গাছে ছড়ায়। এই ভাইরাস যুক্ত গাছ উপড়ে ফেলতে হবে এবং চোষোক পোকা যেমন জাব পোকা, সাদা মাছি, থ্রীপস দমনের জন্য ইমিডাক্লোরোপ্রীড গ্রুপের কীটনাশক ব্যবহার করতে হবে। আর সামনে এখন যদি শীতের তীব্রতা বাড়ে তাহলে চারা এবং বাড়ন্ত বেগুন গাছের বৃদ্ধি কমে যায়।

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি

৮-১২-২০২৫ রাত ১০:৩৫

news image

কুড়িগ্রামের চিলমারীতে বানিজ্যিকভাবে চাষ করা বেগুন চাষে মোজাইক নামক এক ধরনের ভাইরাসের আক্রমণ দেখা দেয়ায় দুশ্চিন্তায় পড়েছেন এ অঞ্চলের কৃষকরা। আশানুরূপ ফলন নিয়ে দেখা দিয়েছে শঙ্কা। এদিকে এনজিওর লোনের টাকায় আবাদ করে ফলন নিয়ে চরম দুশ্চিন্তায় পড়েছেন স্থানীয় কৃষকরা। তবে কৃষি অফিস থেকে রোগ প্রতিরোধে দেয়া হচ্ছে নানা ধরনের পরামর্শ ও সহযোগিতা।  

স্থানীয় কৃষকদের দাবি, নিচু জমি হওয়ায় বন্যার সময় পানি উঠেছিল। তবে নোনা পানি হওয়ায় এবার প্রায় সব ধরনের আবাদে শঙ্কা দেখা দিয়েছে। এছাড়া ভাইরাস ও পোকার আক্রমণে গাছের বাড়ন্ত কমে গেছে অনেকখানি। এছাড়া শীতের তীব্রতা বাড়লে বড় ধরনের ক্ষতির মূখে পড়তে হবে তাদের। এনজিওর লোনের টাকায় আবাদ করে কিস্তির টাকা পরিশোধ নিয়ে প্রতিনিয়ত দুশ্চিন্তায় দিন কাটছে কৃষকদের।

সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, বেগুন ক্ষেতের কিছু কিছু গাছের পাতা হলুদ হয়ে ঝড়ে পড়ছে। এছাড়াও বেগুন গাছ পুরোটাই হলদে হয়ে গেছে। মুলত এই গাছ গুলো মোজাইক ভাইরাসের দ্বারা ক্ষতিগ্রস্থ। এছাড়াও চোষোক পোকার আক্রমণ রয়েছে৷ এর ফলে এ বছর বেগুনের আবাদ নিয়ে দুশ্চিন্তা কাটছে না কৃষকদের। 

পাত্রখাতা এলাকার কৃষক মাজেদুল ইসলাম বলেন, ৩০ শতক জমিতে এবার লাগিয়েছেন বেগুন গাছ। এখন পর্যন্ত খরচ প্রায় ১০ হাজার টাকা। গত বছরে বেগুন চাষে লাভ হওয়ায় এবার দ্বিগুণ জায়গা জুড়ে বেগুনের চারা লাগিয়েছেন৷ তবে, এবার দেখা দিয়েছে পোকা ও ভাইরাসের আক্রমণ। ফলে ভালো ফলন নিয়ে পড়েছেন দুশ্চিন্তায়। 

সবুজ মিয়া নামে আরেক কৃষক জানান, এখন গাছে ফুল ধরেছে এই সময় যদি শীতের প্রকোপ বাড়ে, কুয়াশা পড়ে তাহলে গাছের বাড়ন্ত কমে যাবে। এতে ফলনও কমে যাবে। আমরা মুলত এনজিও থেকে লোন নিয়ে চাষাবাদ করছি লাভ না হলে খুব ক্ষতির মুখে পরে যাবো। উপার্জন না করতে পারলে বউ ছেলে মেয়েকে খাওয়াবো কি। 

এদিকে, কুড়িগ্রাম রাজারহাট আবহাওয়া কার্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সুবল চন্দ্র সরকার বলেন, রবিবার জেলায় ১২.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে। এখন প্রতিদিনই কুয়াশা পড়ছে। সামনে কুয়াশা ও ঠাণ্ডা আরও বাড়বে। তিনি আরও জানান, দিন দিন তাপমাত্রা কমে শীতের তীব্রতা বাড়ছে। 

চিলমারী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কনক চন্দ্র রায় জানান, কিছু কিছু বেগুন গাছে মোজাইক ভাইরাস রয়েছে। ভাইরাস কখনো ঠিক হয় না এবং কিছু চোষক পোকার মাধ্যমে এক গাছ থেকে আরেক গাছে ছড়ায়। এই ভাইরাস যুক্ত গাছ উপড়ে ফেলতে হবে এবং চোষোক পোকা যেমন জাব পোকা, সাদা মাছি, থ্রীপস দমনের জন্য ইমিডাক্লোরোপ্রীড গ্রুপের কীটনাশক ব্যবহার করতে হবে। আর সামনে এখন যদি শীতের তীব্রতা বাড়ে তাহলে চারা এবং বাড়ন্ত বেগুন গাছের বৃদ্ধি কমে যায়।