287628
শিরোনামঃ
নির্বাচন ঘিরে লালমনিরহাটে সাংবাদিকদের সাথে জামায়াত প্রার্থীর মতবিনিময় অনুষ্ঠিত প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্তিতে সংলাপ জরুরি : শিক্ষা উপদেষ্টা কালথেকে নির্বাচনী প্রচার-প্রচারনা শুরু সোনালী যুগের জনপ্রিয় অভিনেতা ইলিয়াস জাভেদ আর নেই বিডার ওয়ান স্টপ সার্ভিস পোর্টালের সঙ্গে ১১ প্রতিষ্ঠানের সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর ৬৩ কেজি ৮৩ গ্রাম গাঁজাসহ দু্ইজনকে গ্রেফতার করেছে পল্টন থানা পুলিশ ট্রাম্পের শান্তি পর্ষদের স্থায়ী সদস্য হতে আগ্রহী দেশকে দিতে হবে ১০০ কোটি ডলার মাদারীপুরে বাস–অটোরিকশা সংঘর্ষে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৭ যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত ইরান: আরাগচি পার্বত্য সুবলংয়ে গণভোট ও নির্বাচন বিষয়ে জেলা তথ্য অফিসের জনসচেতনতা সভা

প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্তিতে সংলাপ জরুরি : শিক্ষা উপদেষ্টা

#
news image

শিক্ষা উপদেষ্টা ও বাংলাদেশ জাতীয় ইউনেস্কো কমিশনের (বিএনসিইউ) চেয়ারপারসন অধ্যাপক ড. চৌধুরী রফিকুল আবরার বলেছেন, প্রান্তিক ও সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্তি নিশ্চিত করতে হলে তাদের সঙ্গে সরাসরি ও ধারাবাহিক সংলাপ অপরিহার্য। সংবেদনশীল প্রশাসন, অংশগ্রহণমূলক সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং বাস্তব অভিজ্ঞতার আলোকে নীতিনির্ধারণের মাধ্যমেই বৈষম্য কমানো সম্ভব।

শনিবার (২৪ জানুয়ারি) আন্তর্জাতিক শিক্ষা দিবস ২০২৬ উপলক্ষে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটের মিলনায়তনে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ড. আবরার বলেন, শিক্ষা শুধু পাঠ্যপুস্তকনির্ভর জ্ঞান অর্জনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এটি নাগরিকত্ব, মূল্যবোধ ও সামাজিক দায়বদ্ধতা গঠনের একটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র। তরুণদের চিন্তা-ভাবনা, সৃজনশীলতা ও সক্রিয় অংশগ্রহণের মাধ্যমে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে গণতান্ত্রিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক চর্চার কেন্দ্রে পরিণত করতে হবে। এক্ষেত্রে তরুণদের অংশগ্রহণ যেন শুধু প্রতীকী না হয়ে বাস্তব ও কার্যকর হয়। তাদের সক্রিয় অংশগ্রহণ, মতামত ও সম্পৃক্ততা ছাড়া টেকসই পরিবর্তন সম্ভব নয়। আমরা টোকেনিজম চাই না, চাই অ্যাকটিভ পার্টিসিপেশন ও এনগেজমেন্ট।

তিনি বলেন, রাষ্ট্র জনগণের কল্যাণের অর্থে পরিচালিত হয় এবং সেই জনগণের বড় অংশ তরুণ সমাজ। নতুন বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে তরুণদের চিন্তাভাবনা, আকাঙ্ক্ষা ও অবদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একটি সময় ছিল যখন তার প্রজন্ম নাগরিক অধিকার হারানোর শঙ্কায় ছিল, কিন্তু তরুণ সমাজই পরিবর্তনের পথ দেখিয়েছে।

তিনি আরও বলেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান শুধু পাঠ্য শিক্ষার জায়গা নয়। শিক্ষার্থীদের ভেতরে থাকা সুপ্ত প্রতিভা, আগ্রহ ও মেধার বিকাশের সুযোগ তৈরি করতে হবে। সংগঠন, ক্লাব ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড শিক্ষার্থীদের নাগরিক হিসেবে সচেতন করে তোলে। এ জন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে সহায়ক পরিবেশ ও রিসোর্স মোবিলাইজেশনের ওপর জোর দিতে হবে৷

জাতিগত সংখ্যালঘু, প্রতিবন্ধী ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধিত্ব এবং সুযোগ নিশ্চিতের লক্ষ্য ড. রফিকুল আবরার বলেন, সংবেদনশীল প্রশাসন ও ধারাবাহিক সংলাপের মাধ্যমে বাস্তব সমস্যার সমাধান সম্ভব। এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলোর সঙ্গে একাধিক বৈঠকের মাধ্যমে একটি সমন্বিত নীতিমালা প্রণয়ন করা হয়েছে। সমাজে বৈষম্য ও অসহিষ্ণুতা বাড়ছে, যা উদ্বেগজনক। সংস্কৃতি, গান, নাচ কিংবা পরিচয়ের কারণে কাউকে হেয় করা অনুচিত। এই ধরনের একমাত্রিক চিন্তাভাবনার বিরুদ্ধে তরুণদের নিজ নিজ অবস্থান থেকে প্রতিবাদ ও প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে।

আসন্ন নির্বাচন এবং নতুন বাংলাদেশ গঠনের প্রসঙ্গ তুলে ধরে তিনি বলেন, প্রতিষ্ঠানগত পরিবর্তনে তরুণদের সক্রিয়ভাবে যুক্ত হতে হবে। শুধু শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়, জাতীয় সংসদসহ রাষ্ট্রীয় কাঠামোতেও তরুণদের প্রতিনিধিত্ব বাড়াতে হবে। কারণ এসব প্রতিষ্ঠান জনগণের করের টাকায় পরিচালিত এবং জনগণই এর প্রকৃত মালিক।

বাংলাদেশ ইউনেস্কো কমিশনের ডেপুটি সেক্রেটারি জেনারেল সারভীনা মনির সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শিক্ষা সচিব ও বিএনসিইউর সেক্রেটারি জেনারেল রেহানা পারভীন। সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইউনেস্কো বাংলাদেশের হেড অব অফিস সুজান ভাইজ।

নিজস্ব প্রতিনিধি

২৪-১-২০২৬ বিকাল ৫:১৮

news image

শিক্ষা উপদেষ্টা ও বাংলাদেশ জাতীয় ইউনেস্কো কমিশনের (বিএনসিইউ) চেয়ারপারসন অধ্যাপক ড. চৌধুরী রফিকুল আবরার বলেছেন, প্রান্তিক ও সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্তি নিশ্চিত করতে হলে তাদের সঙ্গে সরাসরি ও ধারাবাহিক সংলাপ অপরিহার্য। সংবেদনশীল প্রশাসন, অংশগ্রহণমূলক সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং বাস্তব অভিজ্ঞতার আলোকে নীতিনির্ধারণের মাধ্যমেই বৈষম্য কমানো সম্ভব।

শনিবার (২৪ জানুয়ারি) আন্তর্জাতিক শিক্ষা দিবস ২০২৬ উপলক্ষে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটের মিলনায়তনে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ড. আবরার বলেন, শিক্ষা শুধু পাঠ্যপুস্তকনির্ভর জ্ঞান অর্জনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এটি নাগরিকত্ব, মূল্যবোধ ও সামাজিক দায়বদ্ধতা গঠনের একটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র। তরুণদের চিন্তা-ভাবনা, সৃজনশীলতা ও সক্রিয় অংশগ্রহণের মাধ্যমে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে গণতান্ত্রিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক চর্চার কেন্দ্রে পরিণত করতে হবে। এক্ষেত্রে তরুণদের অংশগ্রহণ যেন শুধু প্রতীকী না হয়ে বাস্তব ও কার্যকর হয়। তাদের সক্রিয় অংশগ্রহণ, মতামত ও সম্পৃক্ততা ছাড়া টেকসই পরিবর্তন সম্ভব নয়। আমরা টোকেনিজম চাই না, চাই অ্যাকটিভ পার্টিসিপেশন ও এনগেজমেন্ট।

তিনি বলেন, রাষ্ট্র জনগণের কল্যাণের অর্থে পরিচালিত হয় এবং সেই জনগণের বড় অংশ তরুণ সমাজ। নতুন বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে তরুণদের চিন্তাভাবনা, আকাঙ্ক্ষা ও অবদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একটি সময় ছিল যখন তার প্রজন্ম নাগরিক অধিকার হারানোর শঙ্কায় ছিল, কিন্তু তরুণ সমাজই পরিবর্তনের পথ দেখিয়েছে।

তিনি আরও বলেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান শুধু পাঠ্য শিক্ষার জায়গা নয়। শিক্ষার্থীদের ভেতরে থাকা সুপ্ত প্রতিভা, আগ্রহ ও মেধার বিকাশের সুযোগ তৈরি করতে হবে। সংগঠন, ক্লাব ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড শিক্ষার্থীদের নাগরিক হিসেবে সচেতন করে তোলে। এ জন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে সহায়ক পরিবেশ ও রিসোর্স মোবিলাইজেশনের ওপর জোর দিতে হবে৷

জাতিগত সংখ্যালঘু, প্রতিবন্ধী ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধিত্ব এবং সুযোগ নিশ্চিতের লক্ষ্য ড. রফিকুল আবরার বলেন, সংবেদনশীল প্রশাসন ও ধারাবাহিক সংলাপের মাধ্যমে বাস্তব সমস্যার সমাধান সম্ভব। এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলোর সঙ্গে একাধিক বৈঠকের মাধ্যমে একটি সমন্বিত নীতিমালা প্রণয়ন করা হয়েছে। সমাজে বৈষম্য ও অসহিষ্ণুতা বাড়ছে, যা উদ্বেগজনক। সংস্কৃতি, গান, নাচ কিংবা পরিচয়ের কারণে কাউকে হেয় করা অনুচিত। এই ধরনের একমাত্রিক চিন্তাভাবনার বিরুদ্ধে তরুণদের নিজ নিজ অবস্থান থেকে প্রতিবাদ ও প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে।

আসন্ন নির্বাচন এবং নতুন বাংলাদেশ গঠনের প্রসঙ্গ তুলে ধরে তিনি বলেন, প্রতিষ্ঠানগত পরিবর্তনে তরুণদের সক্রিয়ভাবে যুক্ত হতে হবে। শুধু শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়, জাতীয় সংসদসহ রাষ্ট্রীয় কাঠামোতেও তরুণদের প্রতিনিধিত্ব বাড়াতে হবে। কারণ এসব প্রতিষ্ঠান জনগণের করের টাকায় পরিচালিত এবং জনগণই এর প্রকৃত মালিক।

বাংলাদেশ ইউনেস্কো কমিশনের ডেপুটি সেক্রেটারি জেনারেল সারভীনা মনির সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শিক্ষা সচিব ও বিএনসিইউর সেক্রেটারি জেনারেল রেহানা পারভীন। সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইউনেস্কো বাংলাদেশের হেড অব অফিস সুজান ভাইজ।