জীবনযুদ্ধে গাজাবাসী; একদিকে হামলা অন্যদিকে তীব্র ঠান্ডা
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
২৬-১-২০২৬ দুপুর ১২:৩
জীবনযুদ্ধে গাজাবাসী; একদিকে হামলা অন্যদিকে তীব্র ঠান্ডা
ফিলিস্তিনের গাজায় দ্বিতীয় ধাপের যুদ্ধবিরতি শুরু হওয়ার কথা বলা হলেও বাসিন্দাদের দুর্দশার লাঘব হয়নি। ইসরায়েলি ড্রোন হামলা ও গোলাবর্ষণ অব্যাহত রয়েছে। এতে গাজাবাসীর শীতকালীন দুর্দশা আরও বেড়েছে। বাসিন্দারা দৈনন্দিন জীবনযাপনে সীমাহীন কষ্ট পাচ্ছেন। শনিবারও উত্তর গাজার কামাল আদওয়ান হাসপাতালের কাছে বেসামরিক নাগরিকদের ওপর ড্রোন হামলা করে ইসরায়েল। এতে একই পরিবারের দুই শিশুসহ তিনজন নিহত হয়েছে। রয়টার্সের প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে।
একদিকে ইসরায়েল মানবিক সহায়তায় বাধা দিচ্ছে, অন্যদিকে তীব্র জ্বালানি সংকটের কারণে রাতের বেলায় বাসিন্দারা শীতের মুখে পড়ছেন। কয়েক লাখ মানুষ পাতলা ক্যানভাস বা প্লাস্টিকের শিট দিয়ে তৈরি অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্রে বাস করছেন। এতে ঠান্ডায় দুর্ভোগ বাড়ছে। অপুষ্টির আঘাতেও জর্জরিত তারা।
গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মতে, গত ২৪ ঘণ্টায় শীতে তিন মাস বয়সী একটি শিশুসহ এই মৌসুমে ১০ শিশু হাইপোথার্মিয়ায় মারা গেছে। নাসের মেডিকেল কমপ্লেক্স জানিয়েছে, শিশুরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
জাতিসংঘের মানবিকবিষয়ক সমন্বয় অফিস জানায়, তীব্র বাতাস সম্প্রতি শত শত তাঁবু ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। ফিলিস্তিনে জাতিসংঘ সংস্থার প্রধান ফিলিপ লাজ্জারিনি বলেছেন, নিম্ন তাপমাত্রা, বাতাস ও বৃষ্টিপাত গাজাবাসীর দুর্দশাকে তিন গুণ করেছে। যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে গাজায় নিহত বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭১ হাজার ৬৫৪ জনে। গত ১০ অক্টোবর প্রথম ধাপের যুদ্ধবিরতির পর থেকে প্রাণ গেছে ৪৮১ জনের।
আলজাজিরা জানায়, বেইত লাহিয়া থেকে বাস্তুচ্যুত হয়ে এখন গাজা শহরে থাকেন সাদা আবু আমর। তিনি বলেন, আমরা গাজায় দুটি যুদ্ধের মধ্যে বাস করছি। একটি বোমা হামলা, অন্যটি রোগ-শোকের হামলা। আমরের হাঁপানি হয়েছে। ইনহেলারটি সর্বদা তাঁর সঙ্গে থাকে। বর্জ্যের গন্ধে তাঁর শ্বাস নিতে কষ্ট হয়। এখানে মৌলিক স্বাস্থ্যবিধি প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে। সুরিয়ার স্বামী ৪০ বছর বয়সী সালেম। ডাস্টবিনের পাশেই বসবাস করতে হয় তাদের। সালেম জানান, শীত ও গ্রীষ্মে আমার বাচ্চারা অনেক কষ্ট পায়। বাতাসে দুর্গন্ধ আসে। খাবার খেতে পারি না, বমি আসে। বর্জ্য, পয়োনিষ্কাশন ও পরিষ্কার পানির অভাব রোগের বিস্তার ঘটাচ্ছে। ছড়াচ্ছে ভাইরাস ও ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ।
গাজায় তীব্র ঠান্ডায় ছয় মাস বয়সী এক ফিলিস্তিনি শিশু মারা গেছে। শিশুটি পরিবারের বহু আকাঙ্ক্ষিত ছিল। ছয় বোনের পর শিশুটি আশীর্বাদ হয়ে এসেছিল তাদের কোলে। কিন্তু ইসরায়েলি ধ্বংসযজ্ঞ, অবরোধে ঠান্ডায় দুর্ভোগ বাড়ায় শিশুটি বাঁচতে পারেনি। শিশুটির নাম ইউসেফ আবু হাম্মাদ। প্রচণ্ড ঠান্ডা ও পয়োনিষ্কাশন দূষণের সংস্পর্শে আসার কারণে পানিশূন্যতায় গত বৃহস্পতিবার মারা যায় শিশুটি।
রয়টার্স জানায়, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার গাজাকে যুক্তরাষ্ট্রের আদলে ‘মুক্তবাজার অর্থনীতির নীতিতে’ গড়ে তোলার একটি পরিকল্পনা প্রকাশ করেছেন। পরিকল্পনায় উপকূলজুড়ে উঁচু ভবন, ব্যবসায়িক জেলা এবং আধুনিক নগর অবকাঠামোর কথা বলা হয়েছে। শনিবার নেতানিয়াহুর সঙ্গে তিনি দেখা করেন। তাঁর সঙ্গে ছিলেন ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফও। পরিকল্পনা অনুযায়ী, গাজার ইউটিলিটি ও জনসেবা খাত উন্নয়নে প্রায় ২৫ বিলিয়ন ডলার প্রয়োজন হবে। এই পরিকল্পনায় ছয় ধাপের উন্নয়ন সময়সূচি নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রস্তাবে একটি নতুন বিমানবন্দর, সমুদ্রবন্দর, মালবাহী রেললাইন ও লজিস্টিকস করিডোর, রাফায় একটি নতুন ত্রিপক্ষীয় সীমান্ত ক্রসিং থাকবে। গাজার উপকূলজুড়ে কোস্টাল ট্যুরিজমের জন্য ১৮০টি মাল্টিপারপাস ভবন নির্মাণ করা হবে। গড়ে তোলা হবে আবাসিক পাড়া ও শিল্পাঞ্চল। সেখানে থাকবে ডেটা সেন্টার ও আধুনিক কারখানা।
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
২৬-১-২০২৬ দুপুর ১২:৩
ফিলিস্তিনের গাজায় দ্বিতীয় ধাপের যুদ্ধবিরতি শুরু হওয়ার কথা বলা হলেও বাসিন্দাদের দুর্দশার লাঘব হয়নি। ইসরায়েলি ড্রোন হামলা ও গোলাবর্ষণ অব্যাহত রয়েছে। এতে গাজাবাসীর শীতকালীন দুর্দশা আরও বেড়েছে। বাসিন্দারা দৈনন্দিন জীবনযাপনে সীমাহীন কষ্ট পাচ্ছেন। শনিবারও উত্তর গাজার কামাল আদওয়ান হাসপাতালের কাছে বেসামরিক নাগরিকদের ওপর ড্রোন হামলা করে ইসরায়েল। এতে একই পরিবারের দুই শিশুসহ তিনজন নিহত হয়েছে। রয়টার্সের প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে।
একদিকে ইসরায়েল মানবিক সহায়তায় বাধা দিচ্ছে, অন্যদিকে তীব্র জ্বালানি সংকটের কারণে রাতের বেলায় বাসিন্দারা শীতের মুখে পড়ছেন। কয়েক লাখ মানুষ পাতলা ক্যানভাস বা প্লাস্টিকের শিট দিয়ে তৈরি অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্রে বাস করছেন। এতে ঠান্ডায় দুর্ভোগ বাড়ছে। অপুষ্টির আঘাতেও জর্জরিত তারা।
গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মতে, গত ২৪ ঘণ্টায় শীতে তিন মাস বয়সী একটি শিশুসহ এই মৌসুমে ১০ শিশু হাইপোথার্মিয়ায় মারা গেছে। নাসের মেডিকেল কমপ্লেক্স জানিয়েছে, শিশুরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
জাতিসংঘের মানবিকবিষয়ক সমন্বয় অফিস জানায়, তীব্র বাতাস সম্প্রতি শত শত তাঁবু ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। ফিলিস্তিনে জাতিসংঘ সংস্থার প্রধান ফিলিপ লাজ্জারিনি বলেছেন, নিম্ন তাপমাত্রা, বাতাস ও বৃষ্টিপাত গাজাবাসীর দুর্দশাকে তিন গুণ করেছে। যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে গাজায় নিহত বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭১ হাজার ৬৫৪ জনে। গত ১০ অক্টোবর প্রথম ধাপের যুদ্ধবিরতির পর থেকে প্রাণ গেছে ৪৮১ জনের।
আলজাজিরা জানায়, বেইত লাহিয়া থেকে বাস্তুচ্যুত হয়ে এখন গাজা শহরে থাকেন সাদা আবু আমর। তিনি বলেন, আমরা গাজায় দুটি যুদ্ধের মধ্যে বাস করছি। একটি বোমা হামলা, অন্যটি রোগ-শোকের হামলা। আমরের হাঁপানি হয়েছে। ইনহেলারটি সর্বদা তাঁর সঙ্গে থাকে। বর্জ্যের গন্ধে তাঁর শ্বাস নিতে কষ্ট হয়। এখানে মৌলিক স্বাস্থ্যবিধি প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে। সুরিয়ার স্বামী ৪০ বছর বয়সী সালেম। ডাস্টবিনের পাশেই বসবাস করতে হয় তাদের। সালেম জানান, শীত ও গ্রীষ্মে আমার বাচ্চারা অনেক কষ্ট পায়। বাতাসে দুর্গন্ধ আসে। খাবার খেতে পারি না, বমি আসে। বর্জ্য, পয়োনিষ্কাশন ও পরিষ্কার পানির অভাব রোগের বিস্তার ঘটাচ্ছে। ছড়াচ্ছে ভাইরাস ও ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ।
গাজায় তীব্র ঠান্ডায় ছয় মাস বয়সী এক ফিলিস্তিনি শিশু মারা গেছে। শিশুটি পরিবারের বহু আকাঙ্ক্ষিত ছিল। ছয় বোনের পর শিশুটি আশীর্বাদ হয়ে এসেছিল তাদের কোলে। কিন্তু ইসরায়েলি ধ্বংসযজ্ঞ, অবরোধে ঠান্ডায় দুর্ভোগ বাড়ায় শিশুটি বাঁচতে পারেনি। শিশুটির নাম ইউসেফ আবু হাম্মাদ। প্রচণ্ড ঠান্ডা ও পয়োনিষ্কাশন দূষণের সংস্পর্শে আসার কারণে পানিশূন্যতায় গত বৃহস্পতিবার মারা যায় শিশুটি।
রয়টার্স জানায়, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার গাজাকে যুক্তরাষ্ট্রের আদলে ‘মুক্তবাজার অর্থনীতির নীতিতে’ গড়ে তোলার একটি পরিকল্পনা প্রকাশ করেছেন। পরিকল্পনায় উপকূলজুড়ে উঁচু ভবন, ব্যবসায়িক জেলা এবং আধুনিক নগর অবকাঠামোর কথা বলা হয়েছে। শনিবার নেতানিয়াহুর সঙ্গে তিনি দেখা করেন। তাঁর সঙ্গে ছিলেন ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফও। পরিকল্পনা অনুযায়ী, গাজার ইউটিলিটি ও জনসেবা খাত উন্নয়নে প্রায় ২৫ বিলিয়ন ডলার প্রয়োজন হবে। এই পরিকল্পনায় ছয় ধাপের উন্নয়ন সময়সূচি নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রস্তাবে একটি নতুন বিমানবন্দর, সমুদ্রবন্দর, মালবাহী রেললাইন ও লজিস্টিকস করিডোর, রাফায় একটি নতুন ত্রিপক্ষীয় সীমান্ত ক্রসিং থাকবে। গাজার উপকূলজুড়ে কোস্টাল ট্যুরিজমের জন্য ১৮০টি মাল্টিপারপাস ভবন নির্মাণ করা হবে। গড়ে তোলা হবে আবাসিক পাড়া ও শিল্পাঞ্চল। সেখানে থাকবে ডেটা সেন্টার ও আধুনিক কারখানা।