287628
শিরোনামঃ
ইরানি সেনাদের মাঝে নেই উদ্বেগ, পূর্ণ যুদ্ধ প্রস্তুতির ঘোষণা জীবনযুদ্ধে গাজাবাসী; একদিকে হামলা অন্যদিকে তীব্র ঠান্ডা নির্বাচন ঘিরে লালমনিরহাটে সাংবাদিকদের সাথে জামায়াত প্রার্থীর মতবিনিময় অনুষ্ঠিত প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্তিতে সংলাপ জরুরি : শিক্ষা উপদেষ্টা কালথেকে নির্বাচনী প্রচার-প্রচারনা শুরু সোনালী যুগের জনপ্রিয় অভিনেতা ইলিয়াস জাভেদ আর নেই বিডার ওয়ান স্টপ সার্ভিস পোর্টালের সঙ্গে ১১ প্রতিষ্ঠানের সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর ৬৩ কেজি ৮৩ গ্রাম গাঁজাসহ দু্ইজনকে গ্রেফতার করেছে পল্টন থানা পুলিশ ট্রাম্পের শান্তি পর্ষদের স্থায়ী সদস্য হতে আগ্রহী দেশকে দিতে হবে ১০০ কোটি ডলার মাদারীপুরে বাস–অটোরিকশা সংঘর্ষে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৭

ইরানি সেনাদের মাঝে নেই উদ্বেগ, পূর্ণ যুদ্ধ প্রস্তুতির ঘোষণা

#
news image

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নতুন করে যুদ্ধের সম্ভাবনা নিয়ে তেহরানে কোনো ধরনের উদ্বেগ বা আতঙ্ক দেখা যাচ্ছে না। বরং ইরানের শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তারা আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে জানিয়েছেন, অতীতের মতো এবারও যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রাসন ব্যর্থ হবে। একইসঙ্গে এর মূল্য আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় অনেক বেশি দিতে হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন তারা।

শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) ইরানের বিপ্লবী বাহিনী (আইআরজিসি) দিবস উপলক্ষে আয়োজিত বার্ষিক এক সভায় অংশ নিতে ইরানের বর্তমান ও সাবেক সামরিক কমান্ডাররা একত্রিত হন। ইরানের রাষ্ট্রায়ত্ত সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবির সঙ্গে আলাপকালে তাদের আচরণে কোনো উদ্বেগের ছাপ ছিল না, বরং তারা উচ্চ মনোবল ও আত্মবিশ্বাস প্রকাশ করেন।

তেহরানের একটি বিশাল হলে অনুষ্ঠিত এই সভায় আইআরজিসি ও নিয়মিত সেনাবাহিনী আরতেশের বর্তমান ও সাবেক জেনারেলরা উপস্থিত ছিলেন। হলজুড়ে ঝুলছিল সাম্প্রতিক মার্কিন-ইসরায়েলি যুদ্ধে নিহত ইরানি শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তাদের প্রতিকৃতি, যারা গত বছরের জুনে ইসরায়েলের চালানো আগ্রাসনে নিহত হন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ওই হামলার ফলে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি সর্বোচ্চ দুই বছরের জন্য পিছিয়ে যেতে পারে, তবে চাইলে তেহরান এখনো সামরিক নীতি পরিবর্তন করে সেই সক্ষমতা অর্জন করতে পারে। বিশ্লেষকরা বলছেন, ট্রাম্পের আসল উদ্দেশ্য ছিল ইরানি সরকারকে উৎখাত করা। এর প্রমাণ হিসেবে তারা উল্লেখ করেন, এক পর্যায়ে প্রেসিডেন্ট, পার্লামেন্ট স্পিকার ও বিচার বিভাগের প্রধানসহ শীর্ষ কর্মকর্তাদের উপস্থিত একটি বৈঠক লক্ষ্য করে হামলার চেষ্টা চালানো হয়।

যুদ্ধ শেষে ইসরায়েলের যুদ্ধমন্ত্রী স্বীকার করেন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ সাইয়্যেদ আলী খামেনেয়িকে হত্যার চেষ্টাও করেছিল, তবে তার অবস্থান শনাক্ত করতে ব্যর্থ হয় তারা। টানা ১২ দিনের যুদ্ধ শেষে ইরানের পাল্টা হামলায় অধিকৃত ভূখণ্ড এবং কাতারে অবস্থিত একটি মার্কিন ঘাঁটি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের অনুরোধে সংঘাতের অবসান ঘটে।

সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ট্রাম্প একাধিকবার ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে হামলার হুমকি দিয়েছেন। তার প্রশাসন পারস্য উপসাগরে সামরিক শক্তি বৃদ্ধি শুরু করেছে, যা জুনের যুদ্ধের আগেও দেখা গিয়েছিল। যদিও মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স দাবি করেছেন, এই প্রস্তুতির উদ্দেশ্য কেবল প্রয়োজনে প্রতিক্রিয়া জানানোর সক্ষমতা নিশ্চিত করা।

ওয়াশিংটনের এসব হুমকির জবাবে আইআরজিসির এরোস্পেস ফোর্সের কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মাজিদ মুসাভি বলেন, ‘ট্রাম্প অনেক কথা বলেন, তবে তার জবাব দেয়া হবে মাঠের বাস্তবতায়।’ আইআরজিসি নৌবাহিনীর কমান্ডার আলিরেজা তাংসিরি মন্তব্য করেন, কোনো সিদ্ধান্ত নেয়ার আগে মার্কিন প্রেসিডেন্টের উচিত ইতিহাসের দিকে তাকানো।’ আর ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাকের কালিবাফ বলেন, ‘ট্রাম্প ভুল পথ বেছে নিয়েছেন।’

ইরানের গোয়েন্দা ও সাবেক সিআইএ কর্মকর্তাদের মতে, চলতি বছরের ৮ ও ৯ জানুয়ারির সহিংস দাঙ্গার উদ্দেশ্য ছিল দেশে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করে বিদেশি সামরিক আগ্রাসনের পথ সুগম করা। ওই সহিংসতায় সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো নিরাপত্তা বাহিনী ও সাধারণ নাগরিকদের হত্যা করে, যা নজিরবিহীন সহিংসতা হিসেবে বিবেচিত হয়।

ডিসেম্বরে অর্থনৈতিক সংস্কারের দাবিতে দোকানিদের শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ থেকে এই আন্দোলনের সূত্রপাত হলেও, পরে ক্ষমতাচ্যুত শাহের ছেলে বিদেশভিত্তিক ফার্সি ভাষার টিভি চ্যানেল ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে তার সমর্থকদের সরকার উৎখাতের আহ্বান জানান। একই সময়ে ইসরায়েলি ও মার্কিন কর্মকর্তারা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দাবি করেন যে ‘মোসাদ এজেন্টরা’ মাঠে সক্রিয় রয়েছে। এসব অস্থিরতায় ইরান সরকারের দেয়া তথ্য অনুযায়ী, ৩ হাজার ১০০ জনের বেশি মানুষ নিহত হন, যাদের অধিকাংশই ছিলেন নিরাপত্তা সদস্য ও সাধারণ নাগরিক।

কঠোর ইন্টারনেট নিয়ন্ত্রণ আরোপ করে বিদেশি যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করার পর ইরানের নিরাপত্তা বাহিনী দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। অভিযানে শত শত সন্দেহভাজনকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং দেশজুড়ে অস্ত্র ও গোলাবারুদের বড় মজুত উদ্ধার করা হয়। মার্কিন বিশ্লেষকদের মতে, এই দাঙ্গা ব্যর্থ হওয়ায় এখন ইরানের ওপর হামলা চালালে তা অর্থহীন ও অত্যন্ত ব্যয়বহুল হবে।

এরই ধারাবাহিকতায় শনিবার (২৪ জানুয়ারি) আইআরজিসির প্রধান কমান্ডার ও প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র জানান, ইরানের আঙুল ট্রিগারে রয়েছে এবং গত গ্রীষ্মের তুলনায় এখন দেশটির ক্ষেপণাস্ত্র ও প্রতিরক্ষা সক্ষমতা আরও উন্নত। এদিকে রয়টার্সের উদ্ধৃতিতে এক জ্যেষ্ঠ ইরানি কর্মকর্তা জানান, ইরান সবচেয়ে খারাপ পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত এবং সীমিত কোনো হামলাকেও পূর্ণমাত্রার যুদ্ধ হিসেবে বিবেচনা করা হবে।

এছাড়া ইরানের নিরাপত্তা প্রধান আলি লারিজানি আগেই সতর্ক করে বলেছেন, নতুন যুদ্ধে ইরান সরাসরি মার্কিন সেনাদের লক্ষ্যবস্তু করবে, যা আগের সংঘাতে করা হয়নি। পশ্চিম এশিয়ায় বর্তমানে প্রায় ৪০ থেকে ৫০ হাজার মার্কিন সেনা মোতায়েন রয়েছে, যারা ইরানের শত শত ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার আওতায় রয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, তেহরানে এখন একটি ঐকমত্য তৈরি হয়েছে, আর তা হলো- ট্রাম্প প্রশাসনকে পশ্চিম এশিয়ায় নিয়ন্ত্রণে আনতে হলে যুক্তরাষ্ট্রকে অভ্যন্তরীণভাবে বড় মূল্য দিতে হবে। ইরানের আরেকটি বিকল্প হলো হরমুজ প্রণালিতে জ্বালানি পরিবহন সীমিত করা। চলতি মাসে পার্লামেন্ট স্পিকার কালিবাফ এই সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করেন।

এমন পদক্ষেপ নিলে তেলের দাম আকাশচুম্বী হবে এবং বৈশ্বিক অর্থনীতিতে মারাত্মক প্রভাব পড়বে। ইরান প্রতিবেশী দেশগুলোকেও সতর্ক করেছে, তারা যদি যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েলকে ইরানের ওপর হামলায় আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতি দেয়, তবে তাদের কৌশলগত স্থাপনায় হামলা চালানো হবে।

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

২৬-১-২০২৬ দুপুর ১২:২৪

news image
ছবি ঃ সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নতুন করে যুদ্ধের সম্ভাবনা নিয়ে তেহরানে কোনো ধরনের উদ্বেগ বা আতঙ্ক দেখা যাচ্ছে না। বরং ইরানের শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তারা আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে জানিয়েছেন, অতীতের মতো এবারও যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রাসন ব্যর্থ হবে। একইসঙ্গে এর মূল্য আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় অনেক বেশি দিতে হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন তারা।

শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) ইরানের বিপ্লবী বাহিনী (আইআরজিসি) দিবস উপলক্ষে আয়োজিত বার্ষিক এক সভায় অংশ নিতে ইরানের বর্তমান ও সাবেক সামরিক কমান্ডাররা একত্রিত হন। ইরানের রাষ্ট্রায়ত্ত সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবির সঙ্গে আলাপকালে তাদের আচরণে কোনো উদ্বেগের ছাপ ছিল না, বরং তারা উচ্চ মনোবল ও আত্মবিশ্বাস প্রকাশ করেন।

তেহরানের একটি বিশাল হলে অনুষ্ঠিত এই সভায় আইআরজিসি ও নিয়মিত সেনাবাহিনী আরতেশের বর্তমান ও সাবেক জেনারেলরা উপস্থিত ছিলেন। হলজুড়ে ঝুলছিল সাম্প্রতিক মার্কিন-ইসরায়েলি যুদ্ধে নিহত ইরানি শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তাদের প্রতিকৃতি, যারা গত বছরের জুনে ইসরায়েলের চালানো আগ্রাসনে নিহত হন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ওই হামলার ফলে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি সর্বোচ্চ দুই বছরের জন্য পিছিয়ে যেতে পারে, তবে চাইলে তেহরান এখনো সামরিক নীতি পরিবর্তন করে সেই সক্ষমতা অর্জন করতে পারে। বিশ্লেষকরা বলছেন, ট্রাম্পের আসল উদ্দেশ্য ছিল ইরানি সরকারকে উৎখাত করা। এর প্রমাণ হিসেবে তারা উল্লেখ করেন, এক পর্যায়ে প্রেসিডেন্ট, পার্লামেন্ট স্পিকার ও বিচার বিভাগের প্রধানসহ শীর্ষ কর্মকর্তাদের উপস্থিত একটি বৈঠক লক্ষ্য করে হামলার চেষ্টা চালানো হয়।

যুদ্ধ শেষে ইসরায়েলের যুদ্ধমন্ত্রী স্বীকার করেন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ সাইয়্যেদ আলী খামেনেয়িকে হত্যার চেষ্টাও করেছিল, তবে তার অবস্থান শনাক্ত করতে ব্যর্থ হয় তারা। টানা ১২ দিনের যুদ্ধ শেষে ইরানের পাল্টা হামলায় অধিকৃত ভূখণ্ড এবং কাতারে অবস্থিত একটি মার্কিন ঘাঁটি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের অনুরোধে সংঘাতের অবসান ঘটে।

সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ট্রাম্প একাধিকবার ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে হামলার হুমকি দিয়েছেন। তার প্রশাসন পারস্য উপসাগরে সামরিক শক্তি বৃদ্ধি শুরু করেছে, যা জুনের যুদ্ধের আগেও দেখা গিয়েছিল। যদিও মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স দাবি করেছেন, এই প্রস্তুতির উদ্দেশ্য কেবল প্রয়োজনে প্রতিক্রিয়া জানানোর সক্ষমতা নিশ্চিত করা।

ওয়াশিংটনের এসব হুমকির জবাবে আইআরজিসির এরোস্পেস ফোর্সের কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মাজিদ মুসাভি বলেন, ‘ট্রাম্প অনেক কথা বলেন, তবে তার জবাব দেয়া হবে মাঠের বাস্তবতায়।’ আইআরজিসি নৌবাহিনীর কমান্ডার আলিরেজা তাংসিরি মন্তব্য করেন, কোনো সিদ্ধান্ত নেয়ার আগে মার্কিন প্রেসিডেন্টের উচিত ইতিহাসের দিকে তাকানো।’ আর ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাকের কালিবাফ বলেন, ‘ট্রাম্প ভুল পথ বেছে নিয়েছেন।’

ইরানের গোয়েন্দা ও সাবেক সিআইএ কর্মকর্তাদের মতে, চলতি বছরের ৮ ও ৯ জানুয়ারির সহিংস দাঙ্গার উদ্দেশ্য ছিল দেশে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করে বিদেশি সামরিক আগ্রাসনের পথ সুগম করা। ওই সহিংসতায় সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো নিরাপত্তা বাহিনী ও সাধারণ নাগরিকদের হত্যা করে, যা নজিরবিহীন সহিংসতা হিসেবে বিবেচিত হয়।

ডিসেম্বরে অর্থনৈতিক সংস্কারের দাবিতে দোকানিদের শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ থেকে এই আন্দোলনের সূত্রপাত হলেও, পরে ক্ষমতাচ্যুত শাহের ছেলে বিদেশভিত্তিক ফার্সি ভাষার টিভি চ্যানেল ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে তার সমর্থকদের সরকার উৎখাতের আহ্বান জানান। একই সময়ে ইসরায়েলি ও মার্কিন কর্মকর্তারা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দাবি করেন যে ‘মোসাদ এজেন্টরা’ মাঠে সক্রিয় রয়েছে। এসব অস্থিরতায় ইরান সরকারের দেয়া তথ্য অনুযায়ী, ৩ হাজার ১০০ জনের বেশি মানুষ নিহত হন, যাদের অধিকাংশই ছিলেন নিরাপত্তা সদস্য ও সাধারণ নাগরিক।

কঠোর ইন্টারনেট নিয়ন্ত্রণ আরোপ করে বিদেশি যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করার পর ইরানের নিরাপত্তা বাহিনী দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। অভিযানে শত শত সন্দেহভাজনকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং দেশজুড়ে অস্ত্র ও গোলাবারুদের বড় মজুত উদ্ধার করা হয়। মার্কিন বিশ্লেষকদের মতে, এই দাঙ্গা ব্যর্থ হওয়ায় এখন ইরানের ওপর হামলা চালালে তা অর্থহীন ও অত্যন্ত ব্যয়বহুল হবে।

এরই ধারাবাহিকতায় শনিবার (২৪ জানুয়ারি) আইআরজিসির প্রধান কমান্ডার ও প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র জানান, ইরানের আঙুল ট্রিগারে রয়েছে এবং গত গ্রীষ্মের তুলনায় এখন দেশটির ক্ষেপণাস্ত্র ও প্রতিরক্ষা সক্ষমতা আরও উন্নত। এদিকে রয়টার্সের উদ্ধৃতিতে এক জ্যেষ্ঠ ইরানি কর্মকর্তা জানান, ইরান সবচেয়ে খারাপ পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত এবং সীমিত কোনো হামলাকেও পূর্ণমাত্রার যুদ্ধ হিসেবে বিবেচনা করা হবে।

এছাড়া ইরানের নিরাপত্তা প্রধান আলি লারিজানি আগেই সতর্ক করে বলেছেন, নতুন যুদ্ধে ইরান সরাসরি মার্কিন সেনাদের লক্ষ্যবস্তু করবে, যা আগের সংঘাতে করা হয়নি। পশ্চিম এশিয়ায় বর্তমানে প্রায় ৪০ থেকে ৫০ হাজার মার্কিন সেনা মোতায়েন রয়েছে, যারা ইরানের শত শত ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার আওতায় রয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, তেহরানে এখন একটি ঐকমত্য তৈরি হয়েছে, আর তা হলো- ট্রাম্প প্রশাসনকে পশ্চিম এশিয়ায় নিয়ন্ত্রণে আনতে হলে যুক্তরাষ্ট্রকে অভ্যন্তরীণভাবে বড় মূল্য দিতে হবে। ইরানের আরেকটি বিকল্প হলো হরমুজ প্রণালিতে জ্বালানি পরিবহন সীমিত করা। চলতি মাসে পার্লামেন্ট স্পিকার কালিবাফ এই সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করেন।

এমন পদক্ষেপ নিলে তেলের দাম আকাশচুম্বী হবে এবং বৈশ্বিক অর্থনীতিতে মারাত্মক প্রভাব পড়বে। ইরান প্রতিবেশী দেশগুলোকেও সতর্ক করেছে, তারা যদি যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েলকে ইরানের ওপর হামলায় আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতি দেয়, তবে তাদের কৌশলগত স্থাপনায় হামলা চালানো হবে।