287628

আলুতেই স্বস্তি নিম্ন আয়ের মানুষের

#
news image

রাজশাহী সহ সারাদেশে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বেড়েই চলেছে। চাল, ডাল, তেল, মসলা থেকে শুরু করে সব ধরনের শাকসবজির দাম বাড়তি। এর মধ্যে শুধু আলু ও পেঁপের দাম তুলনামূলক কম থাকায় নিম্ন আয়ের মানুষ স্বস্তি পাচ্ছেন মূলত এই দুটি খাদ্যের ওপর নির্ভর করেই। সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে দিনমজুর, রিকশাচালক থেকে শুরু করে খেটে খাওয়া মানুষের ঝুড়িতে এখন আলু ও পেঁপেই ভরসা। বাজারে এই দুই সবজি ছাড়া ৮০ টাকার নিচে কোন সবজি নেই।  

টানা কয়েক দিনের বৃষ্টিতে বাজারে প্রায় সব ধরনের সবজির দাম বেড়েছে। শীতের আগাম সবজির দাম তুলনামূলক বেশি বেড়েছে। শিমের দাম এক সপ্তাহের ব্যবধানে ১২০ টাকা থেকে ২০০ টাকা পর্যন্ত উঠেছে। বাজারে সবচেয়ে বেশি সংকট ও দাম বাড়তি দেখা গেছে কাঁচা মরিচের। মসলাজাতীয় এই পণ্যটির দাম সপ্তাহের ব্যবধানে প্রায় ৮০ টাকা বেড়ে ৩০০ টাকায় উঠেছে। শনিবার (৪ অক্টোবর) নগরীর সাহেববাজার, তালাইমারী, হড়গ্রাম, উপশহর নিউমার্কেট, শালবাগান,নওদাপাড়া বাজার ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।

বাজারে সবজির মধ্যে কেবল কাঁচা পেঁপে কম দামে ২০-২৫ টাকা কেজি মূল্যে বিক্রি হচ্ছে। আর কচুর মুখি ৫০ টাকা কেজিতে পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া শসা, মিষ্টি কুমড়া ও ধুন্দল ৫০ টাকা থেকে ৭০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। বাকি প্রায় সব সবজির দাম ৮০ টাকার উপরে রয়েছে। এর মধ্যে বেশিরভাগ সবজির দামই কেজিতে ১০-২০ টাকা বেড়েছে সপ্তাহের ব্যবধানে।

বাজারে বরবটি কেজি বিক্রি হচ্ছে ৮০ টাকায়, করলা প্রতিকেজি ১০০ টাকায়, পটল ৮০ টাকায়, চিচিঙ্গা ৮০ টাকায়, কাঁকরোল ৮০ টাকা, বেগুন (লম্বা) ১০০ টাকা এবং বেগুন (গোল) প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ১৪০ টাকা দরে।

এছাড়া প্রতি কেজি গাজর ১১০ টাকা, কঁচুর লতি প্রতি কেজি ৮০-১০০ টাকা, ঢেঁড়স প্রতি কেজি ৬০ টাকা, টমেটো প্রতি কেজি ৮০-১০০ টাকা, লাউ প্রতি পিস (ছোট ও বড়) ৬০-৮০ টাকায় এবং জালি প্রতি পিস ৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বাজারে কাঁচা মরিচ প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে সর্বনিম্ন ২৮০ টাকা থেকে উপরে ৩২০ টাকা পর্যন্ত। এক সপ্তাহ আগেও কাঁচা মরিচের দাম ছিল ২০০ থেকে ২২০ টাকার মধ্যে। সপ্তাহের ব্যবধানে এই পণ্যটির দাম বেড়েছে প্রায় ১০০ টাকা।

বাড়তি দামের বাজারে তাই আলু ও পেপেঁই স্বত্বি দিচ্ছে নিম্ন আয়ের মানুষের। রাজশাহীর সাহেববাজারে আলু কিনতে আসা রিকশাচালক হারুন বলেন, “আগে ডাল-ভাতের সঙ্গে দুই-তিন রকম তরকারি কিনতাম। এখন সেটা অসম্ভব। বাচ্চাদের পেট ভরাতে আলু ভাজি বা পেঁপের তরকারি দিয়েই দিন চলছে।”

গৃহিণী শিউলি বেগম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “মাসের শেষে সংসার চালানো এখন রীতিমতো যুদ্ধ। তেলের দাম, ডালের দাম সব আকাশছোঁয়া। বাজারে গিয়ে শুধু আলু আর পেঁপেই কিনতে পারি।”

বিক্রেতারা জানান বর্ষা মৌসুমে সবজির দাম কিছুটা বাড়তি। আলু ও পেঁপের দাম কম থাকায় ক্রেতারা সেদিকে বেশি আগ্রহী। সামনে শীত আসছে, তখন সবজির দাম কমবে বলে তারা আশা করছেন। রাজশাহীর শালবাগান বাজারের সবজি বিক্রেতা মনির হোসেন জানান, “চাহিদা বেশি থাকায় আলু ও পেঁপে দ্রুত বিক্রি হচ্ছে। অন্য সবজি যেমন বেগুন, লাউ, শিম এসবের দাম বেশি বলে ক্রেতারা কিনতে চাইছেন না। ফলে আলু আর পেঁপেতেই ভরসা রাখছেন সবাই।”

পবা উপজেলার নওহাটা বাজারের পাইকারি ব্যবসায়ী জালাল উদ্দিন বলেন, “আলুর সরবরাহ ভালো থাকলেও বাজারে হঠাৎ করে দাম ওঠানামা করছে। তবে অন্য সবজির তুলনায় আলু-পেঁপের দাম অনেকটাই সহনীয়।”

নিম্ন আয়ের মানুষের কথা বিবেচনায় নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণ রাখতে সরকারি হস্তক্ষেপ কামনা করেন বাজারে আগত ক্রেতারা।

রাজশাহী প্রতিনিধি

৪-১০-২০২৫ দুপুর ১২:১২

news image

রাজশাহী সহ সারাদেশে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বেড়েই চলেছে। চাল, ডাল, তেল, মসলা থেকে শুরু করে সব ধরনের শাকসবজির দাম বাড়তি। এর মধ্যে শুধু আলু ও পেঁপের দাম তুলনামূলক কম থাকায় নিম্ন আয়ের মানুষ স্বস্তি পাচ্ছেন মূলত এই দুটি খাদ্যের ওপর নির্ভর করেই। সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে দিনমজুর, রিকশাচালক থেকে শুরু করে খেটে খাওয়া মানুষের ঝুড়িতে এখন আলু ও পেঁপেই ভরসা। বাজারে এই দুই সবজি ছাড়া ৮০ টাকার নিচে কোন সবজি নেই।  

টানা কয়েক দিনের বৃষ্টিতে বাজারে প্রায় সব ধরনের সবজির দাম বেড়েছে। শীতের আগাম সবজির দাম তুলনামূলক বেশি বেড়েছে। শিমের দাম এক সপ্তাহের ব্যবধানে ১২০ টাকা থেকে ২০০ টাকা পর্যন্ত উঠেছে। বাজারে সবচেয়ে বেশি সংকট ও দাম বাড়তি দেখা গেছে কাঁচা মরিচের। মসলাজাতীয় এই পণ্যটির দাম সপ্তাহের ব্যবধানে প্রায় ৮০ টাকা বেড়ে ৩০০ টাকায় উঠেছে। শনিবার (৪ অক্টোবর) নগরীর সাহেববাজার, তালাইমারী, হড়গ্রাম, উপশহর নিউমার্কেট, শালবাগান,নওদাপাড়া বাজার ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।

বাজারে সবজির মধ্যে কেবল কাঁচা পেঁপে কম দামে ২০-২৫ টাকা কেজি মূল্যে বিক্রি হচ্ছে। আর কচুর মুখি ৫০ টাকা কেজিতে পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া শসা, মিষ্টি কুমড়া ও ধুন্দল ৫০ টাকা থেকে ৭০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। বাকি প্রায় সব সবজির দাম ৮০ টাকার উপরে রয়েছে। এর মধ্যে বেশিরভাগ সবজির দামই কেজিতে ১০-২০ টাকা বেড়েছে সপ্তাহের ব্যবধানে।

বাজারে বরবটি কেজি বিক্রি হচ্ছে ৮০ টাকায়, করলা প্রতিকেজি ১০০ টাকায়, পটল ৮০ টাকায়, চিচিঙ্গা ৮০ টাকায়, কাঁকরোল ৮০ টাকা, বেগুন (লম্বা) ১০০ টাকা এবং বেগুন (গোল) প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ১৪০ টাকা দরে।

এছাড়া প্রতি কেজি গাজর ১১০ টাকা, কঁচুর লতি প্রতি কেজি ৮০-১০০ টাকা, ঢেঁড়স প্রতি কেজি ৬০ টাকা, টমেটো প্রতি কেজি ৮০-১০০ টাকা, লাউ প্রতি পিস (ছোট ও বড়) ৬০-৮০ টাকায় এবং জালি প্রতি পিস ৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বাজারে কাঁচা মরিচ প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে সর্বনিম্ন ২৮০ টাকা থেকে উপরে ৩২০ টাকা পর্যন্ত। এক সপ্তাহ আগেও কাঁচা মরিচের দাম ছিল ২০০ থেকে ২২০ টাকার মধ্যে। সপ্তাহের ব্যবধানে এই পণ্যটির দাম বেড়েছে প্রায় ১০০ টাকা।

বাড়তি দামের বাজারে তাই আলু ও পেপেঁই স্বত্বি দিচ্ছে নিম্ন আয়ের মানুষের। রাজশাহীর সাহেববাজারে আলু কিনতে আসা রিকশাচালক হারুন বলেন, “আগে ডাল-ভাতের সঙ্গে দুই-তিন রকম তরকারি কিনতাম। এখন সেটা অসম্ভব। বাচ্চাদের পেট ভরাতে আলু ভাজি বা পেঁপের তরকারি দিয়েই দিন চলছে।”

গৃহিণী শিউলি বেগম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “মাসের শেষে সংসার চালানো এখন রীতিমতো যুদ্ধ। তেলের দাম, ডালের দাম সব আকাশছোঁয়া। বাজারে গিয়ে শুধু আলু আর পেঁপেই কিনতে পারি।”

বিক্রেতারা জানান বর্ষা মৌসুমে সবজির দাম কিছুটা বাড়তি। আলু ও পেঁপের দাম কম থাকায় ক্রেতারা সেদিকে বেশি আগ্রহী। সামনে শীত আসছে, তখন সবজির দাম কমবে বলে তারা আশা করছেন। রাজশাহীর শালবাগান বাজারের সবজি বিক্রেতা মনির হোসেন জানান, “চাহিদা বেশি থাকায় আলু ও পেঁপে দ্রুত বিক্রি হচ্ছে। অন্য সবজি যেমন বেগুন, লাউ, শিম এসবের দাম বেশি বলে ক্রেতারা কিনতে চাইছেন না। ফলে আলু আর পেঁপেতেই ভরসা রাখছেন সবাই।”

পবা উপজেলার নওহাটা বাজারের পাইকারি ব্যবসায়ী জালাল উদ্দিন বলেন, “আলুর সরবরাহ ভালো থাকলেও বাজারে হঠাৎ করে দাম ওঠানামা করছে। তবে অন্য সবজির তুলনায় আলু-পেঁপের দাম অনেকটাই সহনীয়।”

নিম্ন আয়ের মানুষের কথা বিবেচনায় নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণ রাখতে সরকারি হস্তক্ষেপ কামনা করেন বাজারে আগত ক্রেতারা।