নওহাটা পৌরসভায় কোটি টাকার যানবাহন অবহেলায় নষ্ট হচ্ছে
রাজশাহী প্রতিনিধি
৬-১০-২০২৫ দুপুর ২:৪৭
নওহাটা পৌরসভায় কোটি টাকার যানবাহন অবহেলায় নষ্ট হচ্ছে
রাজশাহী বিভাগে প্রথম শ্রেণীর পৌরসভা নওহবর্গ কিলোমিটার এলাকায় বসবাস করেন ১ লাখ ১৫ হাজার মানুষ। ৯টি ওয়ার্ডের এত বিশাল সংখ্যক মানুষের বর্জ্য এবং পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা উন্নত ও আধুনিক করার লক্ষ্যে আইইউজিপি প্রকল্পের মাধ্যমে ২০২৪ সালের শুরুর দিকে বেশ কয়েকটি অত্যধুনিক যানবাহন পায় নওহাটা পৌরসভা। যার ভিতরে রয়েছে, থ্রি-হুইলার গাড়ি ৫ টি, ভ্যাকুয়াম ক্লিনার গাড়ি ২ টি, গারভেজ ট্রাক ২টি, রোলার ২টি, স্কেভেটার ১ টি ও প্লে লোডার গাড়ি ১টি। গাড়িগুলো পাওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত কোন কাজেই লাগাতে পারেনি পৌরসভা। তাই অলস পড়ে আছে বাহন গুলো। পৌর কর্তৃপক্ষের অবহেলায় নষ্ট হচ্ছে কয়েক কোটি টাকা মূল্যের এই গাড়িগুলো।
রবিবার (৫ অক্টোবর) সকালে সরেজমিনে পৌরসভা চত্বরে গেলে দেখতে পাওয়া যায় গাড়ি গুলো পার্কিং এরিয়ায় ফেলে রাখা হয়েছে। থ্রী হুইলার এবং দুটি গারভেজ ট্রাকের সামনের কাঁচ ভাঙা অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা যায়। এছাড়াও একটি পুরাতন রোলার ও একটি পিকাপ গাড়ি অচল অবস্থায় দেখতে পাওয়া যায়। গাড়ি চালক ইকবাল হোসেনের কাছে জানতে চাইলে তিনি জানান, অধিকাংশ গাড়ি অচল হওয়ার পথে। কোনটার ব্যাটারি বসে গেছে, দীর্ঘদিন চালু না করায় ইঞ্জিনে সমস্য দেখা দিচ্ছে এছাড়াও গাড়িগুলো ফেলে রাখায় বিভিন্ন যন্ত্রপাতিতে জং ধরা শুরু হয়েছে। তিনি বলেন, ‘প্রায় দুইবছর হতে চললো গাড়ি গুলো পড়ে আছে। দীর্ঘদিন পড়ে থাকায় গাড়িগুলো অচল হওয়ার পথে। মাঝেমধ্যে পিকাপ ট্রাকগুলো বের করে বিভিন্ন ওয়ার্ড ও বাজার থেকে ময়লা পরিবহন করা হয়, তাছাড়া সবগুলো গাড়িই পড়ে থাকে।’
পৌরসভা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে তারা আইইউজিপি প্রকল্পের মাধ্যমে পৌরসভার ৯ টি ওয়ার্ডের বর্জ্য ও পয়ঃনিস্কাশন ব্যবস্থা পরিস্কার করার জন্য এগুলো গাড়ি পেয়েছে। গত বছরের ৫ আগস্ট দূর্বত্তরা কিছু গাড়ি ভাঙচুর করে। এছাড়াও বর্জ্য ফেলার জন্য পৌরসভায় নির্দিষ্ট ডাম্পিং ব্যবস্থা না থাকায় গাড়িগুলোর ব্যবহার হয়না। নওহাটা পৌরসভার উপ-সহকারী প্রকৌশলী আব্দুর রহিমের কাছে এই বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন,‘আমাদের পৌরসভায় ময়লা ফেলার জন্য ডাম্পিং ব্যবস্থা নেই। যার ফলে গাড়িগুলো ব্যবহৃত হচ্ছে না। আইইউজিপি প্রকল্পের মাধ্যমে দেওয়া হয়েছে এই গাড়ি গুলো পৌরবাসীর বর্জ্য ও পয়ঃনিস্কাশন পরিস্কার করার জন্য। আমরাও চাই গাড়ি গুলো যাতে পৌরবাসীর সুবিধার্থে ব্যবহার হয়। কিন্তু ময়লা ফেলার ডাম্পিং স্টেশন না হওয়া পর্যন্ত আমরা কাজে লাগাতে পারছি না।’
কয়েকজন পৌরবাসীর সাথে এই বিষয়ে কথা বললে তারা এই নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন। পৌরসভা চত্বরে নাগরিক সেবা নিতে আসা সাইফুল ইসলাম নামের একজন বলেন,‘অন্য পৌরসভা এত দামী গাড়ি পায় না, আর আমরা পেয়েও ব্যবহার করতে পারছি না। এর চেয়ে দুঃখের আর কি থাকে?
মাইনুল ইসলাম নামে আরেকজন বলেন,‘এতগুলো গাড়ি পড়ে আছে, অথচ আমাদের বাড়ির আশেপাশের ময়লা আগের সেই পুরানো ভ্যানে করে পরিবহন করা হয়। যদি এগুলো গাড়িতে করে ময়লা পরিবহন করা হয় তাহলে সময় এবং পরিশ্রম দুটোই কমবে। তাই আমরা পৌরসভা বাসী চাই, এগুলো গাড়ি ফেলে না রেখে চালু করা হোক। ফেলে রাখলেই এগুলো জং ধরে নষ্ট হয়ে যাবে।’
সার্বিক বিষয়ে জানতে চাইলে নওহাটা পৌরসভার প্রশাসক আরাফাত আমান আজিজ জানিয়েছেন, খুব শ্রীঘই গাড়িগুলো কাজে লাগিয়ে চালু করা হবে। তিনি বলেন,‘গত মাসে পৌরসভায় মিটিং এ আমি গাড়িগুলো চালু করার বিষয় উত্থাপন করেছি। আমাদের পৌরসভায় বর্জ্য ফেলার জন্য নির্দিষ্ট কোন ডাম্পিং ষ্টেশন নেই। আবার আমরা যে ডাম্পিং ষ্টেশন করবো কিন্তু পৌরসভায় জমির দাম অনেক বেশি। তাই আমরা জমি কিনেও ডাম্পিং ষ্টেশন করতে পারছি না। নগরীর বর্জ্য যেহেতু সিটি হাটে ফেলা হয়, আমরা সিটি কর্পোরেশনের সাথে চুক্তি করে নওহাটা পৌরসভার বর্জ্যও যাতে সেখানে ফেলতে পারি এই বিষয়ে উদ্যেগ নেওয়া হচ্ছে। আশা করছি এই গাড়িগুলো তখন আর পড়ে থাকবে না, খুব শ্রীঘই চালু হবে।’
রাজশাহী প্রতিনিধি
৬-১০-২০২৫ দুপুর ২:৪৭
রাজশাহী বিভাগে প্রথম শ্রেণীর পৌরসভা নওহবর্গ কিলোমিটার এলাকায় বসবাস করেন ১ লাখ ১৫ হাজার মানুষ। ৯টি ওয়ার্ডের এত বিশাল সংখ্যক মানুষের বর্জ্য এবং পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা উন্নত ও আধুনিক করার লক্ষ্যে আইইউজিপি প্রকল্পের মাধ্যমে ২০২৪ সালের শুরুর দিকে বেশ কয়েকটি অত্যধুনিক যানবাহন পায় নওহাটা পৌরসভা। যার ভিতরে রয়েছে, থ্রি-হুইলার গাড়ি ৫ টি, ভ্যাকুয়াম ক্লিনার গাড়ি ২ টি, গারভেজ ট্রাক ২টি, রোলার ২টি, স্কেভেটার ১ টি ও প্লে লোডার গাড়ি ১টি। গাড়িগুলো পাওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত কোন কাজেই লাগাতে পারেনি পৌরসভা। তাই অলস পড়ে আছে বাহন গুলো। পৌর কর্তৃপক্ষের অবহেলায় নষ্ট হচ্ছে কয়েক কোটি টাকা মূল্যের এই গাড়িগুলো।
রবিবার (৫ অক্টোবর) সকালে সরেজমিনে পৌরসভা চত্বরে গেলে দেখতে পাওয়া যায় গাড়ি গুলো পার্কিং এরিয়ায় ফেলে রাখা হয়েছে। থ্রী হুইলার এবং দুটি গারভেজ ট্রাকের সামনের কাঁচ ভাঙা অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা যায়। এছাড়াও একটি পুরাতন রোলার ও একটি পিকাপ গাড়ি অচল অবস্থায় দেখতে পাওয়া যায়। গাড়ি চালক ইকবাল হোসেনের কাছে জানতে চাইলে তিনি জানান, অধিকাংশ গাড়ি অচল হওয়ার পথে। কোনটার ব্যাটারি বসে গেছে, দীর্ঘদিন চালু না করায় ইঞ্জিনে সমস্য দেখা দিচ্ছে এছাড়াও গাড়িগুলো ফেলে রাখায় বিভিন্ন যন্ত্রপাতিতে জং ধরা শুরু হয়েছে। তিনি বলেন, ‘প্রায় দুইবছর হতে চললো গাড়ি গুলো পড়ে আছে। দীর্ঘদিন পড়ে থাকায় গাড়িগুলো অচল হওয়ার পথে। মাঝেমধ্যে পিকাপ ট্রাকগুলো বের করে বিভিন্ন ওয়ার্ড ও বাজার থেকে ময়লা পরিবহন করা হয়, তাছাড়া সবগুলো গাড়িই পড়ে থাকে।’
পৌরসভা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে তারা আইইউজিপি প্রকল্পের মাধ্যমে পৌরসভার ৯ টি ওয়ার্ডের বর্জ্য ও পয়ঃনিস্কাশন ব্যবস্থা পরিস্কার করার জন্য এগুলো গাড়ি পেয়েছে। গত বছরের ৫ আগস্ট দূর্বত্তরা কিছু গাড়ি ভাঙচুর করে। এছাড়াও বর্জ্য ফেলার জন্য পৌরসভায় নির্দিষ্ট ডাম্পিং ব্যবস্থা না থাকায় গাড়িগুলোর ব্যবহার হয়না। নওহাটা পৌরসভার উপ-সহকারী প্রকৌশলী আব্দুর রহিমের কাছে এই বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন,‘আমাদের পৌরসভায় ময়লা ফেলার জন্য ডাম্পিং ব্যবস্থা নেই। যার ফলে গাড়িগুলো ব্যবহৃত হচ্ছে না। আইইউজিপি প্রকল্পের মাধ্যমে দেওয়া হয়েছে এই গাড়ি গুলো পৌরবাসীর বর্জ্য ও পয়ঃনিস্কাশন পরিস্কার করার জন্য। আমরাও চাই গাড়ি গুলো যাতে পৌরবাসীর সুবিধার্থে ব্যবহার হয়। কিন্তু ময়লা ফেলার ডাম্পিং স্টেশন না হওয়া পর্যন্ত আমরা কাজে লাগাতে পারছি না।’
কয়েকজন পৌরবাসীর সাথে এই বিষয়ে কথা বললে তারা এই নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন। পৌরসভা চত্বরে নাগরিক সেবা নিতে আসা সাইফুল ইসলাম নামের একজন বলেন,‘অন্য পৌরসভা এত দামী গাড়ি পায় না, আর আমরা পেয়েও ব্যবহার করতে পারছি না। এর চেয়ে দুঃখের আর কি থাকে?
মাইনুল ইসলাম নামে আরেকজন বলেন,‘এতগুলো গাড়ি পড়ে আছে, অথচ আমাদের বাড়ির আশেপাশের ময়লা আগের সেই পুরানো ভ্যানে করে পরিবহন করা হয়। যদি এগুলো গাড়িতে করে ময়লা পরিবহন করা হয় তাহলে সময় এবং পরিশ্রম দুটোই কমবে। তাই আমরা পৌরসভা বাসী চাই, এগুলো গাড়ি ফেলে না রেখে চালু করা হোক। ফেলে রাখলেই এগুলো জং ধরে নষ্ট হয়ে যাবে।’
সার্বিক বিষয়ে জানতে চাইলে নওহাটা পৌরসভার প্রশাসক আরাফাত আমান আজিজ জানিয়েছেন, খুব শ্রীঘই গাড়িগুলো কাজে লাগিয়ে চালু করা হবে। তিনি বলেন,‘গত মাসে পৌরসভায় মিটিং এ আমি গাড়িগুলো চালু করার বিষয় উত্থাপন করেছি। আমাদের পৌরসভায় বর্জ্য ফেলার জন্য নির্দিষ্ট কোন ডাম্পিং ষ্টেশন নেই। আবার আমরা যে ডাম্পিং ষ্টেশন করবো কিন্তু পৌরসভায় জমির দাম অনেক বেশি। তাই আমরা জমি কিনেও ডাম্পিং ষ্টেশন করতে পারছি না। নগরীর বর্জ্য যেহেতু সিটি হাটে ফেলা হয়, আমরা সিটি কর্পোরেশনের সাথে চুক্তি করে নওহাটা পৌরসভার বর্জ্যও যাতে সেখানে ফেলতে পারি এই বিষয়ে উদ্যেগ নেওয়া হচ্ছে। আশা করছি এই গাড়িগুলো তখন আর পড়ে থাকবে না, খুব শ্রীঘই চালু হবে।’