চলতি বছরে পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের আগস্ট পর্যন্ত আয় ৪০০ কোটির কাছাকাছি
রাজশাহী প্রতিনিধি
৮-১০-২০২৫ দুপুর ২:৫৩
চলতি বছরে পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের আগস্ট পর্যন্ত আয় ৪০০ কোটির কাছাকাছি
রাজশাহী রেলষ্টেশন থেকে যশোরের উদ্দেশ্যে যাত্রা করবেন ষাটোর্ধ্ব বয়সী আরেফা বেগম। তার কাছে রেল ভ্রমণ সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি জানান, লম্বা লাইনে না দাঁড়িয়ে, ঘরে বসে অনলাইনে টিকেটে ক্রয় করায় আগের চেয়ে এখন রেলের যাত্রা সহজ হয়েছে। তিনি বলেন,‘বয়স হয়ে গেছে, এখন আর বাস বা অন্য কোন গাড়িতে যেতে পারিনা। রেলের যাত্রা আমার কাছে নিরাপদ ও আরাম লাগে। আগে তো অনেক ঝামেলা ছিলো। রেলের টিকেট পেতে কাউন্টারে ঘন্টার পর ঘন্টা দাঁড়িয়ে থাকতে হতো। আর এখন ঘরে বসেই অনলাইনে টিকেট ক্রয় করা যায়। তাই আমাদের যাত্রা সহজ হয়েছে।’
ক্রমাগত উন্নয়ন ও আধুনিকায়নের ফলে পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের সেবার মান উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। সময়ানুবর্তিতা, ট্রেনের সংখ্যা বৃদ্ধি এবং যাত্রীসেবায় নতুন উদ্যেগ নেওয়ার কারণে এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি যাত্রী ট্রেনে ভ্রমণ করছেন। রেলওয়ে সূত্রে জানা যায়, সম্প্রতি পশ্চিমাঞ্চলের বিভিন্ন রুটে নতুন কোচ সংযোজন, স্টেশন আধুনিকায়ন ও অনলাইনে টিকিট ব্যবস্থার উন্নয়নের ফলে যাত্রীদের সেবা বেড়েছে। আগে যেখানে অনেকে বাসে ভ্রমণ করতেন, এখন তারা রেল’কে বেছে নিচ্ছেন নিরাপদ ও সাশ্রয়ী যাতায়াত হিসেবে। এতে রেলের যাত্রী সংখ্য বৃদ্ধি হয়েছে, পাশাপাশি টিকেট থেকে সরকারের রাজস্ব আয়ও বেড়েছে কয়েকগুণ।
পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ে সূত্র থেকে আরো জানা যায়, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে আগস্ট পর্যন্ত ৮ মাসে রেলের টিকেট থেকে সরকারের রাজস্ব আয় হয়েছে প্রায় ৩ শো ৭৩ কোটি ৩৭ লাখ টাকা। যার ভিতরে জানুয়ারি মাসে ৪৭ কোটি ১১ লাখ, ফেব্রুয়ারিতে ৪০ কোটি ৭৬ লাখ, মার্চ ৩৯ কোটি ৬৫ লাখ, এপ্রিল ৪৭ কোটি ২০ লাখ, মে ৪৬ কোটি ৫ লাখ, জুন ৫১ কোটি ৮৩ লাখ, জুলাই ৪৭ কোটি ৭৭ লাখ ও আগস্ট মাসে ৫০ কোটি টাকা আয় হয়েছে। যা রেলের ইতিহাসে এক অভুতপূর্ব সাফল্য।
রাজশাহী থেকে ঢাকাগামী সুজন আলী নামের এক যাত্রী বলেন,‘আগের তুলনায় ট্রেন এখন সময়মতো ছাড়ে, আসনও আরামদায়ক। যাত্রাপথে নিরাপত্তা ও পরিচ্ছনন্নতাও উন্নত হয়েছে।’ মেহেরীন নামের একজন শিক্ষার্থী বলেন,‘রেল আগের চেয়ে আধুনিক হয়েছে এটা সত্যি। রেলে ভ্রমণ অনেক আরামদায়ক ও স্বত্বিকর। আগের চেয়ে পরিচ্ছন্ন হলেও রেলেও পুরানো বগিগুলো যদি আরেকটু সংস্কার করা যায় তাহলে মনে হয় ভালোই হয়। তবে সার্বিক দিক বিবেচনায় এটা বলতেই হবে, আগের চেয়ে রেলের সেবার মান উন্নত হয়েছে।’
বর্তমানে পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের আওতাধীন রাজশাহী, দিনাজপুর, পাকশীসহ বিভিন্ন অঞ্চলে যাত্রী পরিবহন আগের তুলনায় ২৫ থেকে ৩০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। রেলওয়ের কর্মকর্তারা জানান, সেবার মান বাড়াতে নিয়মিতভাবে স্টেশন ও ট্রেনের কর্মীদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে । পাশাপাশি ট্রেন চলাচলে ডিজিটাল মনিটরিং ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। যাতে দেরী ও ক্রটি কমে আসে। টিকেট বিহীন যাত্রীদের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান চালু আছে।
এছাড়ও ২৯ টি স্টেশনে জায়ান্ট স্ক্রীন বসানো হয়েছে যার মাধ্যমে যাত্রীরা ট্রেনের সময়সূচি, ট্রেনের আগমণ ও বর্হিগমণের তথ্য জানতে পারবেন। ঈশ্বরদী, বাইপাস, আলমডাঙ্গা , দর্শনা হল্ট ও আব্দুলপুর স্টেশনে প্লাটফরম সেড বৃদ্ধি করা হয়েছে। চাটমোহর, উল্লাপাড়া, জামতৈল, নাটোর, ও পাবর্তীপুর স্টেশনে যাত্রীদের ট্রেনে স্বাচ্ছন্দে ওঠা-নামার জন্য প্লাটফরম উঁচু ও বর্ধিত করা হয়েছে। যাতে যাত্রীরা রেল ভ্রমণ আরামে করতে পারেন।
পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের চীফ কর্মাশিয়াল ম্যানেজার সুজিত কুমার বিশ্বাস বলেন,‘যাত্রী খাতে আয় বৃদ্ধি করার জন্য আমরা সুনির্দিষ্ট কিছু পরিকল্পনা গ্রহণ করেছি। তার ভিতরে আমরা প্রাধান্য দিয়েছি সর্বপ্রথম যাত্রী সেবা উন্নত করা। যাত্রীরা রেল ভ্রমণ আরাম ও নিরাপদে করতে পারছেন । এছাড়াও আমরা চাহিদার পরিপ্রেক্ষিতে বিভিন্ন রেলে অতিরিক্ত কোচ সংযোজন করছি। বিনা টিকেটে কেউ যাতে যাত্রা করতে না পারে সেইদিকেও আামাদের বিশেষ নজর আছে এবং অভিযান চলছে।’
রেল কর্তৃপক্ষ আশা করছে, চলমান উন্নয়ন প্রকল্পগুলো সম্পন্ন হলে পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ে হবে দেশের অন্যতম মানসম্মত ও যাত্রীবান্ধব পরিবহন ব্যবস্থা। পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের মহাব্যবস্থাপক ফরিদ উদ্দিন সার্বিক বিষয়ে বলেন,‘যাত্রী সেবা নিশ্চিতের লক্ষ্যে পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ে কাজ করে যাচ্ছে। যাত্রীদের সুবিধা এবং অসুবিধার কথা মাথায় রেখেই আমরা বিভিন্ন সংস্কার করেছি, যার সুফল এখন পাওয়া যাচ্ছে। আমরা যে প্রকল্প গ্রহণ করেছি এবং রেলের আধুনিকায়নের লক্ষ্যে কাজ গুলো শেষ হলে যাত্রীরা আরো স্বাচ্ছন্দে রেল ভ্রমণ করতে পারবে বলে আমি মনে করছি।’
রাজশাহী প্রতিনিধি
৮-১০-২০২৫ দুপুর ২:৫৩
রাজশাহী রেলষ্টেশন থেকে যশোরের উদ্দেশ্যে যাত্রা করবেন ষাটোর্ধ্ব বয়সী আরেফা বেগম। তার কাছে রেল ভ্রমণ সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি জানান, লম্বা লাইনে না দাঁড়িয়ে, ঘরে বসে অনলাইনে টিকেটে ক্রয় করায় আগের চেয়ে এখন রেলের যাত্রা সহজ হয়েছে। তিনি বলেন,‘বয়স হয়ে গেছে, এখন আর বাস বা অন্য কোন গাড়িতে যেতে পারিনা। রেলের যাত্রা আমার কাছে নিরাপদ ও আরাম লাগে। আগে তো অনেক ঝামেলা ছিলো। রেলের টিকেট পেতে কাউন্টারে ঘন্টার পর ঘন্টা দাঁড়িয়ে থাকতে হতো। আর এখন ঘরে বসেই অনলাইনে টিকেট ক্রয় করা যায়। তাই আমাদের যাত্রা সহজ হয়েছে।’
ক্রমাগত উন্নয়ন ও আধুনিকায়নের ফলে পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের সেবার মান উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। সময়ানুবর্তিতা, ট্রেনের সংখ্যা বৃদ্ধি এবং যাত্রীসেবায় নতুন উদ্যেগ নেওয়ার কারণে এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি যাত্রী ট্রেনে ভ্রমণ করছেন। রেলওয়ে সূত্রে জানা যায়, সম্প্রতি পশ্চিমাঞ্চলের বিভিন্ন রুটে নতুন কোচ সংযোজন, স্টেশন আধুনিকায়ন ও অনলাইনে টিকিট ব্যবস্থার উন্নয়নের ফলে যাত্রীদের সেবা বেড়েছে। আগে যেখানে অনেকে বাসে ভ্রমণ করতেন, এখন তারা রেল’কে বেছে নিচ্ছেন নিরাপদ ও সাশ্রয়ী যাতায়াত হিসেবে। এতে রেলের যাত্রী সংখ্য বৃদ্ধি হয়েছে, পাশাপাশি টিকেট থেকে সরকারের রাজস্ব আয়ও বেড়েছে কয়েকগুণ।
পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ে সূত্র থেকে আরো জানা যায়, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে আগস্ট পর্যন্ত ৮ মাসে রেলের টিকেট থেকে সরকারের রাজস্ব আয় হয়েছে প্রায় ৩ শো ৭৩ কোটি ৩৭ লাখ টাকা। যার ভিতরে জানুয়ারি মাসে ৪৭ কোটি ১১ লাখ, ফেব্রুয়ারিতে ৪০ কোটি ৭৬ লাখ, মার্চ ৩৯ কোটি ৬৫ লাখ, এপ্রিল ৪৭ কোটি ২০ লাখ, মে ৪৬ কোটি ৫ লাখ, জুন ৫১ কোটি ৮৩ লাখ, জুলাই ৪৭ কোটি ৭৭ লাখ ও আগস্ট মাসে ৫০ কোটি টাকা আয় হয়েছে। যা রেলের ইতিহাসে এক অভুতপূর্ব সাফল্য।
রাজশাহী থেকে ঢাকাগামী সুজন আলী নামের এক যাত্রী বলেন,‘আগের তুলনায় ট্রেন এখন সময়মতো ছাড়ে, আসনও আরামদায়ক। যাত্রাপথে নিরাপত্তা ও পরিচ্ছনন্নতাও উন্নত হয়েছে।’ মেহেরীন নামের একজন শিক্ষার্থী বলেন,‘রেল আগের চেয়ে আধুনিক হয়েছে এটা সত্যি। রেলে ভ্রমণ অনেক আরামদায়ক ও স্বত্বিকর। আগের চেয়ে পরিচ্ছন্ন হলেও রেলেও পুরানো বগিগুলো যদি আরেকটু সংস্কার করা যায় তাহলে মনে হয় ভালোই হয়। তবে সার্বিক দিক বিবেচনায় এটা বলতেই হবে, আগের চেয়ে রেলের সেবার মান উন্নত হয়েছে।’
বর্তমানে পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের আওতাধীন রাজশাহী, দিনাজপুর, পাকশীসহ বিভিন্ন অঞ্চলে যাত্রী পরিবহন আগের তুলনায় ২৫ থেকে ৩০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। রেলওয়ের কর্মকর্তারা জানান, সেবার মান বাড়াতে নিয়মিতভাবে স্টেশন ও ট্রেনের কর্মীদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে । পাশাপাশি ট্রেন চলাচলে ডিজিটাল মনিটরিং ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। যাতে দেরী ও ক্রটি কমে আসে। টিকেট বিহীন যাত্রীদের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান চালু আছে।
এছাড়ও ২৯ টি স্টেশনে জায়ান্ট স্ক্রীন বসানো হয়েছে যার মাধ্যমে যাত্রীরা ট্রেনের সময়সূচি, ট্রেনের আগমণ ও বর্হিগমণের তথ্য জানতে পারবেন। ঈশ্বরদী, বাইপাস, আলমডাঙ্গা , দর্শনা হল্ট ও আব্দুলপুর স্টেশনে প্লাটফরম সেড বৃদ্ধি করা হয়েছে। চাটমোহর, উল্লাপাড়া, জামতৈল, নাটোর, ও পাবর্তীপুর স্টেশনে যাত্রীদের ট্রেনে স্বাচ্ছন্দে ওঠা-নামার জন্য প্লাটফরম উঁচু ও বর্ধিত করা হয়েছে। যাতে যাত্রীরা রেল ভ্রমণ আরামে করতে পারেন।
পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের চীফ কর্মাশিয়াল ম্যানেজার সুজিত কুমার বিশ্বাস বলেন,‘যাত্রী খাতে আয় বৃদ্ধি করার জন্য আমরা সুনির্দিষ্ট কিছু পরিকল্পনা গ্রহণ করেছি। তার ভিতরে আমরা প্রাধান্য দিয়েছি সর্বপ্রথম যাত্রী সেবা উন্নত করা। যাত্রীরা রেল ভ্রমণ আরাম ও নিরাপদে করতে পারছেন । এছাড়াও আমরা চাহিদার পরিপ্রেক্ষিতে বিভিন্ন রেলে অতিরিক্ত কোচ সংযোজন করছি। বিনা টিকেটে কেউ যাতে যাত্রা করতে না পারে সেইদিকেও আামাদের বিশেষ নজর আছে এবং অভিযান চলছে।’
রেল কর্তৃপক্ষ আশা করছে, চলমান উন্নয়ন প্রকল্পগুলো সম্পন্ন হলে পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ে হবে দেশের অন্যতম মানসম্মত ও যাত্রীবান্ধব পরিবহন ব্যবস্থা। পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের মহাব্যবস্থাপক ফরিদ উদ্দিন সার্বিক বিষয়ে বলেন,‘যাত্রী সেবা নিশ্চিতের লক্ষ্যে পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ে কাজ করে যাচ্ছে। যাত্রীদের সুবিধা এবং অসুবিধার কথা মাথায় রেখেই আমরা বিভিন্ন সংস্কার করেছি, যার সুফল এখন পাওয়া যাচ্ছে। আমরা যে প্রকল্প গ্রহণ করেছি এবং রেলের আধুনিকায়নের লক্ষ্যে কাজ গুলো শেষ হলে যাত্রীরা আরো স্বাচ্ছন্দে রেল ভ্রমণ করতে পারবে বলে আমি মনে করছি।’