জয়পুরহাটে আশংকাজনক ভাবে বাড়ছে ডায়রিয়া
জয়পুরহাট প্রতিনিধি
৯-১০-২০২৫ রাত ৮:১৮
জয়পুরহাটে আশংকাজনক ভাবে বাড়ছে ডায়রিয়া
জয়পুরহাট শহরে হঠাৎ করেই আশংকাজনক ভাবে বেড়ে গেছে ডায়রিয়া আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা। গত ৪ দিনে জয়পুরহাট ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৪১২ জন ডায়রিয়া রোগী। বয়স্ক ও নারী রোগীর সংখ্যাই বেশি। হাসপাতালের ওয়ার্ড ও করিডোর জুড়ে এখন শুধু স্যালাইনের বোতল আর ডায়রিয়া আক্রান্তদের গোঙানির শব্দ। প্রতিদিন গড়ে অর্ধ শতাধিক ডায়রিয়ার রোগী ভর্তি হচ্ছে, যাদের বাড়ী জয়পুরহাট শহরেই।
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, গত মঙ্গলবার ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে ভর্তি হন ১৫৩ জন রোগী, যা গতকাল বৃহস্পতিবার পর্যন্ত ৪১২ জনে দাড়িয়েছে। রোগীর চাপে চিকিৎসক ও নার্সদের প্রচন্ড রকমের হিমশিম খেতে হচ্ছে।
গতকাল সরেজমিনে হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, ডায়রিয়া ওয়ার্ডে যেন তিল ধারনের ঠাই নেই আক্রান্তদের ভিড়ে, এ ওয়ার্ডের মেঝে, কড়িডোর, বাহিরের বারান্দা সহ কোথাও রোগী ধারনের স্থান নেই। তবুও প্রতিদিন রোগীর চাপ বাড়ছেই। ডায়রিয়া ওয়ার্ডের বাইরেও বেশ কয়েকটি রুমে গাদাগাদি করে রয়েছেন ডায়রিয়া আক্রান্তরা।
জয়পুরহাট পৌর এলাকার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের ধানমন্ডি মহল্লার বাসিন্দা মাসুমা আক্তার (৬০) এর স্বামী সমশের বললেন গত রবিবার থেকে হাসপাতালে ভর্তি। তার স্বামী নূর মোহাম্মদ বলেন, স্ত্রীর বমি আর পাতলা পায়খানা এখনো বন্ধ হচ্ছে না। ডাক্তাররা চরম ছোটাছুটি ও চেষ্টা করছেন, কিন্তু পুরো হাসপাতাল জুড়ে কেবল ডায়রিয়ার রোগীর ছড়াছড়ি। একই এলাকার রোগী গোপাল প্রসাদ আগরওয়ালা বলেন, আমি রোববার ভর্তি হয়েছি। আমাদের ওয়ার্ডের বেশিরভাগই পৌরসভার ৭, ৮ ও ৯ নম্বর ওয়ার্ডের মানুষ। আমার মনে হয় পৌরসভার পানি থেকেই সমস্যা। ধানমন্ডি মহল্লার মরিয়ম বেগমের অভিজ্ঞতা ভিন্ন। তিনি বলেন, আমরা পৌরসভার পানি ব্যবহার
করি না। তার পরও আমার ৩ জন আত্নীয় আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি।
পাঁচবিবির আয়মা রসুলপুরের নুর ইসলাম জানান, জয়পুরহাট শহরের আত্নীয়ের বাড়িতে দাওয়াতে গিয়ে খাবার খাওয়ার পর থেকে আমার বাবা আর দুই ভাই এক সাথে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়েছেন। ক্ষেতলালের মহব্বতপুর গ্রামের পারভিন আক্তার পূজার মেলায় মিষ্টান্ন খাওয়ার পর থেকে মারাত্নক ভাবে অসুস্থ্য হয়ে হাসপাতালে ভর্তি। তার মা বলেন, মেয়ের কিডনির সমস্যা আছে। গত তিন দিন ধরে বমি-পায়খানা বন্ধ হচ্ছে না। ডাক্তাররা বলছেন, অবস্থা অবস্থা গুরুতর।
হাসপাতালের ডাঃ হারিছ বলেন, গত তিন দিন ধরে হঠাৎ রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। আক্রান্তদের অধিকাংশই পৌর এলাকার বাসিন্দা। পৌরসভার পানি পরীক্ষা করলে প্রকৃত কারণ জানা যাবে। জয়পুরহাট পৌরসভার সেনেটারি ইন্সপেক্টর মামুনুর রশীদ জানান, অভিযোগের পর আক্রান্ত এলাকা থেকে পানি সংগ্রহ করে বগুড়ায় ল্যাবে পরীক্ষা করা হয়েছে। পানিতে কোনো রকমের ত্রুটি পাওয়া যায়নি। যদি পানির কারণে ডায়রিয়া হতো, তাহলে পুরো পৌরসভা এলাকার মানুষ আক্রান্ত হতো।
হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডাঃ সরদার মোঃ রাশেদ মোবারক জুয়েল বলেন, গত ৩ দিন ধরে হাসপাতালে রোগীর চাপ খুব বেশি। বেশির ভাগ আক্রান্তরা পৌরসভার সাপ্লাইয়ের পানি খাবারের কারনে আক্রান্তের অভিযোগ করলেও আমাদের ধারণা, পূজা উৎসবকে ঘিরে জেলার বিভিন্ন স্থানে অনুষ্ঠিত মেলায় বিক্রি হওয়া খোলা খাবারের কারণেই ডায়রিয়ার প্রকোপ বেড়েছে।
এদিকে হঠাৎ করে এভাবে ডায়রিয়ার প্রাদুর্ভাব ছড়িয়ে পড়ায় শহরবাসীর মধ্যে উদ্বেগ, উৎকন্ঠা বেড়েছে। পৌর এলাকার সবাই এখন পানি ফুটিয়ে পান করছে, খাবারেও বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করছে।
জয়পুরহাট প্রতিনিধি
৯-১০-২০২৫ রাত ৮:১৮
জয়পুরহাট শহরে হঠাৎ করেই আশংকাজনক ভাবে বেড়ে গেছে ডায়রিয়া আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা। গত ৪ দিনে জয়পুরহাট ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৪১২ জন ডায়রিয়া রোগী। বয়স্ক ও নারী রোগীর সংখ্যাই বেশি। হাসপাতালের ওয়ার্ড ও করিডোর জুড়ে এখন শুধু স্যালাইনের বোতল আর ডায়রিয়া আক্রান্তদের গোঙানির শব্দ। প্রতিদিন গড়ে অর্ধ শতাধিক ডায়রিয়ার রোগী ভর্তি হচ্ছে, যাদের বাড়ী জয়পুরহাট শহরেই।
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, গত মঙ্গলবার ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে ভর্তি হন ১৫৩ জন রোগী, যা গতকাল বৃহস্পতিবার পর্যন্ত ৪১২ জনে দাড়িয়েছে। রোগীর চাপে চিকিৎসক ও নার্সদের প্রচন্ড রকমের হিমশিম খেতে হচ্ছে।
গতকাল সরেজমিনে হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, ডায়রিয়া ওয়ার্ডে যেন তিল ধারনের ঠাই নেই আক্রান্তদের ভিড়ে, এ ওয়ার্ডের মেঝে, কড়িডোর, বাহিরের বারান্দা সহ কোথাও রোগী ধারনের স্থান নেই। তবুও প্রতিদিন রোগীর চাপ বাড়ছেই। ডায়রিয়া ওয়ার্ডের বাইরেও বেশ কয়েকটি রুমে গাদাগাদি করে রয়েছেন ডায়রিয়া আক্রান্তরা।
জয়পুরহাট পৌর এলাকার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের ধানমন্ডি মহল্লার বাসিন্দা মাসুমা আক্তার (৬০) এর স্বামী সমশের বললেন গত রবিবার থেকে হাসপাতালে ভর্তি। তার স্বামী নূর মোহাম্মদ বলেন, স্ত্রীর বমি আর পাতলা পায়খানা এখনো বন্ধ হচ্ছে না। ডাক্তাররা চরম ছোটাছুটি ও চেষ্টা করছেন, কিন্তু পুরো হাসপাতাল জুড়ে কেবল ডায়রিয়ার রোগীর ছড়াছড়ি। একই এলাকার রোগী গোপাল প্রসাদ আগরওয়ালা বলেন, আমি রোববার ভর্তি হয়েছি। আমাদের ওয়ার্ডের বেশিরভাগই পৌরসভার ৭, ৮ ও ৯ নম্বর ওয়ার্ডের মানুষ। আমার মনে হয় পৌরসভার পানি থেকেই সমস্যা। ধানমন্ডি মহল্লার মরিয়ম বেগমের অভিজ্ঞতা ভিন্ন। তিনি বলেন, আমরা পৌরসভার পানি ব্যবহার
করি না। তার পরও আমার ৩ জন আত্নীয় আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি।
পাঁচবিবির আয়মা রসুলপুরের নুর ইসলাম জানান, জয়পুরহাট শহরের আত্নীয়ের বাড়িতে দাওয়াতে গিয়ে খাবার খাওয়ার পর থেকে আমার বাবা আর দুই ভাই এক সাথে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়েছেন। ক্ষেতলালের মহব্বতপুর গ্রামের পারভিন আক্তার পূজার মেলায় মিষ্টান্ন খাওয়ার পর থেকে মারাত্নক ভাবে অসুস্থ্য হয়ে হাসপাতালে ভর্তি। তার মা বলেন, মেয়ের কিডনির সমস্যা আছে। গত তিন দিন ধরে বমি-পায়খানা বন্ধ হচ্ছে না। ডাক্তাররা বলছেন, অবস্থা অবস্থা গুরুতর।
হাসপাতালের ডাঃ হারিছ বলেন, গত তিন দিন ধরে হঠাৎ রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। আক্রান্তদের অধিকাংশই পৌর এলাকার বাসিন্দা। পৌরসভার পানি পরীক্ষা করলে প্রকৃত কারণ জানা যাবে। জয়পুরহাট পৌরসভার সেনেটারি ইন্সপেক্টর মামুনুর রশীদ জানান, অভিযোগের পর আক্রান্ত এলাকা থেকে পানি সংগ্রহ করে বগুড়ায় ল্যাবে পরীক্ষা করা হয়েছে। পানিতে কোনো রকমের ত্রুটি পাওয়া যায়নি। যদি পানির কারণে ডায়রিয়া হতো, তাহলে পুরো পৌরসভা এলাকার মানুষ আক্রান্ত হতো।
হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডাঃ সরদার মোঃ রাশেদ মোবারক জুয়েল বলেন, গত ৩ দিন ধরে হাসপাতালে রোগীর চাপ খুব বেশি। বেশির ভাগ আক্রান্তরা পৌরসভার সাপ্লাইয়ের পানি খাবারের কারনে আক্রান্তের অভিযোগ করলেও আমাদের ধারণা, পূজা উৎসবকে ঘিরে জেলার বিভিন্ন স্থানে অনুষ্ঠিত মেলায় বিক্রি হওয়া খোলা খাবারের কারণেই ডায়রিয়ার প্রকোপ বেড়েছে।
এদিকে হঠাৎ করে এভাবে ডায়রিয়ার প্রাদুর্ভাব ছড়িয়ে পড়ায় শহরবাসীর মধ্যে উদ্বেগ, উৎকন্ঠা বেড়েছে। পৌর এলাকার সবাই এখন পানি ফুটিয়ে পান করছে, খাবারেও বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করছে।