শিক্ষক ধর্মঘটে স্থবির শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান
রাজশাহী প্রতিনিধি
১৪-১০-২০২৫ দুপুর ৩:৩০
শিক্ষক ধর্মঘটে স্থবির শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান
সারাদেশব্যাপী বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের চলমান ধর্মঘটের অংশ হিসেবে রাজশাহীতেও স্থবির হয়ে পড়েছে শিক্ষা কার্যক্রম। সরকারি-বেসরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়, কলেজ ও মাদ্রাসায় ক্লাস-পরীক্ষা বন্ধ থাকায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে চরম হতাশা বিরাজ করছে। শিক্ষকরা জানিয়েছেন, দীর্ঘদিন থেকে তারা সরকারি সুবিধা বৃদ্ধির দাবি জানিয়ে আসছেন, কিন্তু বাস্তবায়ন হয়নি।
তাদের মূল দাবিগুলো হলো, বেসিক বেতনের ২০ শতাংশ বাড়ি ভাতা, চিকিৎসা ভাতা ১,৫০০ টাকা, কর্মচারীদের উৎসব ভাতা ৭৫ শতাংশ এবং বৈষম্যমূলক বেতন কাঠামো বাতিল। এ ছাড়া বেসরকারি শিক্ষকদের জন্য পেনশন সুবিধা চালুর দাবিও তারা তুলেছেন।
ধর্মঘট শুরুর দিন থেকে রাজশাহী মহানগর ও জেলার বিভিন্ন উপজেলার বিদ্যালয়ে পাঠদান বন্ধ রয়েছে। জেলার পবা, মোহনপুর, গোদাগাড়ী ও বাগমারা উপজেলায় শিক্ষকরা মানববন্ধন, অবস্থান ধর্মঘট ও বিক্ষোভ মিছিল করেছেন। রাজশাহী শহরের কয়েকটি নামকরা কলেজেও ক্লাস হয়নি, পরীক্ষাও স্থগিত রাখা হয়েছে। মঙ্গলবার (১৪ অক্টোবর) সকালে রাজশাহী আঞ্চলিক শিক্ষা ভবনের সামনে বৈষম্য বিরোধী শিক্ষক-কর্মচারী ফোরাম, রাজশাহী অঞ্চলের উদ্যোগে একটি কর্মসূচি পালিত হয়। এ সময় রাজশাহীর বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি কলেজ ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রায় এক হাজার শিক্ষক-শিক্ষিকা ও কর্মচারী অংশ নেন। বিক্ষোভে অংশগ্রহণকারীরা হাতে নানা প্ল্যাকার্ড ও ব্যানার নিয়ে স্লোগান দেন ‘শিক্ষকের যোগ্য সম্মান দিতে হবে’, ‘এক দফা এক দাবি জাতীয়করণ চাই’, ‘শিক্ষক মানে জাতির মেরুদণ্ড’, ‘ভিক্ষুক নয়, আমরা শিক্ষক’ ও ‘ন্যায্য দাবি বাস্তবায়ন করো, শিক্ষক সমাজ বাঁচাও’।
সমাবেশে আদর্শ ডিগ্রি অনার্স কলেজের অধ্যক্ষ সেরাজুল হক বলেন,“শিক্ষকদের চাকুরী জাতীয়করণ এখন সময়ের দাবি। দেশের সব পেশার মানুষ যখন সুবিধা পাচ্ছে, তখন শিক্ষকরা কেন পিছিয়ে থাকবে? একজন শিক্ষককে সম্মান না দিলে জাতির ভবিষ্যৎ কখনও গড়ে উঠবে না। সরকারের প্রতি আহ্বান, দ্রুত আমাদের দাবি মেনে নিতে হবে।”
বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতি পবা উপজেলা শাখার সচিব মহররম আলী খান বলেন,“সরকার প্রতি বছর বাজেটে শিক্ষা খাতে বরাদ্দ বাড়ানোর কথা বললেও শিক্ষকদের জীবনমান উন্নয়নের উদ্যোগ খুবই সীমিত। সরকারি চাকরিতর বাইরে যারা কাজ করেন, তাদের অবস্থাও করুণ। ন্যায্য ভাতা ও উৎসব ভাতা বৃদ্ধি না হলে শিক্ষক সমাজের মধ্যে গভীর হতাশা তৈরি হবে।”তিনি আরও বলেন, “যে জাতি শিক্ষকদের সম্মান দিতে জানে না, সে জাতি কখনও উন্নত হতে পারে না। আমাদের দাবি একটাই শিক্ষকদের মর্যাদা ও প্রাপ্য অধিকার ফিরিয়ে দাও।”
এ আন্দোলন শুধু রাজশাহীতে নয়, বরং সারাদেশের প্রায় সব জেলায় ছড়িয়ে পড়েছে। ঢাকায় আন্দোলনরত শিক্ষকদের ওপর পুলিশের লাঠিচার্জ ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপের ঘটনার পর থেকে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। এর প্রতিবাদেই শিক্ষকরা দেশজুড়ে ক্লাস বর্জন ও ধর্মঘট কর্মসূচি শুরু করেছেন।
ধর্মঘটের ফলে রাজশাহীর শিক্ষা ব্যবস্থা কার্যত থমকে গেছে। শিক্ষার্থীরা পড়াশোনা থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ছে, পরীক্ষার সময়সূচি অনিশ্চিত হয়ে গেছে। অভিভাবকরাও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন, দীর্ঘস্থায়ী আন্দোলনের কারণে শিক্ষাবর্ষ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা করছেন তারা। সরেজমিনে কয়েকটি বিদ্যালয়ে গেলে দেখতে পাওয়া যায়, ক্লাসে না গিয়ে শিক্ষকেরা নিজেদের রুমে বসে আছে। তাদের কাছে জানতে চাইলে তারা বলেন, যতক্ষণ না পর্যন্ত তাদের ন্যায্য দাবি মেনে প্রজ্ঞাপন জারি করা হচ্ছে, ততক্ষণ কোনো ক্লাস নিবেন না তারা।
বিদ্যালয়ে হোসাইন আল শান্ত নামের অষ্টম শ্রেণীর এক ছাত্রের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন,‘স্যারেরা আমাদের ক্লাস না নেওয়ায় আমাদের পড়াশোনার ক্ষতি হচ্ছে। আমরা চাই সব সমস্যা দ্রুত সমাধান হয়ে আমাদের স্যারেরা আমাদের শ্রেণীকক্ষে ফিরে আসে।’
একই শ্রেণীর সাথী খাতুন বলেন,‘সামনে আমাদের স্কুলে বার্ষিক পরীক্ষা আছে। এইসময় যদি আমাদের ক্লাস না হয়, তাহলে আমরা তো পিছিয়ে পড়বো। তাই আমরা চাই আমাদের ক্লাস যেন শুরু হয় এবং আমরা পড়াশোনায় মনযোগী হতে পারি।’
এই বিষয়ে জানতে চাইলে রাজশাহী মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর আ.ন.ম. মোফাখখারুল ইসলাম বলেন, শিক্ষকদের এই কর্মসূচি আমাদের সাথে না, এটা সরকারের কাছে শিক্ষদের বিভিন্ন দাবীতে তারা মানবন্ধন করছে। তবে বিষয়টা হলো একটি কর্মবিরতী চললে অবশ্যই শিক্ষার্থীরা ক্ষতিগ্রস্থ হবে, আর এখানে শিক্ষকরাই বা কতটুকু লাভবান হবে। অন্তর্বতী সরকারের কাছে একসাথে এতকিছু চাওয়া, একটি নির্বাচিত সরকার আসা পর্যন্ত তারা যদি ধৈর্য্য ধরতো তাহলে হতো। এখন দেখা যাক, সরকার কি সিদ্ধান্ত দেয়।’
রাজশাহীর শিক্ষকরা জানিয়েছেন, সরকারের পক্ষ থেকে দ্রুত সিদ্ধান্ত না এলে আন্দোলন আরও কঠোর হবে। ফলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে স্থবিরতা আরও গভীর হতে পারে।
রাজশাহী প্রতিনিধি
১৪-১০-২০২৫ দুপুর ৩:৩০
সারাদেশব্যাপী বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের চলমান ধর্মঘটের অংশ হিসেবে রাজশাহীতেও স্থবির হয়ে পড়েছে শিক্ষা কার্যক্রম। সরকারি-বেসরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়, কলেজ ও মাদ্রাসায় ক্লাস-পরীক্ষা বন্ধ থাকায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে চরম হতাশা বিরাজ করছে। শিক্ষকরা জানিয়েছেন, দীর্ঘদিন থেকে তারা সরকারি সুবিধা বৃদ্ধির দাবি জানিয়ে আসছেন, কিন্তু বাস্তবায়ন হয়নি।
তাদের মূল দাবিগুলো হলো, বেসিক বেতনের ২০ শতাংশ বাড়ি ভাতা, চিকিৎসা ভাতা ১,৫০০ টাকা, কর্মচারীদের উৎসব ভাতা ৭৫ শতাংশ এবং বৈষম্যমূলক বেতন কাঠামো বাতিল। এ ছাড়া বেসরকারি শিক্ষকদের জন্য পেনশন সুবিধা চালুর দাবিও তারা তুলেছেন।
ধর্মঘট শুরুর দিন থেকে রাজশাহী মহানগর ও জেলার বিভিন্ন উপজেলার বিদ্যালয়ে পাঠদান বন্ধ রয়েছে। জেলার পবা, মোহনপুর, গোদাগাড়ী ও বাগমারা উপজেলায় শিক্ষকরা মানববন্ধন, অবস্থান ধর্মঘট ও বিক্ষোভ মিছিল করেছেন। রাজশাহী শহরের কয়েকটি নামকরা কলেজেও ক্লাস হয়নি, পরীক্ষাও স্থগিত রাখা হয়েছে। মঙ্গলবার (১৪ অক্টোবর) সকালে রাজশাহী আঞ্চলিক শিক্ষা ভবনের সামনে বৈষম্য বিরোধী শিক্ষক-কর্মচারী ফোরাম, রাজশাহী অঞ্চলের উদ্যোগে একটি কর্মসূচি পালিত হয়। এ সময় রাজশাহীর বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি কলেজ ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রায় এক হাজার শিক্ষক-শিক্ষিকা ও কর্মচারী অংশ নেন। বিক্ষোভে অংশগ্রহণকারীরা হাতে নানা প্ল্যাকার্ড ও ব্যানার নিয়ে স্লোগান দেন ‘শিক্ষকের যোগ্য সম্মান দিতে হবে’, ‘এক দফা এক দাবি জাতীয়করণ চাই’, ‘শিক্ষক মানে জাতির মেরুদণ্ড’, ‘ভিক্ষুক নয়, আমরা শিক্ষক’ ও ‘ন্যায্য দাবি বাস্তবায়ন করো, শিক্ষক সমাজ বাঁচাও’।
সমাবেশে আদর্শ ডিগ্রি অনার্স কলেজের অধ্যক্ষ সেরাজুল হক বলেন,“শিক্ষকদের চাকুরী জাতীয়করণ এখন সময়ের দাবি। দেশের সব পেশার মানুষ যখন সুবিধা পাচ্ছে, তখন শিক্ষকরা কেন পিছিয়ে থাকবে? একজন শিক্ষককে সম্মান না দিলে জাতির ভবিষ্যৎ কখনও গড়ে উঠবে না। সরকারের প্রতি আহ্বান, দ্রুত আমাদের দাবি মেনে নিতে হবে।”
বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতি পবা উপজেলা শাখার সচিব মহররম আলী খান বলেন,“সরকার প্রতি বছর বাজেটে শিক্ষা খাতে বরাদ্দ বাড়ানোর কথা বললেও শিক্ষকদের জীবনমান উন্নয়নের উদ্যোগ খুবই সীমিত। সরকারি চাকরিতর বাইরে যারা কাজ করেন, তাদের অবস্থাও করুণ। ন্যায্য ভাতা ও উৎসব ভাতা বৃদ্ধি না হলে শিক্ষক সমাজের মধ্যে গভীর হতাশা তৈরি হবে।”তিনি আরও বলেন, “যে জাতি শিক্ষকদের সম্মান দিতে জানে না, সে জাতি কখনও উন্নত হতে পারে না। আমাদের দাবি একটাই শিক্ষকদের মর্যাদা ও প্রাপ্য অধিকার ফিরিয়ে দাও।”
এ আন্দোলন শুধু রাজশাহীতে নয়, বরং সারাদেশের প্রায় সব জেলায় ছড়িয়ে পড়েছে। ঢাকায় আন্দোলনরত শিক্ষকদের ওপর পুলিশের লাঠিচার্জ ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপের ঘটনার পর থেকে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। এর প্রতিবাদেই শিক্ষকরা দেশজুড়ে ক্লাস বর্জন ও ধর্মঘট কর্মসূচি শুরু করেছেন।
ধর্মঘটের ফলে রাজশাহীর শিক্ষা ব্যবস্থা কার্যত থমকে গেছে। শিক্ষার্থীরা পড়াশোনা থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ছে, পরীক্ষার সময়সূচি অনিশ্চিত হয়ে গেছে। অভিভাবকরাও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন, দীর্ঘস্থায়ী আন্দোলনের কারণে শিক্ষাবর্ষ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা করছেন তারা। সরেজমিনে কয়েকটি বিদ্যালয়ে গেলে দেখতে পাওয়া যায়, ক্লাসে না গিয়ে শিক্ষকেরা নিজেদের রুমে বসে আছে। তাদের কাছে জানতে চাইলে তারা বলেন, যতক্ষণ না পর্যন্ত তাদের ন্যায্য দাবি মেনে প্রজ্ঞাপন জারি করা হচ্ছে, ততক্ষণ কোনো ক্লাস নিবেন না তারা।
বিদ্যালয়ে হোসাইন আল শান্ত নামের অষ্টম শ্রেণীর এক ছাত্রের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন,‘স্যারেরা আমাদের ক্লাস না নেওয়ায় আমাদের পড়াশোনার ক্ষতি হচ্ছে। আমরা চাই সব সমস্যা দ্রুত সমাধান হয়ে আমাদের স্যারেরা আমাদের শ্রেণীকক্ষে ফিরে আসে।’
একই শ্রেণীর সাথী খাতুন বলেন,‘সামনে আমাদের স্কুলে বার্ষিক পরীক্ষা আছে। এইসময় যদি আমাদের ক্লাস না হয়, তাহলে আমরা তো পিছিয়ে পড়বো। তাই আমরা চাই আমাদের ক্লাস যেন শুরু হয় এবং আমরা পড়াশোনায় মনযোগী হতে পারি।’
এই বিষয়ে জানতে চাইলে রাজশাহী মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর আ.ন.ম. মোফাখখারুল ইসলাম বলেন, শিক্ষকদের এই কর্মসূচি আমাদের সাথে না, এটা সরকারের কাছে শিক্ষদের বিভিন্ন দাবীতে তারা মানবন্ধন করছে। তবে বিষয়টা হলো একটি কর্মবিরতী চললে অবশ্যই শিক্ষার্থীরা ক্ষতিগ্রস্থ হবে, আর এখানে শিক্ষকরাই বা কতটুকু লাভবান হবে। অন্তর্বতী সরকারের কাছে একসাথে এতকিছু চাওয়া, একটি নির্বাচিত সরকার আসা পর্যন্ত তারা যদি ধৈর্য্য ধরতো তাহলে হতো। এখন দেখা যাক, সরকার কি সিদ্ধান্ত দেয়।’
রাজশাহীর শিক্ষকরা জানিয়েছেন, সরকারের পক্ষ থেকে দ্রুত সিদ্ধান্ত না এলে আন্দোলন আরও কঠোর হবে। ফলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে স্থবিরতা আরও গভীর হতে পারে।