শিবচরের প্রবাসী সবুজের অর্ধগলিত লাশ মরুভূমিতে; পরিবারের শোকের মাতম
শিবচর উপজেলা প্রতিনিধি
১৫-১০-২০২৫ দুপুর ১২:১১
শিবচরের প্রবাসী সবুজের অর্ধগলিত লাশ মরুভূমিতে; পরিবারের শোকের মাতম
শিবচর উপজেলার মানিকপুর এলাকার যুবক সবুজ মাতুব্বর(২৪) পরিবারের ভাগ্যের চাকা পরিবর্তনের আশায় গত ৮ মাস আগে সৌদি আরব যান।সবুজ কাদিরপুর ইউনিয়নের ৫ নং ওয়ার্ডের মানিকপুর এলাকার মেছেরমোল্লার গ্রামের আব্দুল জলিল মাতুব্বরের একমাত্র ছেলে।তিনি প্রথমে রিয়াদে পরে কাজের খোঁজে আল কাসিম এলাকায় বসবাস শুরু করেন।সেখানে পেয়ে যান কাজও।এতো অল্প সময়ের দিন ভালোই যাচ্ছিল তার।অনেক কষ্টে ভ্যান চালক বাবা ধার-দেনা করে টাকা জোগাড় করে পাঠিয়েছিলেন সৌদি আরব।আশা ছিল স্বচ্ছল জীবন-যাপন করবেন।পরিবারের সবার স্বপ্ন ছিল দেনা পরিশোধের পর বিদেশ থেকে পাঠানো টাকায় নতুন ঘর তুলবেন।তবে সেই স্বপ্ন নিমিষেই দুঃস্বপ্নে পরিণত হলো হঠাৎ করেই।
জানা যায়,গত মাসের ২৯ তারিখ বাংলাদেশ সময় রাত ৯ টার দিকে ছেলের সাথে কথা হয় বাবা জলিল মাতুব্বরের।গ্রামের বাড়িতে মিলাদ পড়ানোর জন্য টাকা পাঠানোর কথা বলে ফোন রাখেন।১ তারিখ সকালে টাকা পাঠানোর কথা ছিল।টাকা না আসায় ওই দিন দুপুরে ফোন দিলে ছেলের নম্বর বন্ধ পান।যোগাযোগ করার জন্য পরে আবার চেষ্টা করেন।অথচ নম্বর বন্ধই থাকে। এভাবে একদিন পার হবার পর উদ্বিগ্ন হয়ে উঠেন বাড়িতে থাকা বাবা-মা।এরপর সৌদিতে থাকা অন্যদের কাছ থেকে খবর পান ১ তারিখ সকালে বাসা থেকে বের হয়ে আর বাসায় ফেরেনি সবুজ।এদিকে খবর আসে গত সোমবার(১৩ অক্টোবর) আল কাসিম এলাকায় মরুভূমিতে বালু ও পাথর চাপা দেয়া এক লাশ খুঁজে পায় সৌদি পুলিশ।লাশটি সবুজের বলে ধারনা করে সেখানে থাকা অন্য বাঙালিরা।এ লাশের খবর বাড়িতে পৌছালে শোকের মাতম উঠে।
মঙ্গলবার(১৪ অক্টোবর) সন্ধ্যায় সরেজমিনে ওই বাড়িতে গিয়ে দেখা গেছে,প্রতিবেশীদের ভীড় বাড়ির আঙিনাজুড়ে। আত্মীয়-স্বজন খবর পেয়ে এসেছেন অনেকেই। উঠানে বিছানো মাদুরে নির্বাক চোখে বসে আছেন সবুজের বাবা-মা। কিছুক্ষণ পর পর কেঁদে উঠছেন তারা।কান্না ছুঁয়ে গেছে পাড়া-প্রতিবেশীদেরও।
জানতে চাইলে নিহতের বাবা জলিল মাতুব্বর বলেন,'বাড়িতে ১০ হাজার টাকা পাঠাইতে চাইছিল। আমার সাথে ওইটাই শেষ কথা। এতোদিন নিখোঁজ ছিল।গতকাল ওখানে লাশ পাইছে।সৌদি থেকে জানাইছে লাশ সবুজের! আমরা এখন কি করমু?'আমার ছেলের কাছে ৩ লাখ টাকা ছিল,আকামা করার জন্য।হয়তো টাকার জন্যই ওরা মেরে ফেলেছে।
নিহত সবুজের চাচা খোকন মাতুব্বর বলেন,'প্রায় ১৫ দিন ধরে নিখোঁজ। নিখোঁজের বিষয়টি সৌদি পুলিশকেও জানানো হয়।গতকাল সোমবার সবুজ যেখানে থাকতো তার কাছেই নির্জন মরুভূমিতে বালু আর পাথর চাপা লাশ পায় পুলিশ।লাশ পচে নষ্ট হয়ে গেছে। তবে সবুজ যে প্যান্ট ও গেঞ্জি গায়ে বাসা থেকে বের হয়েছিল,ওই পোশাক দেখে আশেপাশে থাকা পরিচিতরা বুঝতে পারে লাশটি সবুজের! আমার ভাই ভ্যান চালিয়ে কষ্ট করে উপার্জন করে।তার একটাই ছেলে।ঋণ করে টাকা জোগাড় করে সবুজকে সৌদি পাঠায়ছিল!'
প্রতিবেশী মান্নান ফকির বলেন,'পরিবারটি খুবই দরিদ্র।ভ্যান চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করে।এখন ছেলের মৃত্যুর খবরে ভেঙে পড়েছে। লাশ আনার টাকা-পয়সা নাই। যাওয়ার সময় ওর কাছে প্রথম আকামা করার টাকা ছিল।প্রায় তিন লাখ টাকা। ধারণা করা হচ্ছে টাকার জন্যই সবুজকে হত্যা করা হয়েছে। যাদের সাথে থাকতো হয়তো তারাই হয়তো এ ঘটনা ঘটিয়েছে।'
শিবচর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা(ইউএনও) এইচএম ইবনে মিজান বলেন,'আমরা পরিবারটির খোঁজ খবর নেবো।যতটুকু পারি ওই পরিবারটিকে সহযোগিতা করবো।'
শিবচর উপজেলা প্রতিনিধি
১৫-১০-২০২৫ দুপুর ১২:১১
শিবচর উপজেলার মানিকপুর এলাকার যুবক সবুজ মাতুব্বর(২৪) পরিবারের ভাগ্যের চাকা পরিবর্তনের আশায় গত ৮ মাস আগে সৌদি আরব যান।সবুজ কাদিরপুর ইউনিয়নের ৫ নং ওয়ার্ডের মানিকপুর এলাকার মেছেরমোল্লার গ্রামের আব্দুল জলিল মাতুব্বরের একমাত্র ছেলে।তিনি প্রথমে রিয়াদে পরে কাজের খোঁজে আল কাসিম এলাকায় বসবাস শুরু করেন।সেখানে পেয়ে যান কাজও।এতো অল্প সময়ের দিন ভালোই যাচ্ছিল তার।অনেক কষ্টে ভ্যান চালক বাবা ধার-দেনা করে টাকা জোগাড় করে পাঠিয়েছিলেন সৌদি আরব।আশা ছিল স্বচ্ছল জীবন-যাপন করবেন।পরিবারের সবার স্বপ্ন ছিল দেনা পরিশোধের পর বিদেশ থেকে পাঠানো টাকায় নতুন ঘর তুলবেন।তবে সেই স্বপ্ন নিমিষেই দুঃস্বপ্নে পরিণত হলো হঠাৎ করেই।
জানা যায়,গত মাসের ২৯ তারিখ বাংলাদেশ সময় রাত ৯ টার দিকে ছেলের সাথে কথা হয় বাবা জলিল মাতুব্বরের।গ্রামের বাড়িতে মিলাদ পড়ানোর জন্য টাকা পাঠানোর কথা বলে ফোন রাখেন।১ তারিখ সকালে টাকা পাঠানোর কথা ছিল।টাকা না আসায় ওই দিন দুপুরে ফোন দিলে ছেলের নম্বর বন্ধ পান।যোগাযোগ করার জন্য পরে আবার চেষ্টা করেন।অথচ নম্বর বন্ধই থাকে। এভাবে একদিন পার হবার পর উদ্বিগ্ন হয়ে উঠেন বাড়িতে থাকা বাবা-মা।এরপর সৌদিতে থাকা অন্যদের কাছ থেকে খবর পান ১ তারিখ সকালে বাসা থেকে বের হয়ে আর বাসায় ফেরেনি সবুজ।এদিকে খবর আসে গত সোমবার(১৩ অক্টোবর) আল কাসিম এলাকায় মরুভূমিতে বালু ও পাথর চাপা দেয়া এক লাশ খুঁজে পায় সৌদি পুলিশ।লাশটি সবুজের বলে ধারনা করে সেখানে থাকা অন্য বাঙালিরা।এ লাশের খবর বাড়িতে পৌছালে শোকের মাতম উঠে।
মঙ্গলবার(১৪ অক্টোবর) সন্ধ্যায় সরেজমিনে ওই বাড়িতে গিয়ে দেখা গেছে,প্রতিবেশীদের ভীড় বাড়ির আঙিনাজুড়ে। আত্মীয়-স্বজন খবর পেয়ে এসেছেন অনেকেই। উঠানে বিছানো মাদুরে নির্বাক চোখে বসে আছেন সবুজের বাবা-মা। কিছুক্ষণ পর পর কেঁদে উঠছেন তারা।কান্না ছুঁয়ে গেছে পাড়া-প্রতিবেশীদেরও।
জানতে চাইলে নিহতের বাবা জলিল মাতুব্বর বলেন,'বাড়িতে ১০ হাজার টাকা পাঠাইতে চাইছিল। আমার সাথে ওইটাই শেষ কথা। এতোদিন নিখোঁজ ছিল।গতকাল ওখানে লাশ পাইছে।সৌদি থেকে জানাইছে লাশ সবুজের! আমরা এখন কি করমু?'আমার ছেলের কাছে ৩ লাখ টাকা ছিল,আকামা করার জন্য।হয়তো টাকার জন্যই ওরা মেরে ফেলেছে।
নিহত সবুজের চাচা খোকন মাতুব্বর বলেন,'প্রায় ১৫ দিন ধরে নিখোঁজ। নিখোঁজের বিষয়টি সৌদি পুলিশকেও জানানো হয়।গতকাল সোমবার সবুজ যেখানে থাকতো তার কাছেই নির্জন মরুভূমিতে বালু আর পাথর চাপা লাশ পায় পুলিশ।লাশ পচে নষ্ট হয়ে গেছে। তবে সবুজ যে প্যান্ট ও গেঞ্জি গায়ে বাসা থেকে বের হয়েছিল,ওই পোশাক দেখে আশেপাশে থাকা পরিচিতরা বুঝতে পারে লাশটি সবুজের! আমার ভাই ভ্যান চালিয়ে কষ্ট করে উপার্জন করে।তার একটাই ছেলে।ঋণ করে টাকা জোগাড় করে সবুজকে সৌদি পাঠায়ছিল!'
প্রতিবেশী মান্নান ফকির বলেন,'পরিবারটি খুবই দরিদ্র।ভ্যান চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করে।এখন ছেলের মৃত্যুর খবরে ভেঙে পড়েছে। লাশ আনার টাকা-পয়সা নাই। যাওয়ার সময় ওর কাছে প্রথম আকামা করার টাকা ছিল।প্রায় তিন লাখ টাকা। ধারণা করা হচ্ছে টাকার জন্যই সবুজকে হত্যা করা হয়েছে। যাদের সাথে থাকতো হয়তো তারাই হয়তো এ ঘটনা ঘটিয়েছে।'
শিবচর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা(ইউএনও) এইচএম ইবনে মিজান বলেন,'আমরা পরিবারটির খোঁজ খবর নেবো।যতটুকু পারি ওই পরিবারটিকে সহযোগিতা করবো।'