287628
শিরোনামঃ
মধ্যপ্রাচ্যে ২৭টি মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের হামলা মোজতবা খামেনি হচ্ছেন ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা ইরানের সর্বোচ্চ নেতা খামেনি নিহত, ৪০ দিনের রাষ্ট্রীয় শোক মধ্যপ্রাচ্যের মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের পাল্টা হামলা মধ্যপ্রাচ্যের সব ফ্লাইট বন্ধ ঘোষণা ইসরাইলের হামলার জবাবে পাল্টা হামলা শুরু ইরানের ইরানে ইসরায়েলি বাহিনীর হামলা প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের সিনিয়র মেডিকেল অফিসার হিসেবে নিয়োগ পেলেন ডাক্তার শাহ মুহাম্মদ আমান উল্লাহ চলে গেলেন সদা হাস্যোজ্জ্বল বিএনপি নেতা মেহেদী হাসান মিন্টু কর্মকর্তাদের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার সঙ্গে কাজ করার আহ্বান নবনিযুক্ত স্বরাষ্ট্র মন্ত্রীর

চিকিৎসক সংকটে ভুগছে নড়াইল সদর হাসপাতাল

#
news image

নড়াইল জেলা সদর হাসপাতালে চলছে চরম চিকিৎসক সংকট। তার উপর জরাজীর্ণ অবকাঠামো ও সরঞ্জামের অভাবে একপ্রকার ধুঁকেই চলছে জেলার প্রধান স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র। আট লাখ মানুষের ভরসার এই ১০০ শয্যার হাসপাতাল এখন যেন ভোগান্তির প্রতীক।

হাসপাতালের বারান্দা, সিঁড়ি, এমনকি মেঝেতেও উপচে পড়া রোগীর ভিড়। বহির্বিভাগে লম্বা লাইনে দাঁড়িয়ে রোগীরা ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করছেন চিকিৎসকের দেখা পাওয়ার জন্য।‌ জরুরি বিভাগে কান্না, চিৎকার আর আর্তনাদের মধ্যে চলছে চিকিৎসাসেবা। ওয়ার্ডে জায়গা না পেয়ে অনেক রোগীকে রাখা হচ্ছে বারান্দায় বা মেঝেতে।

হাসপাতাল সূত্র জানায়, অনুমোদিত ৩৯টি চিকিৎসক পদের বিপরীতে বর্তমানে কর্মরত আছেন মাত্র ১৬ জন। সার্জারি, মেডিসিন, কার্ডিওলজি, চক্ষু, নাক-কান-গলা, চর্ম, যৌনরোগ, রেডিওলজি—প্রায় সব গুরুত্বপূর্ণ বিভাগের সিনিয়র কনসালটেন্ট পদ শূন্য। এমনকি প্যাথলজিস্ট ও রেডিওলজিস্টের মতো গুরুত্বপূর্ণ পদেও বছরের পর বছর ধরে কেউ নেই। চলছে ‘জোড়াতালির’ চিকিৎসা। 

হাসপাতালের অপারেশন থিয়েটারে গাইনী বিভাগের ওটি টেবিল দুটি অচল। ডায়াথার্মি, অ্যানেসথেসিয়া মেশিন, এমনকি ওটি লাইট পর্যন্ত নষ্ট হয়ে আছে। অটোক্লেভ মেশিন বিকল থাকায় জীবাণুমুক্ত সরঞ্জাম ব্যবস্থাও প্রশ্নবিদ্ধ। বাধ্য হয়ে জেনারেল ওটি থেকে ধার করা লাইট দিয়ে কাজ চালাতে হচ্ছে। দুইটি আলট্রাসনোগ্রাম মেশিন বহু বছর ধরে অকেজো, ফলে রোগীদের বেসরকারি ডায়াগনস্টিক সেন্টারেই নির্ভর করতে হচ্ছে—যার খরচ অনেকের জন্যই অতিরিক্ত বোঝা। রোগীর ভিড় নেই জায়গা, নেই পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা।

সদর উপজেলার হবখালী গ্রামের ৬৫ বছর বয়সী রাবেয়া খাতুন বলেন, সকাল থেকে লাইনে বসে আছি, এখনও ডাক্তার পাইনি।‌এত ভিড় যে মেঝেতে বসে থাকতে হচ্ছে, নিঃশ্বাস নিতে কষ্ট হয়। কালিয়া থেকে আসা রুবেল মিয়া বলেন, ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষার পরও চিকিৎসক দেখা যায় না। বলা হয়—ডাক্তার রাউন্ডে আছেন। সব মিলিয়ে হয়রানি ছাড়া কিছুই পাচ্ছি না।

আরেক রোগী সিমা খাতুন অভিযোগ করে বলেন, বাথরুমে ঢুকলেই বমি আসে। দুর্গন্ধ আর নোংরা পানির কারণে আরও অসুস্থ হয়ে পড়ি।” স্বজনদের কষ্ট আরও বড়। ভাদুলিডাঙ্গার বাসিন্দা সুজন বিশ্বাস বলেন, আমার মাকে বারান্দায় রেখে চিকিৎসা করাতে হচ্ছে। রাতে মশার কামড় আর দুর্গন্ধে ঘুমানোর উপায় নেই। সরকারি ওষুধও মিলছে না পর্যাপ্ত।

দিনমজুর জাহিদুল ইসলাম বলেন, সরকারি হাসপাতালে আসি খরচ কম হবে ভেবে, কিন্তু অর্ধেকের বেশি ওষুধই বাইরে থেকে কিনতে হয়। কর্তৃপক্ষের বক্তব্য,হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. আব্দুল গফ্ফার বলেন, “অর্ধেকেরও বেশি চিকিৎসক পদ শূন্য থাকায় বিশাল রোগীর চাপ সামলানো কঠিন হয়ে পড়েছে।

তারপরও আমাদের চিকিৎসক ও কর্মীরা সীমিত সম্পদে সর্বোচ্চ চেষ্টা করে যাচ্ছেন। সমাধান কবে? স্থানীয় সমাজসেবক আল-আমিন বলেন, নড়াইল সদর হাসপাতালের এ করুণ অবস্থার পেছনে বছরের পর বছর ধরে অবহেলা ও উদাসীনতাই দায়ী। দ্রুত চিকিৎসক নিয়োগ ও সরঞ্জামের ব্যবস্থা না করলে মানুষের ভোগান্তি আরও বাড়বে।

নড়াইল প্রতিনিধি

১৭-১০-২০২৫ বিকাল ৭:৩৮

news image

নড়াইল জেলা সদর হাসপাতালে চলছে চরম চিকিৎসক সংকট। তার উপর জরাজীর্ণ অবকাঠামো ও সরঞ্জামের অভাবে একপ্রকার ধুঁকেই চলছে জেলার প্রধান স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র। আট লাখ মানুষের ভরসার এই ১০০ শয্যার হাসপাতাল এখন যেন ভোগান্তির প্রতীক।

হাসপাতালের বারান্দা, সিঁড়ি, এমনকি মেঝেতেও উপচে পড়া রোগীর ভিড়। বহির্বিভাগে লম্বা লাইনে দাঁড়িয়ে রোগীরা ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করছেন চিকিৎসকের দেখা পাওয়ার জন্য।‌ জরুরি বিভাগে কান্না, চিৎকার আর আর্তনাদের মধ্যে চলছে চিকিৎসাসেবা। ওয়ার্ডে জায়গা না পেয়ে অনেক রোগীকে রাখা হচ্ছে বারান্দায় বা মেঝেতে।

হাসপাতাল সূত্র জানায়, অনুমোদিত ৩৯টি চিকিৎসক পদের বিপরীতে বর্তমানে কর্মরত আছেন মাত্র ১৬ জন। সার্জারি, মেডিসিন, কার্ডিওলজি, চক্ষু, নাক-কান-গলা, চর্ম, যৌনরোগ, রেডিওলজি—প্রায় সব গুরুত্বপূর্ণ বিভাগের সিনিয়র কনসালটেন্ট পদ শূন্য। এমনকি প্যাথলজিস্ট ও রেডিওলজিস্টের মতো গুরুত্বপূর্ণ পদেও বছরের পর বছর ধরে কেউ নেই। চলছে ‘জোড়াতালির’ চিকিৎসা। 

হাসপাতালের অপারেশন থিয়েটারে গাইনী বিভাগের ওটি টেবিল দুটি অচল। ডায়াথার্মি, অ্যানেসথেসিয়া মেশিন, এমনকি ওটি লাইট পর্যন্ত নষ্ট হয়ে আছে। অটোক্লেভ মেশিন বিকল থাকায় জীবাণুমুক্ত সরঞ্জাম ব্যবস্থাও প্রশ্নবিদ্ধ। বাধ্য হয়ে জেনারেল ওটি থেকে ধার করা লাইট দিয়ে কাজ চালাতে হচ্ছে। দুইটি আলট্রাসনোগ্রাম মেশিন বহু বছর ধরে অকেজো, ফলে রোগীদের বেসরকারি ডায়াগনস্টিক সেন্টারেই নির্ভর করতে হচ্ছে—যার খরচ অনেকের জন্যই অতিরিক্ত বোঝা। রোগীর ভিড় নেই জায়গা, নেই পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা।

সদর উপজেলার হবখালী গ্রামের ৬৫ বছর বয়সী রাবেয়া খাতুন বলেন, সকাল থেকে লাইনে বসে আছি, এখনও ডাক্তার পাইনি।‌এত ভিড় যে মেঝেতে বসে থাকতে হচ্ছে, নিঃশ্বাস নিতে কষ্ট হয়। কালিয়া থেকে আসা রুবেল মিয়া বলেন, ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষার পরও চিকিৎসক দেখা যায় না। বলা হয়—ডাক্তার রাউন্ডে আছেন। সব মিলিয়ে হয়রানি ছাড়া কিছুই পাচ্ছি না।

আরেক রোগী সিমা খাতুন অভিযোগ করে বলেন, বাথরুমে ঢুকলেই বমি আসে। দুর্গন্ধ আর নোংরা পানির কারণে আরও অসুস্থ হয়ে পড়ি।” স্বজনদের কষ্ট আরও বড়। ভাদুলিডাঙ্গার বাসিন্দা সুজন বিশ্বাস বলেন, আমার মাকে বারান্দায় রেখে চিকিৎসা করাতে হচ্ছে। রাতে মশার কামড় আর দুর্গন্ধে ঘুমানোর উপায় নেই। সরকারি ওষুধও মিলছে না পর্যাপ্ত।

দিনমজুর জাহিদুল ইসলাম বলেন, সরকারি হাসপাতালে আসি খরচ কম হবে ভেবে, কিন্তু অর্ধেকের বেশি ওষুধই বাইরে থেকে কিনতে হয়। কর্তৃপক্ষের বক্তব্য,হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. আব্দুল গফ্ফার বলেন, “অর্ধেকেরও বেশি চিকিৎসক পদ শূন্য থাকায় বিশাল রোগীর চাপ সামলানো কঠিন হয়ে পড়েছে।

তারপরও আমাদের চিকিৎসক ও কর্মীরা সীমিত সম্পদে সর্বোচ্চ চেষ্টা করে যাচ্ছেন। সমাধান কবে? স্থানীয় সমাজসেবক আল-আমিন বলেন, নড়াইল সদর হাসপাতালের এ করুণ অবস্থার পেছনে বছরের পর বছর ধরে অবহেলা ও উদাসীনতাই দায়ী। দ্রুত চিকিৎসক নিয়োগ ও সরঞ্জামের ব্যবস্থা না করলে মানুষের ভোগান্তি আরও বাড়বে।