বোরকাপরে বোমা বিস্ফোরণ ও হামলার অভিযোগ, গণপিটুনিতে নিহত ১
নিজস্ব প্রতিবেদক
২২-১০-২০২৬ বিকাল ৫:৩৯
বোরকাপরে বোমা বিস্ফোরণ ও হামলার অভিযোগ, গণপিটুনিতে নিহত ১
মাদারীপুরের কালকিনি উপজেলার কালিগঞ্জ বাজারে বোরকা পরে বোমা বিস্ফোরণ ঘটিয়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে হামলার অভিযোগ উঠেছে চার যুবকের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় স্থানীয়দের ধাওয়া ও মারধরে তাইজুল সরদার (২৬) নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। হামলায় আহত হয়েছেন আরও তিনজন। তাঁদের মধ্যে দুই ভাই মহাসিন ও জহির চৌকিদারের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) সকালে উপজেলার আলীনগর ইউনিয়নের কালিগঞ্জ বাজারে এ ঘটনা ঘটে। নিহত তাইজুল মাদারীপুর সদর উপজেলার কুলপদ্দি এলাকার রুস্তম সরদারের ছেলে। পুলিশ জানিয়েছে, তিনি আলীনগর ইউনিয়নের মানিক সরদার হত্যা মামলার আসামি ছিলেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সকালে কালিগঞ্জ বাজারে হানিফের চায়ের দোকানের সামনে একটি অটোরিকশা থেকে বোরকা পরা চার যুবক নামেন। এরপর তাঁরা পরপর তিনটি বোমার বিস্ফোরণ ঘটিয়ে সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান মিলন সরদার এবং মহাসিন ও জহির চৌকিদারের ওপর ধারালো অস্ত্র নিয়ে হামলা চালান। এতে উভয়ই গুরুতর আহত হন।
হামলার পর স্থানীয় লোকজন তাঁদের ধাওয়া করেন। এ সময় তিনজন পালিয়ে গেলেও তাইজুলকে আটক করে মারধর করা হয়। এতে তিনি গুরুতর আহত হন। পরে তাঁকে কালকিনি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স হয়ে মাদারীপুর সদর হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, আহত মহাসিন ও জহির চৌকিদার আপন দুই ভাই। তাঁদের শারীরিক অবস্থা গুরুতর হওয়ায় ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। বিশেষ করে জহিরের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।
ঘটনার বর্ণনা দিয়ে স্থানীয় দফাদার ও বাজার কমিটির সভাপতি ফিরোজ সরদার বলেন, “দোকানের সামনে চারজনকে বোরকা পরা অবস্থায় দেখে প্রথমে ভেবেছিলাম, তারা নারী ও ভিক্ষা করতে এসেছেন। অটোরিকশা থেকে নেমেই তারা তিনটি বোমা বিস্ফোরণ ঘটান। একটি বোমার বিস্ফোরণে প্রচুর ধোঁয়া সৃষ্টি হয়ে চারপাশ অন্ধকার হয়ে যায়। এরপর তারা জহিরকে কোপাতে শুরু করেন। মিলন চেয়ারম্যান তাকে রক্ষা করতে এগিয়ে গেলে তার শরীরেও রক্ত লাগে। পরে মহাসিনের ওপর হামলা চালানো হয়। স্থানীয়রা ধাওয়া করলে তিনজন পালিয়ে যায়। তাইজুলকে আটক করার পর মারধরে তিনি গুরুতর আহত হন।”
মাদারীপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) জাহাঙ্গীর আলম গণমাধ্যমকে জানান, বৃহস্পতিবার সকালে সাবেক চেয়ারম্যান মিলন সরদার তাঁর লোকজন নিয়ে কালিগঞ্জ বাজারের হানিফের চায়ের দোকানে বসে চা পান করছিলেন। এ সময় বোরকা পরা চারজন তাঁদের ওপর অতর্কিত হামলা চালান। হামলাকারীদের মধ্যে নিহত তাইজুল, সাইফুল ও আলামিন নামে তিনজনকে শনাক্ত করা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, মহাসিন ও জহিরের সঙ্গে তাইজুলের হাতাহাতি হয়। পরে তাইজুল পালানোর চেষ্টা করলে স্থানীয় লোকজন তাঁকে ধাওয়া করে আটক করেন এবং মারধর করেন। গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
পুলিশের এই কর্মকর্তা বলেন, প্রাথমিকভাবে ঘটনার পেছনে আধিপত্য বিস্তার ও পূর্বশত্রুতার বিষয়টি সামনে এসেছে। তবে এর সঙ্গে রাজনৈতিক কোনো সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যায়নি। তদন্ত শেষে এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য জানানো হবে।
নিজস্ব প্রতিবেদক
২২-১০-২০২৬ বিকাল ৫:৩৯
মাদারীপুরের কালকিনি উপজেলার কালিগঞ্জ বাজারে বোরকা পরে বোমা বিস্ফোরণ ঘটিয়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে হামলার অভিযোগ উঠেছে চার যুবকের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় স্থানীয়দের ধাওয়া ও মারধরে তাইজুল সরদার (২৬) নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। হামলায় আহত হয়েছেন আরও তিনজন। তাঁদের মধ্যে দুই ভাই মহাসিন ও জহির চৌকিদারের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) সকালে উপজেলার আলীনগর ইউনিয়নের কালিগঞ্জ বাজারে এ ঘটনা ঘটে। নিহত তাইজুল মাদারীপুর সদর উপজেলার কুলপদ্দি এলাকার রুস্তম সরদারের ছেলে। পুলিশ জানিয়েছে, তিনি আলীনগর ইউনিয়নের মানিক সরদার হত্যা মামলার আসামি ছিলেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সকালে কালিগঞ্জ বাজারে হানিফের চায়ের দোকানের সামনে একটি অটোরিকশা থেকে বোরকা পরা চার যুবক নামেন। এরপর তাঁরা পরপর তিনটি বোমার বিস্ফোরণ ঘটিয়ে সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান মিলন সরদার এবং মহাসিন ও জহির চৌকিদারের ওপর ধারালো অস্ত্র নিয়ে হামলা চালান। এতে উভয়ই গুরুতর আহত হন।
হামলার পর স্থানীয় লোকজন তাঁদের ধাওয়া করেন। এ সময় তিনজন পালিয়ে গেলেও তাইজুলকে আটক করে মারধর করা হয়। এতে তিনি গুরুতর আহত হন। পরে তাঁকে কালকিনি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স হয়ে মাদারীপুর সদর হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, আহত মহাসিন ও জহির চৌকিদার আপন দুই ভাই। তাঁদের শারীরিক অবস্থা গুরুতর হওয়ায় ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। বিশেষ করে জহিরের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।
ঘটনার বর্ণনা দিয়ে স্থানীয় দফাদার ও বাজার কমিটির সভাপতি ফিরোজ সরদার বলেন, “দোকানের সামনে চারজনকে বোরকা পরা অবস্থায় দেখে প্রথমে ভেবেছিলাম, তারা নারী ও ভিক্ষা করতে এসেছেন। অটোরিকশা থেকে নেমেই তারা তিনটি বোমা বিস্ফোরণ ঘটান। একটি বোমার বিস্ফোরণে প্রচুর ধোঁয়া সৃষ্টি হয়ে চারপাশ অন্ধকার হয়ে যায়। এরপর তারা জহিরকে কোপাতে শুরু করেন। মিলন চেয়ারম্যান তাকে রক্ষা করতে এগিয়ে গেলে তার শরীরেও রক্ত লাগে। পরে মহাসিনের ওপর হামলা চালানো হয়। স্থানীয়রা ধাওয়া করলে তিনজন পালিয়ে যায়। তাইজুলকে আটক করার পর মারধরে তিনি গুরুতর আহত হন।”
মাদারীপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) জাহাঙ্গীর আলম গণমাধ্যমকে জানান, বৃহস্পতিবার সকালে সাবেক চেয়ারম্যান মিলন সরদার তাঁর লোকজন নিয়ে কালিগঞ্জ বাজারের হানিফের চায়ের দোকানে বসে চা পান করছিলেন। এ সময় বোরকা পরা চারজন তাঁদের ওপর অতর্কিত হামলা চালান। হামলাকারীদের মধ্যে নিহত তাইজুল, সাইফুল ও আলামিন নামে তিনজনকে শনাক্ত করা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, মহাসিন ও জহিরের সঙ্গে তাইজুলের হাতাহাতি হয়। পরে তাইজুল পালানোর চেষ্টা করলে স্থানীয় লোকজন তাঁকে ধাওয়া করে আটক করেন এবং মারধর করেন। গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
পুলিশের এই কর্মকর্তা বলেন, প্রাথমিকভাবে ঘটনার পেছনে আধিপত্য বিস্তার ও পূর্বশত্রুতার বিষয়টি সামনে এসেছে। তবে এর সঙ্গে রাজনৈতিক কোনো সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যায়নি। তদন্ত শেষে এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য জানানো হবে।